প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ চান জাফরুল্লাহ

শিমুল মাহমুদ: খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনি আর একটা সংলাপ ডাকেন। পরিষ্কার করে বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে কোন প্রতিবন্ধীকতা করবেন না। পরিষ্কার করে বলে দেন, এদিকে কোন নাক গলাবেন না। বিচার কে বিচারের মত চলতে দেন। তারপরে দেখি, খালেদা জিয়ার মুক্তি হয় কিনা।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে ভোট ডাকাতি করেছে এতে পুলিশ ও প্রশাসনের দাবি মেটাতে গিয়ে ডিসি ভার্সেস এসপির খেলা দেখবেন প্রধানমন্ত্রী। এবার প্রশাসন যখন বলবে আমাদের হেলিকপ্টার চাই অমুক তমুক চাই সে দাবি মেটাতে হিমশিম খাবে প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে সফর সর্ম্পকে তিনি বলেন, গিয়েছেন বাংলাদেশের ১৮০০ উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ট্রেনিং দিতে, যে দেশে পানির চেয়ে গরুর মূত্রের দাম বেশি। মানুষের চেয়ে পশু দাম বেশি। পশুর জন্য মানুষ হত্যা করছে। সে দেশে কি ট্রেনিং হতে পারে। আমরা বুঝতে পারছি। তাদের মগজ ধোলাই করে বাংলাদেশ নিয়ে আসা হবে। এতে হিতে বিপরীত হয়ে শেখ হাসিনাকেই এর খেসারত দিতে হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে আমাদেরকে ফিরিয়ে আনতে হলে ভারতের যে চক্রান্ত, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর এটা কোনো সহজ কাজ নয়। আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট ও প্রেসক্লাবে আর হাতি ঘোড়া মাইরেন না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, আমি বিএনপির নেতৃবৃন্দের বারবার বলেছি আসছি। গতকালকও প্রস্তাব করেছি, আপনাদের কে রাস্তায় থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমি খুশি হতাম বিএনপি’র ১০০০ মহিলা নেত্রী যদি আজকে দুই ঘন্টার জন্য রাস্তায় বসে থাকতো। তারপরে ৫০টা ট্রাক নিয়ে সারা ঢাকা শহরে ঘুরতো। আর একটা শ্লোগান দিত গণতন্ত্র চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। এটা করতে পারলেই দেশে সুশাসন আসবে আর সুশাসন ছাড়া বাংলাদেশে শান্তি ফিরে আসবে না।

এ সময় তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি আপনার দলের মিটিং অবশ্যই করবেন। তবে আপনাদের সিনিয়র নেতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে করবেন। ভুলভ্রান্তি সবারই হয়। তবে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ আপনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আপনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীদেরকে ধৈর্য ধরতে হয়। তাড়াহুড়া করবেন না। আপনার দিকে অনেকেই চেয়ে আছে। আপনার সঠিক সিদ্ধান্তে আন্দোলন গড়ে উঠবে। আর আন্দোলন গড়ে না উঠলে সহজে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে না।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের আকাশে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। তার একটি হল ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা তাদের মধ্যে ৫ লক্ষ যুবক যুবতী যাদের জীবনের আশা নেই। তাদেরকে ভাসানচরে রেখে জঙ্গি বন্ধ করতে পারবেন না। বিচার হত্যাকাণ্ড করে জঙ্গি দমন করতে পারবেন না। বিচারের নামে অবিচার করে জঙ্গি দমন করতে পারবেন না। তাই বিচারকদের বলছি আপনাদের কেউ একদিন জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে সেই সময় আর বেশি দূরে নাই।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, আপনি আমাদেরকে শেখালেন, কিভাবে কালোকে সাদা; সাদাকে কালো করতে হয়। আজকে মিথ্যা মামলায় বিচারপতি কে রায় দিতে বাধ্য করা হয়। আপনাকেও লাল ঘরে যেতে হবে তখন বুঝবেন বেগম জিয়ার কষ্ট কতটা আপনিও পারবেন না।

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, জিনাত সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, শাহবাগ থানা কৃষকদলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত