প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্রাজুয়েটদের ৬ দফা দাবি

আসিফ কাজল : মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী প্রতি বছর বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্রাজুয়েট পরিষদ।

সোমবার (২০ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় চাকুরী প্রত্যাশী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গ্রাজুয়েট পরিষদের উপদেষ্টা হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এসব দাবি জানান।

৬ দফা দাবিগুলো হলো : ১. ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি স্বায়ত্বশাসিত, আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারী চাকরিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ দেয়া।

২. গত ১৪ এপ্রিল তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশনের দশম গ্রেড ভুক্ত ৩৮ নং রিসোর্স শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে ওই পদে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্রেইল পদ্ধতিতে পাঠদানের জন্য শুধুমাত্র উপযুক্ত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

৩.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শ্রুতিলেখক নীতিমালা ২৫ এর বি-উপ ধারা অনুযায়ী সরকারি সহ স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চাকরি পরীক্ষায় ওই আইন মেনে চলার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৪. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর চাকুতে যোগদান করার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা করে মাসিক বেকার প্রদান করতে হবে।

৫. বিশেষ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধীদের চাকরি সুযোগ প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিবছর একবার বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে।
৬. তীব্র মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীতার শিকার ব্যক্তিরা কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করে, তাই তীব্র মাত্রার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বস্তরের সুযোগ প্রদানের দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৬৪ জেলায় ৪৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ওই নিয়োগ পরীক্ষায় শুধুমাত্র দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পরিবর্তে প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী সকলেই অংশগ্রহণ করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই পরীক্ষায় যদি সবার অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে তাহলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সুযোগ পাওয়া সম্ভব না, মোটেই থাকেনা। তাই তাদের জন্য বিশেষ শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা পর্যন্ত ১৬ থেকে ১৭ বছর ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ফলে তাদের পক্ষেই সম্ভব দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের উপযুক্ত পাঠদান।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ছয় দফা দাবি পূরণের জন্য আমি সর্বদাই সচেষ্ট থাকবো। সরকার প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যেভাবে কাজ করছে এর আগে এরকম ভূমিকায় অন্য কোন সরকার ছিল কিনা আমি সবার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সকল দাবি দাওয়া পুরণের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা ও নিশ্চয়তা দিয়ে যাচ্ছি। ছয় দফা দাবি আগামী ২৮ তারিখের মধ্যেই শ্রুতিলেখক পদে নিয়োগের শর্ত পূরণ করার চেষ্টা করব। প্রতিবন্ধীদের কোনো চাহিদা ও প্রত্যাশা অপূরণীয় থাকবে না।

আয়োজক সংগঠনের আহব্বায়ক আলী হোসেনসহ শতাধিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত