শিরোনাম
◈ রাষ্ট্রপতিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে অভিসংশন করতে হবে, এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম ◈ পাসপোর্টের 'দালাল' নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে সমালোচনা কেন ◈ দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার ◈ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী যারা ◈ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবার পাঁচ কর্মকর্তা বদলি ◈ দেশে আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত ◈ আলমারি ভর্তি রুপি মিলল সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে ◈ আহসান এইচ মনসুরকে সরানো নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী ◈ বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন ঘিরে ইসির বিশেষ আদেশ ◈ এবার নগদে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যারিস্টার আরমান যা বললেন

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২০, ০৭:৫৯ সকাল
আপডেট : ২৮ এপ্রিল, ২০২০, ০৭:৫৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মানবজাতির এ সংকট কি অপ্রত্যাশিত ছিলো?

সামসুল ইসলাম : প্রায় দেড় মাস হতে চলছে বাসায় বসে আছি। ঢাকার করোনাভাইরাসের অন্যতম হটস্পট হিসেবে পরিচিত মিরপুরে আতঙ্কের মধ্যেই আছি। আশেপাশে করোনা রোগী। তাই রাস্তায় বের হওয়াটাও বিপজ্জনক মনে হয়। মেয়েরা বোরড হয়ে যাচ্ছে। বাসায় ঝামেলা করছে। ফ্ল্যাটে আর কতোদিন বন্দি থাকা যায়। আবার বাজার বা ঔষুধ কেনা বন্ধ নেই। কেউ হয়তো কিনে দিয়ে যায়। কিন্তু সেটাও তো বিপজ্জনক। ভাগ্য খারাপ হলে সেখান থেকেও কোনো ড্রপলেট শরীরে ঢুকতে পারে। কিন্তু এ অবস্থা কতোদিন? এ রোগের ওষুধ নাই। ভ্যাকসিন হতে সময় লাগবে। বছর দুই লাগতে পারে সবাই পেতে। তাও সবার শরীরে কার্যকর হবে কিনা তা ঠিক নেই।

বাসায় থেকে সবাই সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার বা মনোদৈহিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। এ অবস্থা বেশিদিন চললে আর করোনা দরকার হবে না, মানুষ এমনিতেই মরা শুরু করবে। চিন্তা করছিলাম যে মানবজাতির এ সংকট কি অপ্রত্যাশিত ছিলো? গত ১০০ বছরে সভ্যতা আমাদের কি দিয়েছে? দুটো বিশ্বযুদ্ধ, অসংখ্য যুদ্ধ, মৃত্যু, ভয়াবহ মরণাস্ত্র, সম্পদের বৈষম্য, চিকিৎসার নামে ব্যবসা ইত্যাদি। আমার কাছে প্রায়শই মনে হতো এই তথাকথিত সভ্যতার হয়ত খুব দ্রুতই পরিসমাপ্তি আছে। কিছু একটা ঘটবে। সেটা হতে পারে ভূমিকম্প বা বিশ্বযুদ্ধ বা অন্য কিছু।

সেক্যুলার মহলে আধ্যাত্মিকতার কথা বলা মানে নিজেকে হাস্যস্পদ করা। তবুও নিজের গরজ থেকে প্রাচ্যের মূল্যবোধ বা ধর্মের কথা মাঝেমাঝে লিখতাম। কিন্ত এগুলো কে আর শুনে বা পড়ে। পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থা, তাদের বস্তুবাদী দর্শন দেশে দেশে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করেছে। সমসাময়িক তাদের দার্শনিক, চিন্তাবিদ, লেখক যেমন পিটার সিঙ্গার, হারারি ইত্যাদির লেখা বা তাদের জীবনযাপন প্রণালী পড়লে আমি অবাকই হই। তারা মানব জাতিকে পথ দেখাবেন? করোনাভাইরাসের আক্রমণের পরে আমার মনে হচ্ছিলো মানুষ বোধ হয় আধ্যাত্মিকতায় ফিরে যাবে। মানবস্বভাব বা প্রকৃতিবিরুদ্ধ জীবন যাপন থেকে মুক্তির উপায় খুঁজবে। কিন্তু না। এতো বিপদে থেকেও তথাকথিত বিনোদনের চাহিদা মানুষের মিটেনি। আমাদের দেশেও মিডিয়া বিভিন্ন নায়ক, নায়িকা, মডেলকে আদর্শ মেনে তারা কীভাবে কোয়ারেন্টাইনে জীবনযাপন করছে, তার ছবি দেখাচ্ছে। তাদের চিন্তাভাবনা জীবন দর্শনকে সংক্রামিত করছে আতঙ্কিত, সাধারণ মানুষের মাঝে। অথচ আমরা খুঁজতে পারতাম এ সংকট এর আধ্যাত্মিক উত্তর।

কিন্তু আমরা মিডিয়ায় দেখছি স্বল্প পোশাকে বাসায় নায়ক, নায়িকাদের ছবি। জানছি যে সানি লিওনের বিয়ে পিছিয়েছে বা বলিউডের ভাইজান সালমান খান তিনজন নায়িকা নিয়ে কোনো ফার্ম হাউসে দিন কাটাচ্ছেন। দুঃখও হয় আফসোসও হয়। এ পরিবেশে নীতি নৈতিকতা আর ধর্মের কথা বলা মাঝে মাঝে অশ্লীলতাই মনে হয়। লিখতেও ইচ্ছে করে না। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়