প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাশরাফি নামের যোদ্ধার বিদায়টা রাঙানো কি জরুরি নয়?

আক্তারুজ্জামান : ঘাড় ত্যাড়া বলে বাংলা ভাষায় একটা শব্দ আছে। যার অর্থ হলো একরোখা স্বভাব। মানব চরিত্রের যে স্বভাবটি অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না সেটা। কিন্তু এই স্বভাবের কিছু মানুষই কখনো কখনো অনেক ভালো কিছু সময় বা মুহূর্ত দেয়। যা সারাজীবন আমরা মনে করে রাখি। তেমনই এক ঘাড় ত্যাড়া যোদ্ধার নাম মাশরাফি বিন মুর্তজা। যার বিদায়ের সময়টা ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু অন্তিম সময়ে তার কথায় শোনা যাচ্ছে কিছুটা অভিমানের সুর। যে অভিমান ভাঙানোর কাজটা করতে হবে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসির।

হঠাৎ করেই আবার আলোচনায় এসেছে মাশরাফির বিদায় প্রসঙ্গ। কেননা ক্রিকেটের দুই ফরম্যাটের জার্সি তুলে রেখেছেন আগেই। আর একটি ফরম্যাট ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কয়েক বছর ধরে। তবে সেটাও আর করবেন না বলে মনে হচ্ছে তার নিজের কথাতেই। ‘মাঠ থেকে অবসর নেবো কিনা, সে সিদ্ধান্ত এখনো নিইনি। নিজের যদি ওরকম মনে হয়, ক্রিকেট বোর্ড যদি মনে করে চিন্তাভাবনা করবো।’ কথাটি বলেছিলেন মাশরাফি নিজেই।

এই বক্তব্যে কিন্তু অতীতের চেনা মাশরাফিকে খুঁজে পাইনি। কেননা টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের সিদ্ধান্তে কারো অপেক্ষায় ছিলেন না তিনি। ওয়ানডের বেলায় এতো কালক্ষেপণ বা দ্বিধা কেন? বয়স তো হয়েছে। পারফর্ম্যান্সে তার ছাপও পড়ছে। এই বাস্তবতা মেনে নতুন কাউকে সুযোগ করে দিতে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও নিজের নাম বাদ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু ওয়ানডে থেকে অবসরের বেলায় নিজের স্বরূপটা দেখাতে পারছেন না মাশরাফি।

গত রোববার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, ‘ওকে আমরা একবার প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটা ওয়ানডে খেলিয়ে বিদায় দেবো। ওর সঙ্গে এমন কথা হয়েছিলো লন্ডনেই। সে তো রাজি হলো না। সে বিপিএল পর্যন্ত দেখতে চেয়েছিলো। তারপর সিদ্ধান্ত নেবে। আমাকে কিছু বলেনি, তবে পত্রপত্রিকা দেখে মনে হয়েছে, ওর ঘটা করে বিদায় নেয়ার ইচ্ছে নেই। আমরা আবার দেখবো। আমরা চাইবোই ওকে খুব ভালো করে বিদায় দিতে। এমনভাবে বিদায় দেয়া হবে, যেটা ওর আগে বাংলাদেশের কেউ পায়নি, পরেও কেউ পাবে না। এখন সে যদি চায় হবে, না হলে তো কিছু করার নেই।’

বিসিবি প্রধানের কথায় কিছুটা আশা ও কিছুটা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ‘আমরা চাইবো ওকে খুব ভালো করে বিদায় দিতে অংশটুকু খুব আশাবাদী হওয়ার মতো। ‘এমনভাবে বিদায় দেয়া হবে, যেটা ওর আগে বাংলাদেশের কেউ পায়নি, পরেও কেউ পাবে না’ অংশটুকু বেশ শঙ্কা জাগিয়েছে। মাশরাফির বিদায় নিতে এতো আন্তরিক হলে এতদিনে একবারও কেন এ বিষয়ে মাশরাফির সঙ্গে কথা বললেন না?

কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নাম বাদ দেয়ার অনুরোধ জানাতে মাশরাফি ফোন করেছিলেন তা বিসিবি প্রধান নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ওই সময়ই কি অবসর নিয়ে মাশরাফির সঙ্গে একটু আলোচনা করতে পারতেন না পাপন? প্রশ্ন থেকে যায় এখানে।

এখন মনে হচ্ছে মাশরাফির বিদায় নিয়ে কেউই বাড়াবাড়ি চাই না। চাই না মাশরাফির জন্য এক্সক্লুসিভ কোনো বিদায়। কারো যোগ্যতা থাকলে ভবিষ্যতে মাশরাফির চেয়েও মহাসমারোহে বিদায় জানাবে দেশের ক্রিকেট। এটাই কাম্য। কিন্তু মাশরাফির বিদায়টা একটু হলেও রাঙানো দরকার। কেননা মাশরাফি নামের যোদ্ধা আমরা হয়তো আর পাবো না। যে দুই হাঁটুতে বারবার অস্ত্রোপচার করে মাঠে নেমেছেন। হাতের আঙুলে সেলাই নিয়েও দল জেতাতে মাঠে নামেন। দলের জুনিয়র ক্রিকেটারদের আগলে রাখেন। সিনিয়রদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কও বারবার গড়ে তুলেছেন এই ম্যাশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত