শিরোনাম
◈ ময়মনসিংহ মেডিকেলের ময়লার সঙ্গে ‘কায়দা করে’ পাচার করা হয় সিরিঞ্জ-ক্যানুলা-স্যালাইন, পরে পাইকারি দরে বিক্রি ◈ চার জেলার ২৯ বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বাড়াতে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের, অগ্রাধিকার পাবে গাড়ি ও জ্বালানি খাত ◈ সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, চলছে নিরাপত্তা যাচাই ◈ পিএইচপি কী, এটি ঘিরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা-সংকট সৃষ্টি হয়েছে কেন? ◈ বিশ্বে প্রথমবার মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত, ফ্রান্সে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ বিফ‌লে গে‌লো ইংল‌্যা‌ন্ডের ব্রুকের ডাবল সেঞ্চুরী, ৪২৯ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জয়  ◈ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাইতে থানায় রুমিন ফারহানা, ওসির সাথে তুমুল বাগবিতণ্ডা (ভিডিও) ◈ থাইল্যান্ডে ‘সয়েল ফিভারে’ ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭০ জন ◈ এবার বাংলাদেশের দুর্গাপূজার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন, বললেন ‘শাবাশ বাংলাদেশ!’

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৪:১৬ সকাল
আপডেট : ৩০ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৪:১৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নওগাঁয় ভেজাল সার কারখানার সন্ধান

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় আবারও মিলেছে ভেজাল (নকল) সারের কারখানার সন্ধান। মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা প্রশাসন শিল্প নগরী (বিসিক) এর পেছনে শালুকা গ্রামে ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনা করে ৪৭০ বস্তা নকল সার ও সার তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর পালিয়ে গেছে কারখানার মালিক ইমদাদুল হক। তিনি যশোর জেলার বাঘাপাড়া থানার কৃষ্ণনগর গ্রামের বদর উদ্দিন আহমেদের ছেলে। অভিযানের সময় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাইসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শালুকা গ্রামের জিল্লুর রহমানের নাফি পাখি সংগ্রহ শালা নামের গুদামে দীর্ঘদিন থেকে টার্কি মুরগি ও কবুতর পালন করতেন। এরপর বেশকিছু দিন থেকে গুদামটি পড়েছিল এবং ভাড়া দেয়ার জন্য তিনি নোটিশ দেন। গত এক মাস আগে জিল্লুর রহমান তার ভবনটি এক বছরের জন্য ভাড়া দিয়েছেন ইমদাদুল হক নামের ওই ব্যক্তিকে। এরপর থেকে সেখানে রাতের বিভিন্ন সময় ট্রাক দিয়ে মালামাল আসা-যাওয়া করা হত। কারখানায় কাজ করা কয়েকজন মহিলাকে দিনে ২০০ টাকা পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করে নিতেন। তবে কি মালামাল আসে তা জানেন না স্থানীয়রা।

এছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হতো না। তবে সেখান থেকে কীটনাশকের গন্ধ বের হতো। এ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার কারখানার মালিককে বলেছেন কারখানাটি বন্ধ করার জন্য। তারপরও ইমদাদুল হক তার কারখানাটির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুদামের ভিতরে বেশকিছু বস্তা প্যাকেট করা আছে। বস্তার পাশেই মাটি জাতীয় সার তৈরীর উপকরণ পড়ে আছে। এছাড়া সার তৈরীর সরঞ্জাম ও কীটনাশক স্প্রে মেশিন রাখা ছিল। ডিএমপি সার তৈরী করার জন্য এক প্রকার আঠাও ছিল। আঠা মাটির সাথে মিশিয়ে গুটি গুটি তৈরী করে ডিএপি সার করা হতো।

স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আফজাল হোসেন বলেন, শুনেছি সেখানে কীটনাশক ও ফিড তৈরী করা হয়। কাউকে ভীতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়না। তারা রাতে মালামাল আনা নেয়া করে। তবে সেখানে যে ভেজাল সার ও কীটনাশক তৈরী করে তা স্থানীয়রা জানত না।

গুদামে পাশের বাড়ীর গৃহবধু তারা বেগম ও রোজিনা বলেন, কারখানা থেকে কীটনাশকের প্রচুর গন্ধ বের হতো। এতে করে আমাদের ও বাচ্চাদের মাথা ব্যাথা করত। কারখানার মালিককে বেশ কয়েকবার ডেকে নিষেধ করা হয়েছিল। তিনি কারখানাটি বন্ধ করে দিবেন বলেও জানান। কিন্তু সেখানে যে ভেজাল সার হচ্ছে তা জানা নাই।

গুদাম মালিক আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান চৌধূরী বলেন, ইমদাদুল হক নামে ওই ব্যাক্তি তিন বছরের জন্য গুদামটি ভাড়া নিতে চেয়েছিলেন। তবে আমি এক বছরের জন্য প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা হিসেবে ভাড়া দেই। তারা বলেছিল মালামাল মজুদ ও সরবরাহ করবে। গত একমাস হলো ভাড়া নিয়েছে। এরপর থেকে গুদামে তারা কি করছে তা আমার জানা নেই। যেহেতু আমি এই কারখানায় থাকি না।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই এলাকা পরিদর্শন করা হয়। এরপর গুদামের মধ্যে দেখা যায় তারা মাটি দিয়ে দস্তা, বোরন, জীপসাম তৈরীর চেষ্টা করছিলেন। কারখানার মালিকের কাছ থেকে কাগজপত্র চাওয়া হয়। তারা ‘পেট্রোলোফ’ নামে একটি কোম্পানির কাগজপত্র দেখিয়েছেন যা ছিল ঢাকার বনানী ঠিকানা। এছাড়া ‘নিউ এগ্রো পাওয়ার’ নামে কিছু পলি প্যাকেট দেখায় যেটার সাথে রেজিস্ট্রেশনের কোন মিল ছিলোনা। তারপর সেই প্যাকেটগুলো জব্দ এবং গুদামটি তালাবদ্ধ করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমান আদালত নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। এরপর ৪৭০ বস্তা নকল সার ও সার তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এগুলো ফসলের জন্য কোন উপকারতো নয়, বরং কৃষকদের সাথে প্রতারনা। মাটির সাথে রং মিশিয়ে দিয়ে তারা প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাটির সাথে রং মিশিয়ে সার তৈরী করে কৃষকদের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর সাথে আর কিছু আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ যা করা যায় সে ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলার মান্দা উপজেলার বৈদ্যপুর বাজারে নকল সার ও কীটনাশক কারখানার সন্ধান এবং ৩ সেপ্টেম্বর পরানপুর ইউনিয়নের দক্ষিন পরানপুরে নকল কীটনাশকসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

  • সর্বশেষ