প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩৩ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মেয়ে মুন্নি খাতুনকে ফিরে পেলেন মা

সিরাজুল ইসলাম : সাত বছর বয়সে নানার হাত ধরে যে গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে মুন্নি হারিয়ে গিয়েছিল, কাকতালীয়ভাবে সে গ্রামেই আরেক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে তার মা খুঁজে পেলেন তাকে।

জানা গেছে, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের মনছের আলী ও নাজমা বেগমের মেয়ে মুন্নি খাতুন। হারানোর সময় মুন্নি খাতুন ছিলেন তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান। এখন সেন্টু ও শামীম নামে তার আরও দুই ভাই রয়েছে। বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। ১৯৮৬ সালে লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর মিলকিপাড়ায় নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায় মুন্নি।

১৯৮৬ সালে লালপুরে মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি বেড়াতে আসে মুন্নি। একদিন নানার হাত ধরে পাশের গ্রামের এক বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে হারিয়ে যায় সে। পরে আব্দুলপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে উঠে পড়ে। কান্নাকাটি শুরু করলে যাত্রীরা বুঝতে পারে শিশুটি তার মা-বাবাকে হারিয়েছে। রেলকর্মীরা আজিমনগর (সাবেক গোপালপুর) স্টেশনে তাকে নামিয়ে দেন। সেখানে মুন্নি কাঁদতে কাঁদতে গোপালপুর স্কুলের বারান্দায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। তাকে কাঁদতে দেখে স্থানীয়রা নিয়ে যায় গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাধুর কাছে। তখন থেকেই চেয়ারম্যানের বাড়িতে আশ্রয় পায় মুন্নি। চেয়ারম্যান মুন্নির নাম বদলে রাখেন আছিয়া। বড় হলে মুন্নিকে প্রতিবেশী বাহার উদ্দিনের ছেলে সোনালী ব্যাংকে কর্মরত আমিরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেন চেয়ারম্যান। বর্তমানে মুন্নির দুই ছেলে সাজেদুল ইসলাম সাজু এবং রাজীবুল ইসলাম।

অন্যদিকে সেদিন থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মুন্নির কোনো সন্ধান পায়নি তার পরিবার। গত সপ্তাহে মুন্নি তার এক প্রতিবেশীর বিয়ের অনুষ্ঠানে সেই মিলকিপাড়া গ্রামে যান। একই সময় ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই ছেলেকে নিয়ে আসেন মুন্নির মা নাজমা বেগম। অনুষ্ঠানে এসে স্মৃতিকাতর নাজমা বেগম এই গ্রামে ৩৩ বছর আগে তার মেয়ে হারানোর গল্প বললে স্থানীয়রা জানায়, প্রয়াত চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন সাধুর বাড়িতে একটি মেয়ে পালিত হয়েছে। বিষয়টি জেনে নাজমা ওই বাড়িতে ছুটে যান। মুন্নিকে ভালোভাবে পরখ করে চোখের পাতার নিচে তিল ও হাতে পোড়া দাগ দেখে নাড়িছেঁড়া ধনকে শনাক্ত করেন। এ সময় মা-মেয়ের মিলনের কান্নায় সবার চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে মুন্নির দুই ভাই শুক্রবার তাদের বোন-ভগ্নিপতি ও ভাগ্নেদের নিয়ে আসেন তাদের বাড়িতে। ফিরে পাওয়া মুন্নিকে দেখতে বাগাতিপাড়ার সালাইনগরের বাড়িতে ভিড় জমায় প্রতিবেশীরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুন্নি বলেন, আমার পরিবারকে ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। একটাই দুঃখ থেকে গেল, বাবা আজ বেঁচে নেই। বাবা আমাকে দেখতে পারলেন না। বাবার মুখটা দেখা হলো না।

মুন্নির মা নাজমা বেগম বলেন, মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে ছিল আমার মেয়ে। এত কাছে থেকেও দেখা হয়নি আমাদের। মেয়েকে পেয়ে আমি অনেক খুশি। মেয়ে-জামাই-নাতিদের পেয়ে আনন্দে ঘরটা ভরে উঠেছে।

মুন্নির স্বামী আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী তার পরিবারের সন্ধান না পেয়ে অনেক কষ্টে ছিল। তার অপেক্ষার অবসান হয়েছে। তার চোখেমুখে আনন্দ দেখে আমি অনেক খুশি।

মুন্নির আশ্রয়দাতা চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাধুর ছেলে সাইফুল ইসলাম রানা বলেন, বাবা ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে আমাদের বাড়িতে আনেন আছিয়াকে। একসঙ্গে বড় হয়েছি আমরা। আছিয়া তার মা-ভাইদের খুঁজে পাওয়ায় আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। আজ বাবা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন।সূত্র: সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত