প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল থাকায় দেশের বাজারেও সোনার দাম উর্ধ্বমুখী

মাজহারুল ইসলাম : আগামী দিনগুলোতে দাম কমার কোন লক্ষণ দেখছেন না এ খাতের ব্যবসায়ীরা। গত বছরের ১ জানুয়ারি দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিলো প্রতি ভরি ৪৭ হাজার ৪৭২ টাকা। আর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ হাজার ৩৬১ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ১ বছরের ব্যবধানে ভরিতে দাম বেড়েছে ১২ হাজার ৮৮৯ টাকা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে সোনার দাম ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের সোনার ভরি ৬০ হাজার ১৬২ টাকা হয়েছিলো। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ১৯৭০ সালে সোনার ভরি ছিলো ১৫৪ টাকা। ১৯৮০ সালে ছিলো ৩ হাজার ৭৫০ টাকা। ১৯৯০ সালে ৬ হাজার টাকা। ২০০০ সালে ৬ হাজার ৯০৬ টাকা। যা ২০১০ সালে হয় ৪২ হাজার ১৬৫ টাকা।

এ ব্যাপারে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলেন, বিয়ের মৌসুম ডিসেম্বর-জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে সেনা বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু এবার তার অর্ধেক হবে বলে তারা মনে করছেন না।

একই ব্যাপারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ায় আমাদেরও দাম বাড়াতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বছরের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে আউন্সপ্রতি দাম বেড়েছে আড়াইশ’ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় একুশ হাজার টাকা। ভরিপ্রতি বেড়েছে ৮ হাজার টাকা। কিন্তু আমরা একবারে না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বাড়াচ্ছি।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে (স্পট মার্কেট) ২০১৩ সালের এপ্রিলে সোনার দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৩৪ ডলার ৩১ সেন্টে উঠেছিলো। ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ দাম ছিলো আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৭১ ডলার, ২০১৫ সালে ১ হাজার ২৯৪ ডলার, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৮৯ ডলার, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩৩৩ ডলার এবং ২০১৮ সালে ছিলো ১ হাজার ৩৫৫ ডলার। সর্বশেষ গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (৩১ দশমিক ১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ৫৫১ মার্কিন ডলার ছিলো। তবে গত কয়েক মাস ধরেই দর ওঠা-নামার মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকার বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ বড় দেশগুলোর অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব পড়েছে সোনার দামে। এসব দেশ তাদের মুদ্রার মানও কমিয়েছে। কমেছে ঋণের সুদের হার। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে বিনিয়োগ করছে। স্বর্ণের এই বাড়তি চাহিদার কারণে প্রভাব পড়ছে দামে।

সর্বাধিক পঠিত