প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপবাস কার জন্য?

ড. এমদাদুল হক :  মূলাধার চক্রের রঙ লাল। জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধির নিয়ামক এ চক্র। কামশক্তির আঁধারও এটি। এই চক্রে সমস্যা থাকলে যৌন দুর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। লাল রঙের খাদ্য এই চক্রকে উজ্জীবিত করে। যেমন : বীট, আঙুর, চেরি, তরমুজ, স্ট্রবেরি, পেঁয়াজ ইত্যাদি। এর বাইরেও কিছু খাদ্য মূলাধার উপযোগী, যেমন : ইসুবগুলের ভুসি, তোকমা, কালিজিরা, মধু। লাল মাংস এই চক্রকে উজ্জীবিত করে বটে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে।

 

স্বাধিষ্ঠান চক্রের রঙ কমলা। এটি লোভ, কামনা, বাসনা নিয়ন্ত্রণ করে। যারা লোভ কামনা, বাসনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যাদের জীবিকা দ্রোহবর্জিত নয়- তাদের এই চক্রে সমস্যা আছে। এই চক্রকে ক্রিয়াশীল করে কমলা রঙের খাদ্য। যেমন : কমলা, গাজর, মধু, কুমড়া, দারুচিনি ইত্যাদি।

 

মণিপুর চক্রের রঙ বেগুনি। এটি জীবনীশক্তি, আবেগ, বাসনা নিয়ন্ত্রণ করে। বেগুন, বেগুনি রঙের আঙুর, চেরি এবং কিছু জৈব উদ্দীপক খাদ্য ও পানীয় এদের জন্য উপযোগী।

 

অনাহত চক্রের রঙ সোনালী। এটি আবেগ, রাগ-অনুরাগ, প্রেম, বিরহ নিয়ন্ত্রণ করে। এই স্তরে মানুষ প্রেম ও বিরহের তাৎপর্য বুঝতে শেখে। এই চক্রকে ক্রিয়াশীল করে সোনালী ও হলুদ রঙের খাদ্য। যেমন : গম, ভুট্টা ইত্যাদি।

 

বিশুদ্ধ চক্রের রঙ ধূসর। এটি স্মৃতি, কল্পনা, বোধ নিয়ন্ত্রণ করে। এ চক্রের ক্রিয়াশীলতা মানসিক শক্তি ও মনের ভাব প্রকাশক। যারা ভাব প্রকাশ করতে পারে না, পরিবারে ও সমাজে মিলেমিশে থাকতে পারে না, তাদের বিশুদ্ধ চক্র জাগ্রত নয়। ধূসর রঙের খাদ্য এ চক্রকে ক্রিয়াশীল করতে সহায়তা করে। যেমন বাদাম, গুড়, লাল চিনি। সবুজ শাকসবজিও তাদের জন্য উপকারী। আজ্ঞা চক্রের রঙ সাদা। আজ্ঞাচক্রে মহাকাল শুক্ল নামে বিরাজ করেন। আজ্ঞা অর্থ আদেশ। আদেশ আসে উৎকৃষ্ট হতে- পালন করে নিকৃষ্ট ভৃত্যাদি। রূপ, রস, গন্ধ স্পর্শ ইচ্ছা নিয়ন্ত্রিত হয় এই চক্র দ্বারা। আজ্ঞা চক্র জাগ্রত হলে সৃষ্টিশীল কাজ করার ক্ষমতা আসে। এই চক্রের খাদ্য ভাত, আলু, জল ইত্যাদি। আজ্ঞা পালনের মাধ্যমে সহ¯্রার চক্রে উত্তরণ ঘটে। সর্বভ‚তে আমির উপলব্ধি হয়। সহ¯্রার চক্রের কোনো রঙ নেই। এটি সচ্চিদানন্দ স্বরূপ। সচ্চিদানন্দ থেকে প্রবাহিত হয় ‘আনন্দধারা’! সচ্চিদানন্দে সব ক্ষুধার নিবৃত্তি ঘটে এবং ‘তার নিকটে বাস’ শুরু হয়। তাই সহ¯্রার চক্র যাদের জাগ্রত- তাদের খাদ্য হয় ‘উপবাস’।

 

কমবেশি সকলেই স্থূল শরীর আঁকড়ে থাকে। আনন্দময় কোষের নাগাল পায় কম মানুষই। ফলের মূল্য সবাই বুঝে, ফুলের মূল্য বোঝে ক’জন? বেশিরভাগ মানুষ জানেই না যে, আনন্দময় কোষ বলতে কিছু আছে। দেহ হচ্ছে ঈশ্বরের মন্দির। মন্দিরের অবহেলা নয়- প্রযতœ করা কর্তব্য। যারা দেহকে ধ্বংস করে আধ্যাত্মিক সাধনার উপদেশ দেয়, তারা আধ্যাত্মিক নয় মোটেও। দেহের তাল ঠিক না থাকলে মনের তাল ঠিক থাকে না। মানবদেহ পরমা প্রকৃতির এক অনন্য উপহার- এটি এক মহারহস্যও বটে।

 

খাদ্যের মধ্যে দেহের পুষ্টি যেমন সুপ্ত থাকে তেমনি সুপ্ত থাকে আত্মার পুষ্টি। যারা খাদ্য থেকে শুধু দেহের পুষ্টি নিতে জানে তাদের দেহ মোটাতাজা হয় কিন্তু আত্মা শুকিয়ে যায়। শুধু দেহের পুষ্টির কথা ভাবলে যেমন চলবে না, তেমনি শুধু আত্মার পুষ্টির কথা ভাবলেও চলবে না। সেই সাজানো মন্দিরের কোনো মূল্য নেই যে মন্দিরের ভেতরে ঈশ্বর নেই। আত্মা যদি জাগ্রত না হয়, যদি মনুষ্যত্বের উদ্বোধন না ঘটে, তবে অনাহারে কোনো লাভ হবে না। অনাহার পর্ব শেষ হলে সে আবার খাদ্যের দিকে ঝুঁকে পড়বে। কারণ ভেতরে ভেতরে সে ক্ষুধার্ত। যারা বেশি খায় তাদের কম খাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করার আগে মনের ক্ষুধা, প্রাণের ক্ষুধা, আত্মার ক্ষুধা, আনন্দের ক্ষুধা নিবৃত্তি করার উপায় অনুসন্ধান করা শ্রেয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত