প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পুলিশকে পাপিয়ার হুমকি, বেশি চাপাচাপি করলে সব ফাঁস করে দেব

মাজহারুল ইসলাম : [২] যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ থাইল্যান্ডসহ ৪ দেশে ৩’শ কোটি টাকা পাচার করেছেন। তার ওমেনাইজিং বিজনেসের সঙ্গে জড়িত ১৭’শ সুন্দরী নারীকে ব্যবহার করে পৌঁছে যান ক্ষমতার শীর্ষস্থানীয়দের কাছে। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করছেন পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীসহ অন্যরা। তবে গোয়েন্দা পুলিশকে হুমকিও দিয়েছেন পাপিয়া। তিনি বলেন, বেশি চাপাচাপি করবেন না। যুগান্তর, ইনকিলাব ও নয়াদিগন্ত

[৩] জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া স্বীকার করেন, নিজস্ব ক্যাডারবাহিনী কিউ অ্যান্ড সি’র সদস্যদের দিয়ে মাফিয়া প্রধান হয়ে যান তিনি। কিউ অ্যান্ড সি’র সদস্যরা মাদক ব্যবসা, চাঁদা তোলা, মাসোহারা আদায়, জিম্মি করে টাকা আদায়, অনৈতিক কাজ করানো এবং জমি দখলের মাধ্যমে আনা বিপুল পরিমাণ টাকা তার হাতে তুলে দিতেন।
[৪] মাস্তি করতেন পাঁচতারকা হোটেলে বসে। সেখানেও কম বয়সী তরুণীদের জোর করে ধরে এনে ক্ষমতাবানদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করতেন। সুন্দরীদের ভ্যানিটি ব্যাগ কিংবা অন্যান্য সামগ্রীতে পাপিয়া কৌশলে লাগিয়ে দিতেন অত্যাধুনিক ডিভাইস। সেই সব ডিভাইসে ধারণকৃত মনোরঞ্জনের দৃশ্যগুলো কাজে লাগিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন।
[৫] পাপিয়া আরও জানান, ৬৪ জেলায়ই ছিলো তার নেটওয়ার্ক। তিনি ভেবেছিলেন, ওপরে ওঠার সহজ সিঁড়িই হবে দেহ ব্যবসা।
[৬] বাংলাদেশ স্কট সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি অনলাইন গ্রুপের যাত্রা শুরু হয় তার হাত ধরে। ওই স্কট সার্ভিস থেকেই অভিজাতদের কাছে নারী সরবরাহ করা হতো।
[৭] প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার অনেক শীর্ষ ব্যক্তির বিচরণ ছিলো পাপিয়ার রাজ্যে। সুন্দরীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে পাপিয়া বাগিয়ে নিতেন বড় বড় টেন্ডার।
[৮] জানা গেছে, সব ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে পাপিয়া বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে ১০ কোটি টাকার ওপর খরচ করেছি। নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেতে খরচ করেছি প্রায় ৪ কোটি টাকা । তবে দলীয় পদ পেলেও এমপি মনোনয়ন পাইনি।
[৯] তিনি আরও বলেন, মনোনয়নের ব্যাপারে যারা টাকা নিয়েছিলেন, তারা টাকা ফেরত দেননি। আমার বিরুদ্ধে প্রতারণার যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতারণার শিকার হয়েছি আমি নিজেই। তাই পরবর্তী সময়ে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছি।
[১০] জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া এমন কয়েকজনের নাম বললেও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তা প্রকাশ করতে রাজি হননি।
[১১] পাঁচ তারকা হোটেলের বাইরে তার আরেকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে ডিবি। রাজধানীর ফার্মগেটের ২৮ ইন্দিরা রোডে বহুতল ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন পাপিয়া। মাসে অর্ধলক্ষাধিক টাকা ভাড়ার ওই ফ্ল্যাটে আমোদ ফুর্তির আসর বসতো। সেখানে অনেক নেতা ও আমলা আসতেন।
[১২] ওই ভবনটির কেয়ারটেকার পুলিশকে জানায়, মাঝেমধ্যে রাত ১২টা থেকে ১টার দিকে ৭ থেকে ৮জন নারী নিয়ে ফ্ল্যাটটিতে আসতেন পাপিয়া। রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকতেন।
[২১] গত ২২ ফেব্রæয়ারি অর্থপাচার, বিদেশি জাল মুদ্রা সংরক্ষণ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে র‌্যাব-১ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্বামী ও দুই সহযোগীসহ পাপিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত