প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চুয়াডাঙ্গায় চকলেটের প্রলোভনে ১ম শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ

সোহেল রানা ডালিম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার গোপিনাথপুরে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে। গত বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের স্কুলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

গত বৃহস্পতিবারও অভিযুক্ত মালেক ওই স্কুলছাত্রীকে পুনরায় তার ঘরে ডাকলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। পরে ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীকে আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুসহ পুলিশের একটি টিম হাসপাতাল পরিদর্শন করে।

ধর্ষক আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান।

এ বিষয়ে শিশুটির মা জানান, গত বুধবার দুপুরে শিশুটির দাদি তাকে গোসল করানোর সময় শরীরে রক্তের দাগ দেখে ঘটনাটি জানতে চাইলে ভয় পেয়ে যায় সে। ভয়ে সারা দিন কিছু না জানালেও রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। এ অবস্থায় সে ঘুমিয়ে যায়। সারা রাত শিশুটি ঘুমের ঘোরে ব্যথায় কাতরালেও তার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, গ্যাসের ব্যথা হতে পরে হয়তো। পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটি বাড়ির কয়েকজনকে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায়। ওই সময় শিশুটির মা মেয়েকে কাছে ডেকে ঘটনার কথা জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি ভয়ে ভয়ে জানায়, শুধু গতকালই না, গত ১০-১২ দিন আগেও আব্দুল মালেক তাকে ঘরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন।

এ সময় মেয়ের কাছে এ ধরনের কথা শুনে মান-সম্মানের কথা ভেবে কাউকে কিছু জানায়নি শিশুটির বাবা-মা। তবে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আবার শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নির্যাতন শুরু করলে লম্পট মালেকের দুই ছেলের বউ ঘটনাটি দেখে শিশুটির মাকে ডাক দেন। মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এসে ঘটনা জানতে চাইলে শিশুটি বলে, তাকে চকলেটের প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে কয়েকবার খারাপ কাজ করা হয়েছে । এ সময় স্থানীয় মেম্বারসহ প্রতিবেশীদের কাছেও একাধিকবার মালেকের নির্যাতনের কথা বলা হয়। পরে ধর্ষণের শিকার শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় ব্যক্তিদের পরামর্শে গতকাল রাত আটটার পর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে শিশুটির পরিবার।

বিষয়টি জানতে পেরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের একটি টিম হাসপাতালসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রতিবেশী আব্দুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরে আব্দুল মালেকের স্ত্রী বাড়িতে নেই। মেয়ের চিকিৎসার জন্য মা-মেয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে মালেক চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিশুকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তাকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

গাইনি কনসালটেন্ট ডা. আকলিমা খাতুন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় একটি শিশু সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে নির্যাতিত ওই শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। একই সঙ্গে ধর্ষক আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। খুব শিগগিরই আমরা ধর্ষক মালেককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। সম্পাদনা: সুতীর্থ বড়াল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত