প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিডিয়ার ইসলামোফোবিয়া

 

মো. সামসুল ইসলাম : আমাদের মিডিয়া ও সুশীল সমাজের ইসলামোফোবিয়া ইদানীং বেড়েছে মনে হয়। ইসলাম নিয়ে সব কিছুতেই তারা অতিমাত্রায় ৎবধপঃ করছেন। পশ্চিমা মিডিয়ার ইসলামোফোবিয়া নিয়ে মুসলিমদের চেয়েও বেশি লিখেছে অমুসলিমরা। এডওয়ার্ড সাঈদ বা নোয়াম চমস্কির লেখাগুলোতে একসময় বিশ্বে সাড়া জাগিয়েছে। বিশ্ব পরিস্থিতি এখন নিঃসন্দেহে ভিন্ন। সন্ত্রাসী তকমা এখন মুসলিম নামের সঙ্গে সমার্থক। যদিও গত কয়েক দশকে আফগান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে মারা গেছে লাখ লাখ মুসলমান। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও মরছে। নিজেরা নিজেরাও মারামারি করছে। পৃথিবীতে মুসলিম রক্ত এখন বোধহয় সবচেয়ে সস্তা। তারপর তো রয়েছে সন্ত্রাসীর তকমা। আমাদের মিডিয়া যে এগুলো বোঝে না তা নয়। কিন্তু তারপরও দেখি তাদের ইসলাম নিয়ে তাচ্ছিল্য, মনে হয় তারাও ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত। এক শরীয়ত বয়াতিকে নিয়ে তারা যা করছেন তাতে আমার তাই মনে হচ্ছে। আমি এতোদিন এটা নিয়ে লিখিনি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কথায় লিখতে ভরসা পেলাম। তিনি চমৎকার বলেছেন যে বাউল হলেই যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে তা তো হতে পারে না।

আপনারা অবশ্যই তার মুক্তি দাবি করেন সেটা কেউ বাধা দিচ্ছে না। আমরা নিজেরাও লেখালেখি করি। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে কেউ মতপ্রকাশের জন্য জেলে যাক তা আমরাও চাই না। কিন্তু একটা বিনীত প্রশ্ন। আপনারা কী শরীয়ত বয়াতির ভিডিওগুলো দেখেছেন? একজন অসুস্থ, বিকারগ্রস্ত লোক ধর্ম নিয়ে যা মনে চায় তাই বলছে। নবীতত্ত্ব, মেরাজতত্ত্ব, কামতত্ত্ব ইত্যাদি নিয়ে বা নবীরা বয়াতি ছিলেন ইত্যাদি নিয়ে তার (ইতোমধ্যে কিছু ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে) প্রলাপকে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি বলা হচ্ছে। তার বক্তব্যকে লঁংঃরভু এবং মষড়ৎরভু করে সুশীল সমাজের লোকজন বলছে কাটমোল্লারা কোথায়? তারা তার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না কেন? অদ্ভুত ব্যাপার। ইসলাম একটি প্রতিষ্ঠিত ধর্ম। তার একটি স্বীকৃত দর্শন আছে।

এটা খেলতামাশার ব্যাপার নয়। কিছুদিন আগে বোধহয় এক ভিডিওতে দেখলাম দেশেই কাবা শরীফ বানিয়ে হজ করানো হচ্ছে। আরেক ভিডিওতে দেখলাম ঢাকার এক পীর বলছেন আল্লাহর সঙ্গে তার নাকি কী এক ব্যাপারে কথা হয়েছে, আল্লাহ অনেক পেরেশানির মধ্যে আছেন। ভ-ামির তো একটা সীমা থাকা উচিত। তাদের আবার হাজার হাজার মুরিদ। এগুলো কী বাকস্বাধীনতা? অথবা বাঙালি সংস্কৃতির অংশ? এসব ভ-ামি নিয়ে আবুল মনসুর আহমেদ বা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ গল্প, উপন্যাস লিখেছেন। ধর্মের নানে ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। যেগুলো বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। শরীয়ত বয়াতি যা বলছেন তার সঙ্গে ধর্মের কোনো যোগাযোগ নেই। পৃথিবীর সব মুসলিম ধর্মবেত্তা একবাক্যে এটা স্বীকার করবেন। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক হবে না। নিবর্তনমূলক আইন আমরা চাই না। মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে ধর্মের নামে মানুষকে হত্যা করুক তাও আমরা চাই না। কিন্তু খারাপ লাগে যখন ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে উল্টো ধর্মানুরাগীদের আক্রমণ করা হয়। ইসলাম ধর্ম দেখেই মনে হয় এটা হচ্ছে। তবে কি আমরাও পশ্চিমাদের মতো ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছি? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত