প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্লাস্টিকের পানির বোতলের বিকল্প কিছু চিন্তা করতে হবে নতুন দুই মেয়রকে, না হলে প্লাস্টিক বোতল অচল করে দেবে ঢাকা মহানগরকে

মির্জা ইয়াহিয়া : ঢাকা সিটি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় প্লাস্টিকে মোড়ানো পোস্টার ব্যবহৃত হয়েছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অনেক কথা হয়েছে। এই ক্ষতি পাঁচ বছরে একবার হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এখন প্লাস্টিকের পানির বোতল। ঢাকা শহর শুধু নয়, দেশের প্রত্যন্ত কোনো পর্যটন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে এই বোতল। নদী, সমুদ্র, বনÑ যেখানেই আমরা ঘুরতে যাই পানি পান করে প্লাস্টিক বোতল ফেলে চলে আসি। আর ঢাকা শহর তো বোতলের এই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। কিন্তু নব্বই দশকের মাঝামাঝি প্লাস্টিকের পানির বোতল যখন বাজারে আসতে থাকে, আমরা অনেকেই নাক সিঁটকাতাম। কারণ বোতলের পানি কিনে খাওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে ছিলো বড় এক ধাক্কা। তখনো আমি কাঁচের বোতলে করে বাসা থেকে পানি নিয়ে আসতাম। অথচ সেই আমি অফিসে মিনারেল ওয়াটারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখনকার মতো সব শ্রেণির কাছে যে বোতলজাত পানি পৌঁছে যাবে, সবাই কিনে খাবেÑ তা আমরা কল্পনাও করিনি। হয়তো বিশেষজ্ঞরাও ভাবতে পারেননি। তাই এই প্লাস্টিক বোতল আমাদের জন্য বিপদের কারণ। আমরা সবাই জানি, প্লাস্টিক পচনশীল নয়, এই কারণে পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর। সরকার তাই পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে। এখন প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। কারণ এটা থাকলে ঢাকা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। আবার দেশের নদী, নালা, সমুদ্র, দ্বীপ, চরÑ সব কিছু বিনষ্ট হবে।

আশার কথা হচ্ছে প্লাস্টিকের বোতলের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কথা হচ্ছে। পরিবেশবাদীরাও সোচ্চার হচ্ছেন। তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠেও নেমেছে। তাদের একাংশের উদ্যোগেই এই ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবস সামনে রেখে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে সারাদেশে থেকে পরিত্যক্ত ৩০ লাখ প্লাস্টিক বোতল এনে জড়ো করা হয়। তারা এগুলো যত্রতত্র না ফেলে রিসাইক্লিংয়ের উপর জোর দিয়েছে। তবে এভাবেও সমাধান পাওয়া যাবে না। কারণ আমরা দেখছি, চীন আর প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানি করছে না। এ বিষয়ে প্লাস্টিক বর্জ্যরে বড় বাজার মালয়েশিয়াও নতুন করে আপত্তি তুলেছে। তাই আমাদের প্লাস্টিকের পানির বোতলের বিকল্প কিছু চিন্তা করতে হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নতুন দুই মেয়রকেও এ বিষয়ে ভাবতে হবে। না হলে প্লাস্টিক বোতল অচল করে দেবে ঢাকা মহানগরকে। প্রিয় শহরের এই পরিণতি আমরা নিশ্চয়ই চাই না। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত