প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিরোধীদল দন্তহীন- তাদের নিয়ে সরকার সবচেয়ে কম উদ্বিগ্ন, বললেন আফসান চৌধুরী

কেএম নাহিদ: লেখক ও গবেষক আফসান চৌধুরী, ২৫ শে মে শনিবার সাউথ এশিয়ান মনিটরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ধানের চাহিদা কমে যাওয়ায় ও মূল্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশের কৃষকেরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে। এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে কয়েকজন কৃষক ক্ষোভে তাদের ফসলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তার প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সুপার পারফর্মিং’ অর্থনীতি হিসেবে অভিহিত দেশে কৃষি খাতের এমন অবস্থায় লোকজন হতবুদ্ধিকর অবস্থায় পড়ে গেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সরকার, অন্তত এখন পর্যন্ত, দৃশ্যত কৃষি খাতকে রক্ষার জন্য অর্থপূর্ণ কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। কৃষকেরা যখন এমন দুর্দশায় পড়েছে, ঠিক তখন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক- বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের স্বস্তি দিতে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে একটি হলো দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া থাকা ঋণের সুদের হার হ্রাস করা। এটা আর যাই হোক, অন্তত সময়োচিত হয়নি।

অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ঋণ খেলাপিরা তাদের গালে চপেটাঘাত খেয়েছে যখন হাই কোর্ট এই স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থা স্থগিত করেছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তীব্র সমালোচনা করেছে। ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ও বিরোধী দলের দুর্বল অবস্থার কারণে সরকার কৃষকদের সমস্যা সমাধানের কোনো চাপ অনুভব করছে না। বস্তুত কৃষকদের মধ্যেই শিকড় নিহিত বলে গর্ব করলেও আওয়ামী লীগ ক্রমবর্ধমান হারে ধনীমুখ দলে পরিণত হচ্ছে।

বাংলাদেশে অতিধনীদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা করলে ঋণ খেলাপিদের যে ছাড় দেয়া হয়েছে তা বিস্ময়কর নয়। অর্থমন্ত্রী নিজে একটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের সদস্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ঋণ খেলাপিরা রাজনৈতিক তহবিলের উৎস। তাদের অনেকে নীতিনির্ধারণী কাঠামোর অংশবিশেষ। করপোরেট ঋণ খেলাপিদের স্বস্তি দেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপটিতে বিস্ময়ের কিছু না থাকলেও হাইকোর্টে তা বিরোধিতা টাটকা বাতাস হিসেবে এসেছে। ধনী লবির পথ বন্ধ করে দিয়ে বিচার বিভাগ শক্তি প্রদর্শন না করলেও যথেষ্ট সাহস প্রদর্শন করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশন শুনানিকালে হাই কোর্ট জানায়, গত ১৬ মের সার্কুলারের আলোকে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জন্য বড় বড় ঋণ খেলাপিকে আরো সুযোগ দেয়া হলে দেশ থেকে আরো ১০০,০০০ কোটি টাকা পাচার হয়ে যেতে পারে। মোট ঋণের মাত্র ২ ভাগ পরিশোধ করেই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ নিয়ে ঋণ খেলাপিদের আরো ঋণ গ্রহণের সুবিধা হাই কোর্ট বন্ধ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের ১০ বছর মেয়াদে তাদের ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ দিয়ে আরো ঋণ গ্রহণের সুযোগ দিয়েছিল ওই সার্কুলারে। আদালত ২৩ জুন পর্যন্ত ওই সার্কুলার স্থগিত করেছে।

দুটি সিদ্ধান্ত একসাথে নিলে দেখা যাবে, কৃষিনীতির ক্ষেত্রে সরকার অবহেলা প্রদর্শন করেছে আর করপোরেট খাতের ঋণ খেলাপিদের ক্ষেত্রে দ্রুত ও সহানুভ‚তিশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে। এই ভারসাম্যহীনতার সুযোগ বিরোধী দলগুলো গ্রহণের চেষ্টা করলেও বাস্তবতা হলো এই যে তারা দন্তহীন। রাজনৈতিক বিরোধীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার সবচেয়ে কম উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি কোনো ধরনের গণবিক্ষোভের হুমকি সৃষ্টি করেনি। সমম্পাদনায়: কায়কোবাদ মিলন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত