প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া ভিক্ষুকের খপ্পর থেকে বাঁচার কৌশল শিখিয়েছে ইসলাম

আরিফুল কাদের : ধন-সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তায়ালা। তিনি যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করেন। এজন্য এ সম্পদ অর্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাঁর বিধি-নিষেধ মেনে চলা আবশ্যক। সৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন এবং সৎ পথে তা ব্যয় করা হলেই তার হিসাব প্রদান করা সহজ হবে। কিয়ামতের দিন যে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোন মানুষ সামনে যেতে পারবে না, তম্মধ্যে দু’টি প্রশ্নই ধন-সম্পদ বিষয়ক। প্রশ্ন করা হবে, কোন পথে সম্পদ উপার্জন করেছ এবং কোন পথে উহা ব্যয় করেছো?

সন্দেহ নেই, ধন-সম্পদ নিজের আরাম-আয়েশ এবং পরিবারের ভরণ-পোষণের ক্ষেত্রে ব্যয় করার অনুমতি ইসলামে আছে এবং অনাগত সন্তানদের জন্য সঞ্চিত করে রাখাও পাপের কিছু নয়। কিন্তু পাপ ও অন্যায় হচ্ছে, সম্পদে গরীব-দুঃখীর হক আদায় না করা। অভাবগ্রস্থ মানুষের দুঃখ দূর করার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা। তাই আল্লাহর দেয়া সম্পদ তাঁরই উদ্দেশ্যে দান-সদকা করা উচিত।

আর দান-সদকা করতে গেলে আমাদেরকে অনেক ধরণের ব্যক্তির সম্মুখীন হতে হয়। কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসবে গ্রহণ করে নিচ্ছে। কেউ কেউ মাদরাসা-মসজিদের নামে ভুয়া কুপন ছাপিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। রাস্তা-ঘাটে ও গাড়িতে যাত্রীদের বিরক্ত করছে। যেগুলে বলা চলে এক প্রকার প্রতারণা। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এরা আল্লাহ ও তার নেক বান্দাদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। তারা অন্য কাউকে নয় নিজেদেরই প্রতারিত করছে। অথচ তারা উপলব্ধি করতে পারছে না। (আসলে) এদের কলবে রয়েছে ব্যাধি। (প্রতারণার কারণে) আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি। কেননা তারা মিথ্যা বলেছিল।’ (সূরা বাকারা : ৯-১০)

শুধু তাই নয়, যারা এসব প্রতারণামূলক কাজে লিপ্ত থাকবে তাদের ব্যাপারে ইসলাম থেকে খারিজ হওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে বিশ্বনবির (সা.) পক্ষ থেকে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে, সে আমাদের লোক নয়। আর যে কেউ কাউকে প্রতারিত করবে, সেও আমাদের লোক নয়। অর্থাৎ সে আমার উম্মত নয়।’ (সহিহ মুসলিম)

আমাদের উচিত হলো, এসব প্রতারকদের হতে দূরে থাকা। প্রশ্ন হলো- আমরা ওদের চিনবো কিভাবে? তার জবাব মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে সুন্দরভাবেই বর্ণনা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী, (ইসলামের প্রতি অমুসলিমদের) হৃদয় আকৃষ্ট করার জন্য, দাস মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে জিহাদরত এবং মুসাফিররা জাকাত (দান পাওয়ার) হকদার। এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা আত তওবা: ২০)

অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের দান সেই অভাবীরা পাবে, যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে নিবেদিত যে তারা জীবিকার খোঁজে বের হতে পারে না। তারা মানুষের কাছে হাত পাতেন না দেখে অজ্ঞরা মনে করে যে, তাদের কোনো অভাব নেই। কিন্তু তুমি তাদের লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল করলে বুঝতে পারবে। তারা কখনও নাছোড় বান্দার মতো চায় না। আর তোমরা ভালো যা কিছুই দান করবে, আল্লাহ অবশ্যই সে ব্যাপারে সব জানেন।’ (সূরা বাকারা : ২৭৩)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত