প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিআরটিসি বাসে হিন্দিতে ঘোষণা!

ডেস্ক রিপোর্ট  : ‘আমরা এসব কি শুনছি! আর কি কি দেখতে হবে ভবিষ্যতে। ভাষাকে কেন্দ্র করে স্বাধীন হওয়া একমাত্র দেশের সরকারী বাসে হিন্দিতে চলছে ঘোষণা!’ বাসে বসেই কথাগুলো বলে ক্ষোভ ঝারছিলেন শাকিল আহমেদ নামের এক যুবক।

যুবক আরও জানান, আশ্চর্য হলেও সত্যি। বিআরটিসির বনানী থেকে ফার্মগেইটগামী দ্বি-তল বাসে ১০/১১ মিনিট পর পর আসছে হিন্দিতে ঘোষণা। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘মহিলাদের সিটে ছেলেরা বসবেন না।’ প্রসঙ্গত বাসটি (বাস নং ৯১১০) উত্তরা-মতিঝিল রোডে চলাচল করে বলে জানা গেছে।

অপর যাত্রী রাসেল আহমেদ ক্যাম্পাস লাইভকে জানান, বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বাসে হিন্দি ভাষা যাত্রীদের সতর্ক করার দৃশ্য কখনো দেখিনি। আমি অবাক হলাম, আমাদের দেশে হিন্দি ভাষার প্রচলন এভাবেই বাংলা ভাষাকে গ্রাস করছে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অপর যাত্রী মকবুল হোসেন বলেন, আমাদের দেশের মানুষের দেশপ্রেমের অভাব। এই ঘটনা যদি ভারতের কোনো রাজ্যে ঘটত তুলকালাম হয়ে যেতো। কিন্তু আমাদের দেশে কেউ এর প্রতিবাদ করার প্রয়োজনও মনে করে না।

নতুন বাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রনজিৎ চৌধুরী তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে একটু অভিমানী কণ্ঠে বলেন, আমি কয়েকবার এ ঘোষণা শোনার পরপরই বাসের কন্ট্রাকটরকে ডেকে আনি। জানতে চাই বাসটি কে ইজারা নিয়েছে। জবাবে কন্ট্রাকটর বলেন, আমরা রেল মন্ত্রীর লোক। ‌’কোন মন্ত্রী’ পাল্টা প্রশ্ন করলে জবাবে কন্ট্রাকটর বলেন মুজিবুল হক।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাসের ইজারাদারের নাম সবুজ। তিনি ৮/১০ বছর যাবৎ বিআরটিসির দ্বি-তল বাসের ইজারাদারী করছেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে। জানা গেছে, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী। কন্ট্রাকটর জানায়, আমি এক মাস যাবৎ এই বাসে কাজ করছি। আর গত এক সপ্তাহ ধরে বাসের সাউন্ড বক্স থেকে হিন্দি ভাষার এ ঘোষণা শুনছি।

তবে বাসের যাত্রীদের অনেকেই কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, স্বাধীন দেশে, সরকারী বাসে ভিনদেশী ভাষায় ঘোষণা দেওয়াটা রহস্যজনক। তারা এও জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হওয়া উচিৎ।

তবে কেউ কেউ বলেছেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কেউ হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করে বেড়াচ্ছেন। যারাই এসব করছেন, তাদের বিচারে আওতায় আনার দাবি জানান বাসের সাধারণ যাত্রীরা।

ক্যাম্পাস লাইভ

সর্বাধিক পঠিত