প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

ঢাকায় মল-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ, বললেন দিবালোক সিংহ

শেখ নাঈমা জাবীন : স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল-এর স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও ‘দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র’-এর নির্বাহী পরিচালক ড. দিবালোক সিংহ। ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের সুপেয় পানির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন তিনি। – ডয়চে ভেলে

বাংলাদেশের সুপেয় পানির উৎস কতটা পর্যাপ্ত এবং সেগুলোর দূষণ কী মাত্রায় হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের যে পানি-সম্পদ আছে, সেটার ১ শতাংশ আমরা ব্যবহার করছি। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের মল-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, সেহেতু আমাদের বেশির ভাগ মল-বর্জ্য নালার মাধ্যমে খাল, সেখান থেকে নদ-নদী বা জলাশয়ে পরিশোধন করা ছাড়াই চলে যাচ্ছে। চলে যাওয়ার ফলে, এটা আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে আমাদের ঢাকার চারপাশের নদীগুলো পরিশোধনের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সেটা নিয়ে খুব বেশি নড়াচড়া এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না। সেটা হলো, ঝুঁকির দিক। এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে হলে এই মলবর্জ্যগুলো পরিশোধন হয়ে যাতে আমাদের প্রকৃতিতে ফিরে আসে, সেজন্য পরিশোধন ব্যবস্থাটা জোরালো করতে হবে।

আমাদের যে অভিজ্ঞতা তাতে দেখা যায়, আশেপাশের জলাশয় যেগুলো আছে, সেগুলো আর পান করার পর্যায়ে থাকছে না। এটা দু’টো কারণে হচ্ছে, একটি হলো মল-বর্জ্য এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্বারা সংক্রমিত হচ্ছে, যেগুলো আপনি পরিশোধনও করতে পারছেন না, দিবালোক সিংহ বলেন।

ওয়াসার সঙ্গে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। উনাদের যে ট্রিটেমন্ট প্লান্ট, কেন্দ্রীয়ভাবে সেটা ক্লোরিনেশন করা হয়। কিন্তু এখানে সমস্যাটা যেটা অনেক দিন ধরে চলে আসছে, এটার পাইপ সিস্টেম যে নষ্ট বা ফুটা হয়ে গিয়ে থাকে, সেটার ভেতরে ময়লা পানি ঢুকে যাচ্ছে। যারা দরিদ্র লোক তারা আইনসঙ্গত পানি পাচ্ছেন না। ওয়াসার পানিতে ই-কোলাই আছে, সেটা গবেষণায়ও বেরিয়ে এসেছে। ঢাকা শহরের মানুষ সবাই সেটা জানে।

তিনি বলেন, ভিয়েতনামের উদাহরণ যদি আমি দিই, সেখানে মল-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চমৎকার একটা সিস্টেম আছে। কোন গতিতে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার হবে সেটা নির্দিষ্ট এবং এটা পরিষ্কারের জন্য কর দিতে হয়। ট্যাঙ্ক পূর্ণ হলে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার গাড়ি এসে সেটা পরিশোধনাগারে নিয়ে যায়। পরিশোধনের পর বর্জ্য সার বানানোর কাজে লাগে এবং যেটুকু পানি থাকবে, সেটা প্রকৃতিতে ফেরত পাঠানোর জন্য নিরাপদ।

আমাদের এখানে পানির অভিগম্যতা বেশিরভাগ লোকেরই আছে, সেটা ঠিক। কিন্তু যখনই আপনি ‘নিরাপদ’ বিশেষণটা সেখানে বসাবেন, তখনই এখানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন রাসায়নিক ও জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো যদি আমি বিবেচনায় নিই, তাহলে মাত্র ৩৫% লোক নিরাপদ পানি পাচ্ছে। বিবিএসের সঙ্গে ইউনিসেফের জরিপে এসেছে এই তথ্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত