শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে যা চাইলেন ব্যবসায়ীরা ◈ চীনের আক্রমণের ভয়ে তাইওয়ান ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকে ◈ দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করার চেষ্টা করছে বিএনপি ◈ নারী এশিয়ান কাপে চীনের কাছে ২-০ গো‌লে হারলো বাংলাদেশ ◈ ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগেই সমর্থকের রহস্যময় মৃত্যু, আহত ৪৭ ◈ এলাকায় মাইকিং— ‘সাউন্ডবক্স বাজালে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ (ভিডিও) ◈ কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ◈ ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে, অর্জন ধরে রাখতে সব উপদেষ্টাদের মাঠে নামতে হবে: নাহিদ ইসলাম ◈ জুলাই সনদের সাথে গণভোট বাতিল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই : আইনমন্ত্রী ◈ দলীয় পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০১৯, ০৪:৪১ সকাল
আপডেট : ০৭ জুলাই, ২০১৯, ০৪:৪১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লাউয়াছড়া বনের ভেতর রেল লাইন যেন মৃত্যুর ফাঁদ!

সাদিকুর রহমান সামু, মৌলভীবাজার থেকে: রেল লাইনের রেলপাত ক্ষয় হয়ে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ছে, রেল লাইনের পাতের জয়েন্টে ৪টি নাটের জায়গায় আছে ২-৩টি, নাট-বল্টু না থাকায় জয়েন্টগুলো নেই ঠিকমত, স্লিপার ভাঙা, স্লিপারের হুক খুলে পড়ছে, স্লিপারের মধ্যখানে পাথরের পরিবর্তে বালু, কোথাও পাথরবিহীন রেল লাইনটি শূন্যে রয়েছে।

সরেজমিনে সিলেট রেল পথের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রেল লাইন ঘুরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ এ দৃশ্য চোখে পড়ে। যেন লাউয়াছড়া বনের ভেতরের রেলপথ সাজানো রয়েছে মৃত্যুর ফাঁদ। দেশের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার শীর্ষস্থানে রেলপথ থাকলেও সিলেট রেলপথের অধিকাংশ স্থানের অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক। তার চেয়েও নাজুক লাউয়াছড়া বনের রেল পথটি।

১৯৯৭ সালে ১৪ জুন কমলগঞ্জের মাগুড়ছড়া গ্যাসকুপ বিস্ফোরণে শতবছরের পুরনো সিলেট রেল পথটির লাউয়াছড়া বনের রেল লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর ফলে সিলেটের সাথে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ ছিল কয়েক মাস। পরে ক্ষতিগ্রস্থ লাইনটি সংস্কার করার পর বনের ভেতরের অংশ আর সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় বনের ভেতরের ৮ কিঃমিঃ রেল পথের পুরো লাইন জুড়েই বর্তমানে শুধু নাই নাই অবস্থা। জয়েন্টে নাট-বল্টু নাই,স্লিপার ভাঙ্গা,স্লিপারের হুক নাই,রেল লাইনের স্লিপারে পাথর নাই,পাথরের পরিবর্তে স্লিপারের মধ্যখানে বালু দিয়ে রাখায় রেল লাইনের নড়েবড়ে অবস্থা এ অবস্থায় নড়েবড়ে এ রুটেই ঘটে দেশের সব চেয়ে বেশি ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনা।

জানা গেছে, শুধু লাউয়াছড়া বন নয় পুরো সিলেট রেল পথ জুরেই রেললাইনে ক্লিপ, নাট, হুক, ফিসপ্লেট, স্লিপার, গার্ডার বয়সের ভারে ন্যুব্জ। একে অপরের পরিপুরক পুরাতন ওই খুচরা নানা ছোট-বড় যন্ত্রাংশ এখন অধিকাংশই অকেজো। আর যেগুলো আছে রয়েছে, সেগুলোও সংখ্যায় অপ্রতুল। রেল পথে নির্মাণকৃত ব্রিজগুলো নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ ব্রিজে কোনো মেরামত কাজ হয়নি। এর ফলে অনেকটা ব্রিজের উপরের রেললাইন রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।

রেল সূত্রে জানা গেছে,সিলেট রেল পথের কমলগঞ্জরে ভানুগাছ ও শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। এরমধ্যে লাউয়াছড়া বনের ভেতরে রয়েছে ৮ কিঃমিঃ রেলপথ। এই পথের মধ্যে ছোট-বড় ৬টি ব্রিজ রয়েছে।

সরেজমিন লাউয়াছড়া বনের ভেতর ঘুরে দেখা যায় মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি থেকে চোংগার পুল পর্যন্ত রেল লাইনের অবস্থা খুবই নাজুক। পাহাড়ি এলাকার এই অংশের মধ্যে রেললাইনের একটি স্থানে রেলপাত অংশ গলে ক্ষয়ে টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ছে। জয়েন্টের প্লেটের ৪টি নাট-বল্টুর মধ্যে কোথায় ২-৩টি রয়েছে। কোনো কোনো জয়েন্টে নাট থাকলে বল্টু নেই। আবার কোথাও নাট ক্ষয়ে যাওয়ায় কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। জয়েন্টে নাট-বল্টু না থাকায় রেলপাতগুলো উচঁনিচুঁ হয়ে বেশকম অবস্থায় রয়েছে। এক স্থানে ১২টি স্লিপারের মধ্যখানে কোন পাথর নেই,পাথরের পরিবর্তে দিয়ে রাখা হয়েছে বালু। অধিকাংশ স্লিপার ভাঙা। স্লিপার ধরে রাখার হুক খুলে পড়ে আছে। রেল লাইনের কোন কোন স্লি¬পারে নাট-বলটু নেই। আবার কোনটাতে একটি, আবার কোনটাতে একটিও নেই। অনেক স্থানে কাঠের উপর থেকে লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোথাও স্লিপার ভেঙে পাথর বিহীন রেল লাইন শূন্যে রয়েছে। শ্রীমঙ্গল থেকে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্থান মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। লাউয়াছড়া বনের পাহাড়ি রেলপথ এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে যাত্রীরা দেখলে হয়তো এই পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেন না। তবুও নড়েবড়ে রেল লাইনের উপর ভর করে হাজারো জীবন নিয়ে প্রতিদিন ছুটে চলে ৬টি আন্তঃনগরসহ বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন।

রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে পারাবত, জয়ন্তীকা, পাহাড়িকা, উদয়ন, উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস নামের ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন প্রতিদিন দুইবার করে ১২ বার আসা-যাওয়া করে। আর এই পথে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করেন অন্তত ২৫/৩০ হাজার যাত্রী। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলতে রাজি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেল কর্মকর্তার সাথে রেল লাইনের ত্রুটি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, কিছু কিছু অংশে সমস্যা আছে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই বলে ওই রেলওয়ে কর্মকর্তা জানালেও গত তিন বছরে সিলেট রেল পথে অন্তত ২০/২৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সব চেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ জুন রাতে কুলাউড়ার বরমচাল এলাকার বড়ছড়া সেতুতে। ওইদিন সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ট্রেন সতু ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটলে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সাধারণ যাত্রীরা বলেন, ‘আমরা রেল পথকে সব চেয়ে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা মনে করি। কিন্তু সিলেট রেলপথটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে কি বলব! এ রেল পথটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও রহস্যজনক কারণে এই পথটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রেল বিভাগের স্থানীয় কৌশলীদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা যায়নি। রেলের স্থানীয় পর্যায়ের কেউও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়