প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সারাবিশ্বে নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ আসছে না, অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ নিষ্ক্রিয় হবার পূর্বে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যবহারে বিরত থাকতে হবে : অধ্যাপক সাইদুর রহমান

হিমাদ্রি শেখর : গত ২০ বছরে নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ আসেনি এবং আগামী সাত বছরে পৃথিবীতে সর্বোচ্চ দুইটি অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং এতো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার কোনোভাবেই অপব্যবহার করা যাবে না বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমান।

বিএসএমএমইউর ফার্মাকোলজি বিভাগের গবেষক বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ পূর্ণাঙ্গভাবে যাতে কার্যকারিতা না হারায় গত পঁচিশ বছরে পৃথিবীতে এ ব্যাপারে ব্যাপক সচেতনতা এসেছে। বিশ্বের উন্নত দেশে সচেতনতা দেখা গেলেও বাংলাদেশের অবস্থা ভয়াবহ। দেশের আড়াই লাখ ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া গড়ে তিনজন মানুষকেও যদি ঔষধ দেয় তাহলে এর পরিমাণ সাড়ে সাত লাখে গিয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলাতে কোনো ল্যাবরেটরি না থাকায় দুই থেকে তিন-তৃতীয়াংশ ডাক্তাররা ল্যাবরেটরি সঠিক তথ্য না পেয়ে মুখস্থ বিদ্যায় প্রেসক্রিপশন করেন। ল্যাবরেটরি গবেষণা না থাকায় ডাক্তারেরা জানেন না কোন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়াগুলো কোন রোগের ব্যাপারে অকার্যকর হয়ে গেছে।

প্রতিটি অঞ্চলের সংবেদনশীলতা এক নয় ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের মান ভালো করতে চাইলে অঞ্চলভিত্তিক গবেষণাগারের প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি তথ্য রয়েছে বলে শতকরা ষাট ভাগ ডাক্তারেরা অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ লেখার নীতিমালা মেনে চলেন, বললেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান।

গবেষক বলেছেন, মানুষ নিজেদের ব্যাপারে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ায় সাধারণ রোগেও অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খেয়ে থাকেন। বাজারে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খুব বেশি সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় এটির অপব্যবহার বেড়েই চলছে। বর্তমানে মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণীতেও খুব বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ একটু দামি হওয়ায় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ কিনলেও রোগের লক্ষণ শেষ হয়ে গেলে কোর্স সম্পূর্ণ না করেই ঔষধ খাওয়া বন্ধ করেন। ঔষধের মান খারাপ হলে শুধুমাত্র একজন রোগীর সমস্যা হবে। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের মান খারাপ হলে এতে সারাবিশ্বের মানুষের সমস্যা হবে।

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে সত্তর হাজার থেকে এক লাখ বেডে প্রতিদিন ত্রিশ হাজার থেকে চল্লিশ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এসব রোগীরা ডাক্তারদের তত্ত্বাবধায়নে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু বারো লাখ থেকে পনেরো লাখ রোগী প্রতিদিন ফার্মেসিগুলোতে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ কিনে খাচ্ছেন, বললেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান।

তিনি বলেছেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যবহারের ফলে অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াগুলো ধীরে ধীরে শক্তিশালী উঠছে। ফলে অতীতের তুলনায় অনেক কার্যকারী ঔষধও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে কিছু গবেষণাগার, আইসিইউ রয়েছে যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিপরীতে অকার্যকর হয়ে গেছে। এই গবেষক বলেছেন, বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধগুলোকে সামনে-পেছনে করে নতুনভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন। আড়াই লাখ ফার্মেসিকে নজরদারির মধ্যে রাখা সম্ভব নয়।

এজন্য এদেশের মানুষকে নিজে থেকে সচেতন হয়ে অবশ্যই ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ কিনতে হবে। পৃথিবীতে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তবে এ সমস্যা সমাধানের জন্য পিছিয়ে থাকা অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সব থেকে বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, বললেন বিএসএমএমইউর অধ্যাপক সাইদুর রহমান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ