প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিটি গুম খুনের বিচার অবশ্যই হবে: ড. শাহদীন মালিক

নিউজ ডেস্ক: বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, দিনক্ষণ বলতে পারছি না, তবে প্রতিটি গুম খুনের বিচার এদেশে অবশ্যই হবে। তিনি বলেন, কেউ আজীবন ক্ষমতায় থাকে না। ১৫ আগস্ট, জেল হত্যা আর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার যদি ৪৫/৫০ বছর পরে হতে পারে তাহলে গত কয়েক বছরে যেভাবে গুম আর বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেছে তার বিচারও একদিন হবে। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘গুম ও গণতন্ত্রের অব্যাহত সংকট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদী লুনা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকার গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

শাহদীন মালিক বলেন, ১৯৭১ সালেও অনেকে গুম হয়েছেন। কিন্তু সেই গুমের সাথে জড়িত ছিল পাকিস্তানি আর্মি। কিন্তু এখন একটি স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিকরা গুম হবেন এটা মেনে নেয়া যায় না। প্রতিটি গুমের বিচার এদেশেই হবে। তবে দিনক্ষণ বলতে পারছি না। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, গুম খুনের সাথে প্রশাসনের কেউ কেউ জড়িত থাকলেও সবাই জড়িত না। অনেক ভাল কর্মকর্তারা এখন ওএসডিতে আছেন। সময় এক সময়ে আসবে যখন তারাই সঠিক ভূমিকা নেবেন। অন্যায়ের সাথে বা গুম খুনের সাথে জড়িতদের তারাই খুঁজে বের করে এর বিচার করবেন। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় থাকবো। তবে প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের জায়গা থেকে আমাদের কথা বলতেই হবে। আমাদের এই প্রতিবাদই এক সময়ে সমস্বরে প্রতিরোধ হয়ে গুমের বিচারের পথকে সুগম করবে।

তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, গুম আর খুনের ঘটনায় পুলিশ, র‌্যাব যদি অভিযোগ গ্রহণ না করেন তাহলে বুঝতে হবে তারাই এর সাথে জড়িত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের গুম আর খুনের সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরাসরি জড়িত। অথচ সরকার এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করছে। এই সরকার মিথ্যার উপর ভর করে চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে উচ্চ পদের প্রত্যেকেই গুম-খুন নিয়ে অব্যাহতভাবে মিথ্যাচার করছে। গুম পরিবারের অনেক সদস্য অভিযোগ করেছেন, র‌্যাবের পোশাক পড়েই তুলে নিয়ে পরে গুম করা হচ্ছে। এর জবাবে যদিও র‌্যাব বলছে, কালো পোশাক নাকি গুলিস্তানেও পাওয়া যায়। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই কালো পোশাকের বিক্রেতাকে র‌্যাব ধরছে না কেন?
তিনি আরো বলেন, জনগণের করের টাকা নিয়ে সেই জনগণের সাথেই হাসিঠাট্টা করছে প্রশাসনের লোকজন। গুম হওয়া সদস্যের পরিবারের লোকজন যদি থানায় গিয়ে জিডি বা মামলা করতে চান কিংবা র‌্যাবের খাতায় অভিযোগ দিতে চান আর সেখানে র‌্যাব বা পুলিশ যদি অভিযোগ না দিয়ে উল্টো হয়রানি করেন তাহলে বুঝতে হবে এসবের সাথে তারাই জড়িত।

আনু মুহাম্মদ বলেন, দিন বদলের শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। জনগণের মনে এখন প্রশ্ন এটাই কি আওয়ামী লীগের দিন বদল? পুলিশ র‌্যাব এখন সারা দেশে আটক বাণিজ্য শুরু করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ১৯৭৩/৭৪ সালেও একটি শ্লোগান ছিল স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। এখন সেই স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টিও পাচ্ছে না জনগণ। তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, উন্নয়নের মানে কি প্রতিদিন একজন গুম করা? উন্নয়নের মানে কি সকালে দুপুরে দুর্ঘটনায় মৃত্যু খবর পাওয়া? উন্নয়নের মানে কি পাহাড়ে আর সমতলে অস্তিরতা তৈরি করা ?

দেশের নির্বাচনও এখন গুমের মধ্যে পড়ে গেছে এমন মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, গুম খুনের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সোচ্চার ভূমিকা রাখবো। কষ্ট হলেও গুম হওয়া পরিবারের ডাকে সাড়া দেব। আরো বেশি মানুষকে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে ভূমিকা রাখতে কাজ করবো।

দীর্ঘ সাত বছর আগে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদী লুনা অভিযোগ করে বলেছেন, আমার স্বামীকে ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সাথে নাটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি অনেকবারই বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মঞ্চে গিয়ে আমার স্বামীর সন্ধান চেয়েছি। আশা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আমাকে কথা দিয়েছেন হয়তো আমার স্বামীকে আমি ফেরত পাব। কিন্তু পরে মনে হয়েছে স্রেফ একটি নাটক করেছেন।

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদী বলেন, সারা দেশে এখন গুম যেন মহামারী আকার ধারণ করেছে। দেশে তো অনেক দিবসই আছে। তাই তিনি গুমের একটি দিবস ঘোষণা করারও দাবি করেন। গুমকে তিনি জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি গুমেরই বিচার হবে। আর যতদিন না আমরা আমাদের স্বজনদের ফেরত পাচ্ছি ততদিন অন্তত বিচারের দাবিতে হলেও এভাবে আমাদের কণ্ঠকে উচ্চকিত করেই দাবি জানিয়ে যাব।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বনানী থেকে গুম হন বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত