প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিরিয়াল কিলার চার্লস শোভরাজের জীবন যেন একটা সাইকোড্রামা

দেবদুলাল মুন্না : নেপালের ধনী পরিবারের মেয়ে নিহিতা বিশ্বাসকে বিয়ে করেছিলেন চার্লস শোভরাজ। সংসার ভেঙ্গে যায় দাম্পত্য অশান্তিতে। এরপর তিনি পশ্চিমা নারীদের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে আর্থিকভাবে লাভবান হতেন এবং একসময় প্রেমিকাকে খুন করে ফেলতেন।

একবছরে ২১ জনের বেশি নারীকে খুন করে সিরিয়াল কিলার হন চার্লস শোভরাজ। তিনি আসামীর কাঠগড়ায় বলেছিলেন, ‘আমি গরিব ছিলাম বলে অনেক অপমানিত হয়েছি কিন্তু দেখতে সুন্দর ছিলাম। আর দর্শনশাস্ত্র ও মনোবিদ্যা বেশি করে পড়েছিলাম। ফলে নারীর মন বুঝতে সাইকো-এনালাইসিস করতাম। আর দর্শনের ‘নিহিলিজম’ আমাকে অপরাধ করতে বাধা দিতো না।আর কেন জানি নারীরা আমার কথায় পটে যেতো দ্রুত। প্রেমে ফেলার এক অদ্ভুত সম্মোহনী ক্ষমতা ছিলো আমার। ভালোও লাগতো। ফের একঘেয়েও লাগতো।’

এসব তথ্য জানান তার জীবনীকার ডেভিড রবিনসন। সিরিয়াল কিলার শোভরাজের জীবনী নিয়ে মুভি হয়েছে। ২০১৫ সালে রনদীপ হুদা তৈরি করেন হিন্দী মুভি ‘ম্যা আউর চার্লস।’এছাড়া হলিউডে হয়েছে ‘বিকিনি কিলার।’

কেন তাকে নিয়ে সে সময় মুভি হবে না ? এ প্রশ্নের জবাবে বলিউডের সেসময়কার সুপাডুপার হিরো দেবানন্দ আউটলুককে এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, ‘ সে ছিলো যেন রাসপুতিন।চলছিল তখন হিপি কালচার।মারিজুয়ানার নেশা। দম মারো দমের যুগ। সেসময়েই এরকম একজন এন্টিহিরোকে কেন বেছে নেবে না স্ক্রিপ্ট? তার জীবনে তো প্রথম বিরহই তাকে নষ্ট করেছিল।’

১৯৭৫৷ পশ্চিম থেকে তরুণতরুণীরা দলে দলে পাড়ি দিচ্ছে পুবে৷ তাদেরই এক জন টেরেসা নোলটন৷ ধর্মের প্রতি আগ্রহ৷ সেই মেয়ে থাইল্যান্ডে পৌঁছনোর পরে আর কোনও খোঁজখবর নেই৷ প্রায় সাত মাসের বেশি।৷ শেষে আমেরিকায় তার বাড়িতে খবর যায় একদিন৷ পাতায়া সমুদ্রসৈকতের কাছে একটি মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে৷ এবং সেটি টেরেসার মৃতদেহ৷ পরনে ছিল ফুলছাপ বিকিনি৷ পরের মাসেই, নভেম্বরে পাতায়া যাওয়ার পথে একটি নির্জন জায়গায় পাওয়া যায় আর একটি নারীদেহ। ক্ষতবিক্ষত, আধপোড়া৷ তুরস্কের মেয়ে ভিটালি হাকিম৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানায়, হাকিমকে পুড়িয়ে মারা হয়, তখনও তার দেহে প্রাণ ছিল৷

একই বছর ডিসেম্বরে নেদারল্যান্ডস-এর হেঙ্ক বিন্টানিয়া এবং কর্নেলিয়া হেমকার৷ একই হত্যাকৌশল৷ ড্রাগ খাইয়ে অর্ধচেতন করে পিটিয়ে মেরে পুড়িয়ে ফেলা৷ ঠিক কাছাকাছি সময়ে পাতায়া সমুদ্রসৈকতে আরেকটি নারীর মৃতদেহ৷ ভিটালি হাকিমের বান্ধবী শার্মেন ক্যারু-র৷সেসময়ই সারাবিশ্বে হইচই পড়ে কে এই বিকিনি কিলার?

উত্তর পাওয়া যায়, ১৯৭৬ সালে৷ থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভারতে আরও বেশ কিছু খুনের পর৷ দিল্লির হোটেল বিক্রম-এ এক দল ফরাসি ছাত্রকে পেটখারাপের ওষুধ দেয় তাদের ট্যুর গাইড৷ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বেশির ভাগ অসুস্থ হয়ে পড়ে৷ যারা হয়নি তারা ট্যুর গাইডকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়৷ অবশেষে ‘বিকিনি কিলার’-এর খোঁজ মিলল৷ নাম- হটচাঁদ ভাবনানি গুরমুখ শোভরাজ৷ স্কুলে চার্লি চ্যাপলিনের ‘চার্লস’ডাকনামটি জুড়ে দিয়েছিল নামের আগে৷আর নামের আগের কটমটে শব্দগুলো ছেটে ফেলেছিল। চার্লস শোভরাজ৷ ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৬-এর মধ্যবর্তী সময়টিতেই তাঁর যাবতীয় হত্যাকাণ্ড৷

শোভরাজের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ এপ্রিল ভিয়েতনামে। কিন্তু ফ্রান্স ও ভারতসহ আরো কয়েকটি দেশের নাগরিকত্ব ছিলো তার। বাবা ছিলেন ভারতীয়। চার্লস শোভরাজ খুন করে একদেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে বেড়াতেন। ভারতের তিহার জেল থেকেও পালিয়েছিলেন। ছবি মুক্তিলাভের পর দেদার টাকা পেয়েছেন, এরপর ফ্রান্সে ইন্টারভিউ দিয়ে আরো কামিয়েছেন। এখন তার বয়স নটআউট ৭৫।কিন্তু ,কে জানে কি কারণে , রহস্য এখনও উন্মোচিত, ২০১৫ সালে নেপালে এসেছিলেন।বৃদ্ধ বয়সে।সেই প্রথম প্রেম করে বিয়ে করা বউ নিহিতা বিশ্বাসকে একপলক দেখবার জন্যে?একটু কনফেসনের জন্যে?জানা যায়নি। তবে নেপালের কেদারনাথের পর্বতের একটি ঢালে শুয়েছিলেন তিনি।১০ মার্চ। মাতাল ছিলেন। সেদিনই তিনি গ্রেফতার হন আবার। গ্রেফতারের দিনে জেলে ঢুকানোর আগে শুধু বলেছিলেন সাংবাদিকদের সামনে, ‘কিসের টানে এসেছিলাম, জানি নাতো, তবে এসেছিলাম।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত