প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদের ছুটির মতো বাড়ি ফিরছে সবাই জানি না কতোজন করোনা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে

সুমন্ত আসলাম : তিনদিন হলো কোয়ারেন্টাইনে আছি। অফিসের মতো নিয়ম করে লেখার টেবিলে বসি ৩টায়, খোলা ল্যাপটপ, খোলা অনলাইন। অফিস থেকে মেইলে নিউজ পাঠায়। এডিট করে তা পাঠিয়ে দিই আবার অফিসের মেইলে। অল্প কয়জন ভাগ্যবানের মতো এই সুযোগটা আমিও পেয়েছি। ধন্যবাদ সম্পাদক মুস্তাফিজ শফিকে। সকালে বিবিসি দেখছিলাম টিভিতে। বাসায় বসে এক ভদ্রলোক রিপোর্ট করছেন বিবিসিতে। ক্যামেরা অন। হঠাৎ তার চার এবং পাঁচ বছরের দুটো বাচ্চা এসে উপস্থিত। বাবার কাঁধে হামলে পড়ে বাবার মুখ ধরছে, মাথা ধরছে, কোলে বসছে। ক্যামেরা চালুই আছে। তার মা এসে দ্রুত বাচ্চা দুটোকে টেনে নিয়ে যান আড়ালের রুমে। কিন্তু বাচ্চা দুটো আবার ফিরে আসে। শেষে পুরো পরিবার মানে চারজনের একটা সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয় বিবিসিতে। বেশ ভালো লাগলো।
২. আমরা যারা পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনই সার্ভিস করি, তাদের জন্য ছুটির দিনটা স্বর্গের মতো। সময় সোনার হরিণ, দুর্লভ। আমার স্ত্রীর কলেজ ছুটি, মেয়ের স্কুল ছুটি। বাসায় বসে অফিস করছি দায়িত্বশীলের মতো। এই দুঃসময়েও একটু ভালো লাগছে। পরিবারকে সময় দিতে পারছি, যা কয়েক বছরে তেমন পরিনি। আমাদের বিল্ডিংয়ের গ্যারেজটা বেশ বড়। সকালে হাঁটি সেখানে, ব্যায়াম করি। তিনদিন পর আজ গিয়েছিলাম গ্যারেজে। হাঁটছি। হঠাৎ একটা চিৎকার। গেটের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাই। এক রিকশাওয়াকে ধমকাচ্ছেন এক ভদ্রলোক, ‘যাবে না কেন, তুমি’? ভাবলাম, রিকশা কম রাস্তায়। ভদ্রলোকেরও তাড়া আছে। তাই ধমকাচ্ছেন।
রিকশাওয়ালা বেশ গম্বীর হয়ে বললেন, ‘আপনার মুখে মাক্স (মাস্ক) নেই, আমি আপনারে আমার রিকশায় নিমু না’। নিজের মুখের মাস্কটা ভালো করে আরও একটু টেনে চলে গেলেন রিকশাওয়ালা। অজান্তে নিজের মুখের মাস্কটাও আরও একটু ঠিকঠাক করে নিলাম আমি। ৩. যারা বলেন, আমরা বাঙালিরা অনেক কিছু শিখি না। ভুল। যাদের শেখার কথা, তারা শেখে না। যাদের কথা নয়, তারা শেখে। না হলে টাঙ্গাইলে রোডে এই ফাঁকা রাস্তায় ২০ কিলোমিটার জ্যাম হয় আজ। ঈদের ছুটির মতো বাড়ি ফিরছে সবাই। জানি না কতোজন সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। দুঃখিত ভয়াবহ আতঙ্ক জাগানো ওই শব্দটা লিখতে ইচ্ছা করছে না আমার। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত