প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তে ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষা জরুরি

ডেস্ক রিপোর্ট : [২]  নইলে যে কোনও মুহূর্তে এ ভাইরাসটির ব্যাপকতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বারবার তাগিদ দিয়ে বলছে, সব দেশের প্রতি আমাদের উপদেশ, পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা’। মানে করোনা আক্রান্ত হিসেবে কাউকে সন্দেহ হলে প্রথম কাজ হলো পরীক্ষা করানো । ইত্তেফাক, প্রিয়ডটকম

[৩] ডব্লিউএইচও কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেনি। তবে এ বার্তা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। দেশের জনঘনত্ব ও জীবনযাপনের ধরন বিবেচনায়, অনেক বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

[৪] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলার মূল পথ হচ্ছে সংক্রমণ শনাক্ত করা। সংক্রমিতদের বিচ্ছিন্ন করা এবং সংক্রমিতরা যাদের সংস্পর্শে এসেছে, তাদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা।

[৫] দেশে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার একক ও একমাত্র কর্তৃত্ব রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। ১৭ কোটি লোকের এ দেশে কারও কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা গেলে এ প্রতিষ্ঠানের দেয়া কিছু ফোন নম্বরে ফোন করতে হয়। তাদেরকে কিছু প্রশ্ন কারার পর, সন্তোষজনক জবাব পেলে পরীক্ষা করা হয়।

[৬] অতি সম্প্রতি বিদেশে থেকে দেশে ফিরেছে প্রায় ৭ লাখ মানুষ। কিন্তু পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৮ জনের। দেশে ফেরা ওই ৭ লাখ মানুষ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা কতো লাখ মানুষের সংস্পর্শে গেছেন, তার কোনও হিসাব নেই। এ কারণে সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে।

[৭] ঢাকায় আন্তর্জাতিকমানের ১টি হাসপাতালসহ ২টি হাসপাতালের চিকিত্সক ও স্বাস্থ্য কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরা বিদেশফেরত নয়, আবার বিদেশফেরতদের সংস্পর্শেও যাননি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ জানান, অজ্ঞাত কোনো মানুষ যদি করোনা বহন করে সবার সঙ্গে চলাফেরা ও মেলামেশা করে, তাহলে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে দেশ রক্ষা পাবে, ডাক্তার-নার্স রক্ষা পাবেন, জনগণ রক্ষা পাবে। ডা. আজাদ বলেন, পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি থাকলেও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে। তবে এখন যন্ত্রপাতি দেয়া হচ্ছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে দ্রুত করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু করা হবে।

[৮] কারো মধ্যে লক্ষণ দেখা গেলেই তাকে পরীক্ষা করতে হবে এবং নিশ্চিত হতে হবে তিনি সংক্রমিত কি না। এটাই এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকানোর পথ। কারণ, তখনই তাকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে, তার সংস্পর্শে আসা লোকজনকে কোয়ারেন্টাইন করা যাবে। এ কারণে বিলম্বে হলেও শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) দু-একদিনের মধ্যে করোনা শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হবে। আইইডিসিআরে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

[৯] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঢাকার বাইরেও শনাক্তকরণ পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকার মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে শুরু হবে। এরমধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী যেতে পারবে না, শুধু নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করা যাবে। আর ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরি, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরুর কাজ চলছে। এদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের অনেকেরই আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে মাত্র দুই শতাধিক আইসিইউ বেড রয়েছে। এই বেডগুলো অপারেশন কিংবা সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য। কিন্তু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য যে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ প্রয়োজন, সেটা এই আইসিইউ দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, আরো ৩০০ বেডের আইসিইউ প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস দেশে আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলে দুঃচিন্তামুক্ত থাকার সুযোগ নেই। কারণ এই ভাইরাসটি হঠাত্ লাফিয়ে বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিতেও একই অবস্থা ছিল। প্রথমে অল্প সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হন।

[১০]বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোভিড-১৯-এর রোগীদের চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত চিকিত্সক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের পরিধান করতে হবে বিশেষ পার্সোনাল প্র টেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই)। চিকিত্সক, রোগীর কক্ষে থাকা স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টসহ প্রতিটি স্তরের পেশাজীবীদের জন্য পৃথক পৃথক পিপিইর কথা বলা হয়েছে। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু পর থেকে একাধিক ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন পিপিই তৈরি করছে। কেউ করছে বাণিজ্যিক কারণে, কেউবা আবার স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করার জন্য। কিন্তু, ?বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড, আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড এবং সাম্প্রতিক সময়ে চীনেও একটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা হয়েছে। এ তিন স্ট্যান্ডার্ডের ক্রাইটেরিয়া পূর্ণ হলেই কেবলমাত্র একটি পারফেক্ট পিপিই তৈরি করা সম্ভব।

[১১] স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে এ বিষয়ে লজিস্টিক সাপোর্ট বিষয়ক কমিটি করেছে। কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, বিভিন্ন জন পিপিইর অনুমোদন চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করছে, কিন্তু যথাযথ স্ট্যান্ডার্ড না মানা হলে আমরা অনুমোদন দিতে পারি না। সম্প্রতি চীন থেকে আন্তর্জাতিক মানের ১০ হাজার পিপিই দেশে এসেছে। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত