প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সড়ক চলাচল-ব্যবস্থায় সবুজায়ন

সুমাইয়া সারওয়াত : সমাজের উন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধি অনেকটাই নির্ভর করে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। ব্যক্তিগত জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়াও, পরিবহন ব্যবস্থার বড় প্রভাব আছে আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর। ঘনবসতি আর নগরায়নের মাত্রা বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে হুহু করে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। যেমন বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ি, তেমনই গণপরিবহনের। অধিকাংশ মোটরযান ফসিল তেলে চলে। যা কিনা পরিবেশ দূষণকারী । পৃথিবীর ৯৫ শতাংশ গাড়ি চলে পেট্রোলিয়াম জাতীয় জ্বালানী- যেমন গ্যাসোলিন বা ডিজেল, দিয়ে। আর এ থেকেই কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজোন, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন এবং হাইড্রোফ্লুরোকার্বন জাতীয় গ্রীনহাউজ গ্যাস উৎপন্ন হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে পৃথিবীতে গ্রীনহাউজ গ্যাসের ৭৫ শতাংশের জন্যই দায়ি এই যানবাহনের জ্বালানী। আর এই গ্রীনহাউজ গ্যাসের প্রভাবের কারণেই বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, পাল্টে যাচ্ছে জলবায়ু। এসবের কারণে নানা ধরনের মরণঘাতি রোগের প্রকোপও বাড়ছে।

এসবের বাইরে আরও একটি নেতিবাচক দিক রয়েছে বর্তমানে চলমান সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায়। শহরাঞ্চলে যে বায়ুদূষণ এর মূল কারণ হচ্ছে এই যানবাহনগুলো। গরীব ও মধ্য-আয়ের দেশগুলোতে যানবাহনজনিত এই জটিলতা আরও বেশি। এর কারণ হচ্ছে এই দেশগুলোতে সাধারণ আগের ব্যবহৃত বা পুরানো যানবাহন বেশি চলাচল করে। তাছাড়া এই দেশগুলোতে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থাপনাও ভালো নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গবেষণায় দেখা যায়, ওজোন ও দূষিত বায়ুর কারণে এইসব এলাকায় এ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের জটিলরোগ সমূহের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

এছাড়া ভূ-পৃষ্ঠের ওজোনের কারণে আমাদের ইকো-সিস্টেম ক্রমাগত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এর চূড়ান্ত নেতিবাচক প্রভাব যেয়ে পড়ছে কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তার উপর। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যে শব্দ দূষণ তারও একটা প্রধান কারণ হচ্ছে এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন। অনেকে হয়তো বলবেন শব্দ দুষণ তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যে তেমন ক্ষতি করে না।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা হৃদরোগ এবং করোনারি আর্টারির জটিল সব রোগ সৃষ্টি করে। আর ওয়াইল্ড লাইফ বা প্রাণিজগতের কথা ধরি, তাদের জন্যও একটা বড় হুমকি হচ্ছে এই শব্দদূষণ। এখন আমরা যখন সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থার এই ক্ষতিকর বিষয়গুলো সম্পর্কে জানি, তখন এ বিষয় প্রতিকার নিয়েও আমাদের চিন্তা করতে হবে। সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থাকে সবুজায়ন করাই হচ্ছে এ ক্ষেত্রে একটা সমাধান। কিন্তু সেটা কিভাবে করা যেতে পারে? পরিবহণ ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব করতে প্রথম যে পদক্ষেপটি নেয়া দরকার তা হচ্ছে- যানবাহনগুলোকে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া জ্বালানির উপর কম নির্ভর করা। সেই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর বেশি বেশি নির্ভর করা।

এ ছাড়াও সড়ক চলাচল ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে, আইন ও নীতিমালাকে আধুনিকায়ন করতে হবে, পুরানো যানবাহনকে এড়িয়ে চলতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, নাগরিকদের এই অস্বাস্থ্যকর সড়ক চলাচল ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। লেখক পরিচিতি : গবেষণা সহকারী, বিলিয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ