প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকালের দিনযাপন

আরিফ জেবতিক : আমি একজন গুজব ও হুজুগ প্রুফ মানুষ। মাসখানেক আগে যখন দুনিয়ার অন্য অঞ্চলে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলো তখনই আমার প্রবাসী আত্মীয়-স্বজন ‘যতো পারো মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এগুলো স্টক করো’ বলে শোরগোল তুললেও আমি গা লাগাইনি। একবার অবশ্য ভেবেছিলাম যে মিটফোর্ডে গিয়ে কয়েক বক্স মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাইকারি দামে কিনে রাখবো, কারণ দেশে একজন রোগী পাওয়া গেলেই বাজার থেকে এসব একরাতেই খালি হয়ে যাবে, সেই আশঙ্কা আমার ছিলো। সে ক্ষেত্রে এই মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার পরের কয়েক মাস প্রভাবশালীদের গিফট পাঠিয়ে কিছু কার্যোদ্ধার করা যেতো। ক্যাশ ঘুষ থেকে মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার এই কয়েকমাস বেশি কাজে লাগবে। কিন্তু সর্বতো আলস্যে আমি সে পথ মাড়াইনি। সম্প্রতি বের হলাম তামাশা দেখতে। মাঠেঘাটে, ময়দানে, হাটেবাজারে, ফুটপাথে মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জন্য আহাজারি। লোকজন বাজার খালি করে ফেলছে। দেখতেই অদ্ভুত লাগছে। মনে হচ্ছে সাইরেন বেজেছে, বোমারু বিমান উড়ে আসছেÑ চারদিকে যুদ্ধাবস্থা। করোনাভাইরাসের সঙ্গে টিস্যু বক্সের কি সম্পর্ক আমি শিওর নই। কিন্তু লোকজন আর কিছু না পেয়ে বাক্সের পর বাক্স টিস্যু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। টিস্যু খেলে করোনাভাইরাস সারে এমন তথ্য আমি কোথাও দেখিনি।
সম্প্রতি রূপগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়েছিলাম একটা জমি রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত কাজে। সেখানে দেখলাম মাস্ক নয়, ক্যাপের ছড়াছড়ি। টিস্যু কাগজের সবুজ রঙের যে ক্যাপ সাধারণত রান্নাঘরে শেফরা ব্যবহার করে চুল ঢাকে, সেই ক্যাপ পরে রেজিস্ট্রি অফিসে সবাই হাঁটাহাঁটি করছে। তাদের বোধহয় কেউ বলেছে যে চুল দিয়ে করোনা ঢুকে পড়বে। অবশ্য রেজিস্ট্রার সাহেব এবং তার সহকারী শুধু মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকেছেন, তাদের চুলে কোনো ক্যাপ নেই। তবে সবচাইতে মজা পেয়েছি বাজারে এক ভদ্রলোককে দেখে। সেই লোক ট্রলি ভর্তি করে চাইনিজ কাপ নুডুলস কিনে ফেলেছে। স্টোরের পুরো তাকের চাইনিজ কাপ নুডুলস তার ট্রলিতে। আমি বললাম, ‘ভাই এ সব বাদ দিয়ে একমণ আলু কিনেন। আলু সিদ্ধ করে খেয়ে কয়েকমাস আরামে চালাতে পারবেন। বাঙালি পেটে এতো কাপ নুডুলস সহ্য হবে না’।
সেই লোক আমার দিকে আলুর মতো গোলগোল করে তাকিয়ে থাকলো। সে বোধহয় ভাবছে, ‘আলুর মতো দেশি জিনিস খেয়ে কি আর করোনা সারবে? এই গাধা বলে কী’। আমি দু’খানা গামছা কিনেছি, আর ৪ কেজি আলু। গামছা একটি সার্বজনীন কাপড়। টিস্যুর কাজও করবে আবার মাস্কের কাজও করবে। আর আলু হচ্ছে আপতকালীন খাবার, যদি বাজারে একেবারেই সব খাবার উধাও হয়ে যায়, তাহলে আলু সিদ্ধ খেয়ে কয়েকদিন চলা যাবে। কাপড় ধোয়ার গোল্লা সাবানের দাম বাড়েনি, কিছু সাবান কিনে রেখেছি হাত ধোয়ার জন্য। স্থানীয় প্রযুক্তি দিয়ে করোনা মোকাবেলার একটা অ্যাপ্রোচ নিলাম আর কি। আমার এক বুটিক ব্যবসায়ী বন্ধুকে পরামর্শ দিয়েছি এমব্রয়ডারি করা হরেক রঙের মাস্ক বানাতে। সেলোয়ার কামিজের সঙ্গে ম্যাচিং করে মাস্ক বানালে সেটি অনলাইন স্টোরে চলার কথা। দেখি কথা শুনে কিনা। আপাতত বিয়েশাদীর দাওয়াত এবং অন্যান্য পাবলিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিজনের শেষ কিছু বিয়েশাদী ছিলো এই মাসে, কাচ্চির জন্য মনটা একটু খারাপ লাগছে, এই আর কি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত