শিরোনাম
◈ সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী ◈ বি‌পিএলের দুরাবস্থা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে  ◈ সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত, কোনটি কোথায় যাবে ◈ চীনা অর্থায়নে দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতুসহ ২০ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা ◈ আধুনিক প্রযুক্তির লড়াইয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রেকর্ড ভাঙল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ◈ ‘আমি মন্ত্রীর পিছে টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ◈ ব্রা‌জি‌লের বিরু‌দ্ধে মর‌ক্কো দ‌লের একাদশে ১১ জনই ছি‌লো জন্মসূত্রে বিদেশি, বিশ্বকাপে অনন্য কীর্তি ◈ অক্সফোর্ডে অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের স্লোগান, পাল্টা হাসনাত আবদুল্লাহর ‘মিডল ফিঙ্গার’ প্রদর্শন ◈ রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বেনজীরকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২০, ০৬:০০ সকাল
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২০, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুন্দর দিন আবার ফিরে আসবে, কিন্তু তখন আমরা যেন এই সময় ভুলে না যাই

ডা. সেলিম জাহান : প্রশ্নটা তিনি ঝট করেই করেছিলেন ‘করোনা সংকটের ইতিবাচক কোনো দিক আছে বলে তুমি মনে করো’? এটাই আমার বন্ধুটির স্বভাব আচমকা প্রশ্ন করে অন্যকে হতবুদ্ধি করে দেওয়া। ফোন করেছিলেন তিনি সকালবেলায় খোঁজ-খবর নিতে। কথা চলছিলো ভালোই মূলত করোনাকে নিয়ে। তার মধ্যেই ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো’ তার এই প্রশ্ন। নিজেকে সামলে নিতে একটু সময় লাগলো। তারপর শান্ত গলায় বললাম, ‘তা ধরো গে পাঁচটি ইতিবাচক দিক তো আছেই’। ‘পাঁচটি।’, এবার তার চমকানোর পালা। ‘তা বলো দিকিনি তোমার পঞ্চ কথা’Ñ তার কণ্ঠস্বরে সূক্ষ্ম পরিহাসের মীড়টি কানে লাগলো। ‘তাহলে শোনো’, খোলাসা করি তার কাছে। প্রথমত : করোনার কারণে একটা সংকট ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলেই আমরা সবাই সবার হাল-হকিকতের খোঁজ নিচ্ছি। কে কেমন আছি, কারও কিছু লাগবে কিনাÑ সব জানতে চাচ্ছি এবং কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি কিনা, তাও জিজ্ঞেস করছি। খবর ও তথ্যের আদান-প্রদান করছি এবং নানা বিষয়ে নানা মানুষকে সাবধানও করে দিচ্ছি। এমন সৌহার্দ্য, হৃদ্যতা, সংবেদনশীলতা ক’দিন আগেও এমনটা ছিলো না। বলা চলে করোনা সংকট ও আতঙ্ক আমাদের সামাজিক একাত্মতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত : পারিবারিক বন্ধনও তো আরও দৃঢ় হয়েছে করোনার কারণে। সবাই আটকা পড়ে আছি বাড়ির মধ্যে। করোনা প্রেক্ষিতে মা-বাবার ভঙ্গুরতার কারণে তাদের প্রতি অনেক বেশি যতœবান হচ্ছি, ভাইবোনদের নতুন করে চিনতে পারছি, শিশুদের দেখছি বড় মায়াময় চোখে। অদ্যাবধি যাপিত জীবনের ব্যস্ততাকে বিরতি দিয়ে পারিবারিক জীবনকে যেন নতুন চোখে দেখছিÑ শিশুদের সঙ্গে খেলছি, গল্প করছি পরিবারের নানা সদস্যদের সঙ্গে, ঘরবাড়ির আশপাশটাও নতুন করে দেখছি। বড় টান বোধ করছি প্রিয়জনদের প্রতি। তৃতীয়ত : ঘরের মধ্যে আটকাপড়ে অন্তত তিনটা ব্যাপারে আমাদের নতুন করে নানা উপলব্ধি হচ্ছে। এক. বাড়ির মেয়েরা কী পরিমাণ কাজ করেন ঘরে বাইরে। দুই. ঘরের কাজে যারা আমাদের সাহায্যকারী, আমাদের যাপিত জীবনের চাকা সচল রাখতে তাদের ভূমিকা যে কতো বড়। তিন. বহু বই বাড়িতে রয়ে গেছে বহুদিন পড়া হয়নি, বহু কথা মনে জমে আছে বহুদিন বলা হয়নি, বহু কাজ সামনে জমে আছে বহুদিন করা হয়নি। এখনোই হয়তো সময় সেগুলো সম্পন্ন করার।চতুর্থত : থমকে যাওয়া পৃথিবী, জীবন ও মানুষের কারণে কমে গেছে বায়ু ও শব্দ দূষণ। আকাশের দিকে তাকালে কি আরেকটু ঝকঝকে মনে হয় না, রাতে কি তারাদের আর একটু উজ্জ্বল দেখা যায় না, বাতাসটুকুকে কি আরেকটু নির্মল বোধ হয় না? মনে কি হয় না যে, নিস্তবদ্ধতারও একটি শব্দ আছে, যা বহুকাল শুনিনি?পঞ্চমত : করোনা সংকটে মানবজাতি নতুন করে তিনটা সত্যি হৃদয়ঙ্গম করতে পারলো। এক. মাতা ধরিত্রীর তুলনায় মানুষ খুবই ক্ষুদ্র, দুই. প্রকৃতির রোষের কাছে সে বড় অসহায়, তিন. প্রকৃতির কু এবং অপব্যবহার করলে সে কোনো না কোনোভাবে এর বদলা নেবেই। বহু মৃত্যু, বহু ক্ষতি, বহু দুঃস্বপ্নের স্মৃতি পেরিয়ে কোনো একদিন এ সংকট কেটে যাবে। সুন্দর দিন আবার ফিরে আসবে। কিন্তু তখন আমরা যেন এই সময় ভুলে না যায়, বিস্মৃত না হই বর্তমান সংকটের শিক্ষা না ভুলে যাই। কিন্তু এ মুহূর্তে শুধু বলি মানুষ, ন¤্র হও, নত হও প্রকৃতির কাছে, নমিত হও মাতা ধরিত্রীর কাছে। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়