কান্তা রায় : ১৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে কুড়িগ্রামের শত বছরের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন। দখলদাররা বাড়িঘরসহ নানা ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করে থাকলেও এ নিয়ে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের কোন তৎপরতা নেই। এদিকে ১৪ বছর ধরে চিঠি চালাচালিতে ঝুলে আছে পুরাতন স্টেশনের জায়গা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রস্তাবনাটি খতিয়ে দেখা হবে। সূত্র : সময় টিভি
শত বছর আগে লালমনিরহাটের তিস্তা রেলওয়ে জংশন থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত রেলপথ চালু হলে শহরের শেষ প্রান্তে স্থাপন করা হয় কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন। এরপর ১৯৬৮ সালের দিকে শহরের ঢোকার পথে কালে নামক এলাকায় কুড়িগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করে চিলমারী পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে পুরাতন স্টেশনটি।
এ অবস্থায় ২০০৩ সালে নতুন রেলওয়ে স্টেশন থেকে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হলে স্টেশনটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে প্লাটফরম থেকে শুরু করে পুরো ইয়ার্ডের প্রায় ২০ একর জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, ‘এতো বড় জায়গাটা পড়েই আছে। কিছু একটা করলে আমাদের কাজে আসে। জায়গাটা জাঁকঝমক হয়ে উঠলে আমরা কর্ম করে খেতে পারতাম।’
এখানে পরিকল্পনা মাফিক ট্রাক-নৈশকোচ স্ট্যান্ডসহ কর্মসংস্থানমূলক কিছু করা যেতে পারে বলে মনে করেন শহরের সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক।
তিনি বলেন, ‘এখানে পরিকল্পনা মাফিক বাসস্ট্যান্ড, মার্কেট কিংবা শিশুপার্ক করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
পৌরসভার প্যানেল মেয়র জানান, পুরাতন স্টেশনের জায়গা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ১৪ বছর ধরে চিঠি চালাচালির মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাসুদুর রহমান বলেন, ‘জায়গাটা আমাদের দেওয়া হলে, এখানে নৈশকোচ ও বাস টার্মিনাল ও মার্কেট করতে পারতাম। ফলে এখানে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হত।’
অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবনা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজুয়ানুল হক বলেন।
তিনি বলেন , ‘অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ চলমান প্রক্রিয়া। আমরা পরবর্তীতে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো। পৌরসভা কর্তৃক বাসস্ট্যান্ড করার যে প্রস্তাবনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।’
কুড়িগ্রাম মৌজার অধীনস্থ পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের সাড়ে ১৭ একর জায়গা রেল ভূ-সম্পত্তি বিভাগ ৩০ জনকে লিজ দিয়েছে বলে জানা গেছে।