প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিগন্তে নতুন সূর্য উঠুক, এদেশেও

সালেহ্ রনক : ‘#মি টু’ ভাইরাসের হঠাৎ সংক্রমণে বেসামাল পুরো বিশ্ব। উপকারী এই ভাইরাসটি মূলত যৌন নির্যাতিত, প্রতারিত এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নারীর মননে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে তীব্র সংক্রামিত করে তোলে যার ফলশ্রুতিতে মুখোশ খুলে পড়ে সমাজে নিজের গড়া মসনদে বসে তা কোন মুখোশধারীর।এই’#মি টু’ ভাইরাসটির বিস্তার এতোই দ্রুত যে,খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও আক্রান্ত হয়েছে। এই সেই আক্রান্ত না! অনেক কুতুবের লেজেগোবরে অবস্হা! একে ভাইরাস না বলে কি বলা যায়? মাত্র দুই শব্দ, কিন্তু অসীম তীব্রতা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে এক মহাদেশ থেকে আর এক মহাদেশে।

শব্দের মতো শব্দ হলে তা যতই ছোট হোক না কেন তার তাৎপর্য,গভীরতা কিংবা ওজন জানান দিতে খুব একটা সময় নেয় না। যেন নিজেদের তাগিদেই শব্দরা দেশ-কাল-সময়-এর সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। এসব শব্দরা একটু আলাদা হয়ে জন্ম নেয়, সময়ের প্রয়োজনে এরা জোট বেঁধে সমাজের, ব্যক্তি জীবনের অনেক গোপন সত্য প্রকাশে সাহসী ভূমিকা পালন করে, কাউকে কাউকে করে তোলে অধিকার সচেতন, প্রতিবাদী। কখনো কখনো যোগায় লজ্জার প্রাচীর ভাঙ্গার সাহস।’#মি টু’ তেমনি সাহসী, তাৎপরপূরেণ্য শব্দ যুগল যার দ্বারা বোঝানো হয়েছে ‘আমিও’ যৌন হেনস্তার শিকার ।

‘#মি টু’ এর দুঃসাহসিক যাত্রার ব্যপ্তিকাল খুব একটা কমও নয়। কৃষ্ণাঙ্গ নারী তারানা বুর্কে ২০০৬ সালে প্রথম যৌন নির্যাতন বিরোধী ‘মি টু’ আন্দোলন শুরু করেছিলেন৷এরপর হলিউডের প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারির খবর ফাঁসের সূত্র ধরে মার্কিন অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো ‘মি টু’ হ্যাশট্যগের এই প্রচারণা শুরু করেন আবারো৷ যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা প্রকাশ করতে নারীদের উৎসাহিত করতে এ প্রচারণা দ্রুত জনপ্রিয় হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে৷ একসময় যৌন নিপীড়নবিরোধী এই প্রচারণায় নারীদের পাশাপাশি যোগ দেয় পুরুষেরাও৷ সামাজিক মাধ্যমে ভাগাভাগি করেন তাঁদের যৌন হয়রানির কথা।অবাক হবার মতোই ঘটনা, কয়েক দশকের মধ্যে সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে যার আঁচ থেকে বাঁচতে পারেনি ভারতও।

‘#মি টু ‘ কে ঝড়ের সাথে তুলনা করলেও খুব বেশি বলা হবে না। ঝড়ের মতো করেই হঠাৎ করে এসে তছনছ করে দিয়ে গেছে অনেক রথী মহারথীদের সাজানো সাম্রাজ্য। ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেছে মিথ্যার উপর,প্রতারণা উপর দাঁড়ানো মসনদ।দেখে শুনে মনে হচ্ছে ঝড়টা বেশ ভালোই তান্ডব চালিয়ে ভারতদেশে। যৌন হেনস্তা, নির্যাতনের অভিযোগে ভুক্তভোগীরা যাদের দিকে আঙ্গুল তুলেছে তা দেখে সাধারণ মানুষ রীতিমত থমকে গেছে। অপ্রত্যাশিত ভাবে কারো কারো নাম সামনে চলে আসায় বেদনাহত হয়েছে,শ্রদ্ধার জায়গাটা বিনষ্ট হয়েছে, বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে। ভারতে ‘ #মি টু’ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর একের পর এক নারী যৌন হয়রানির শিকার হওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। সবচেয়ে বেশি অভিযোগের তীর শক্তিশালী দুই ক্ষেত্র বিনোদন এবং সংবাদমাধ্যমের দিকে। এমনকি আন্দোলনের ধাক্কা থেকে রেহাই পায়নি নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা ও বলিউডে তো রীতিমত ঝড় বইছে। সাবেক মিস ইন্ডিয়া তনুশ্রী দত্ত জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে ভারতে ‘#মি টু’ আন্দোলনের সূচনা করেন। সেই যে শুরু হলো আর থামার নাম গন্ধ নেই। নামের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েই চলছে। পরিচালক, প্রযোজক, গায়ক ও অভিনেতারা এই ঝড়ের কবলে বেশ ভালোভাবেই পড়েছেন।এই আন্দোলনে এমন সব তারকার নাম উঠে এসেছে, যা শুনলে সত্যি হজম করা কষ্টকর।কে নেই এই তালিকায়? অভিনেতা অলোক নাথ, পরিচালক সাজিদ খান, সুভাষ ঘাই, গায়ক কৈলাশ খের, আনু মালিক, অভিজিৎ ভট্টাচার্য, লেখক চেতন ভগতসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে এই আন্দোলনের হাত ধরে। অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান, ভূষণ কুমার, শত্রুঘ্ন সিনহা,আরবাজ খানদের দিকেও। সাজিদ খান তো আবার মনে হচ্ছে সবার চেয়ে এগিয়ে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হেনস্তার অভিযোগের পর অক্ষয় কুমার ‘হাউসফুল ফোর’ ছবির শুটিং বন্ধ রেখেছেন। ভারতদেশে এখন নামে বা বেনামে অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে,কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার একের পর এক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ভারত সরকার একটি উপদেষ্টা কমিটিও গঠনের ঘোষণা দিয়ে ফেলেছে। উপদেষ্টা কমিটিতে জ্যেষ্ঠ বিচারক এবং আইন কর্মকর্তারা থাকবেন। যারা #মি টু আন্দোলনে উঠে আসা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন।

অনন্তকাল ধরে মেয়েরা পৃথিবীর সর্বত্র যৌন হিংসার শিকার হয়ে আসছে।নানা উপায়ে, নানা কায়দায়, নানান জায়গায়। তা কৃষিকাজ হোক, দিনমজুরের কাজ হোক, বাসা-বাড়ি,অফিস-আদালতে ঝি এর কাজ হোক কিংবা অন্য যে কোনো কাজের ক্ষেত্রই হোক, ধনী-গরিব, সাদা-কালো নির্বিশেষেই পৃথিবীর সকল দেশে সকল সমাজে নারীরা অরক্ষিত অনিরাপদ এবং সকল দেশে, সকল সমাজে নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ঘটে চলেছে। এবং দুঃখজনক ও হতাশার বিষয় সেই হেনস্তার ৭৫% ই নথিভুক্ত হয় না। কারণ, কাজ হারানোর ভয় থাকে, প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার শিকার হওয়ারও ভয় থাকে। ফলশ্রুতিতে নির্যাতিতার সেই ভয়ই নির্যাতনকারীর সাহস আরো বাড়িয়ে দেয়, তাকে ক্রমশ অদম্য করে তোলে।শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের, নিয়োগকারীর বিরুদ্ধে নিযুক্তের অভিযোগের তীর যেন কেবলই ধেয়ে আসছে। কাজের জায়গায় বিশেষ করে পুরুষ নিয়ন্ত্রিত কাজে নিজস্ব ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কখনও ভয় দেখিয়ে মেয়েদের প্রতি যারা অন্যায় যৌনাচরণ করেছেন, হঠাৎই যেন ওই ‘মি টু’ আজ সেই সব নামী দামী ব্যক্তিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এতদিনের এক অব্যক্ত যন্ত্রণার নৈশব্দকে খান খান করে আছড়ে ফেলছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। যার অভিঘাতে এখনও পর্যন্ত বোধহয় ৮৫ দেশের লক্ষ লক্ষ নারীর হৃদয়কে উদ্বেলিত করেছে, আন্দোলিত করেছে।

এর শেষ কোথায়? কোথায় গিয়েই বা ঠেকবে এই আন্দোলনের ভবিষ্যত? কেউ কেউ আবার এর মাঝে অন্য গন্ধও খুঁজে পাচ্ছে। কারো কারো মতে সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে নারীরা এ কাজ করছেন।চমকে যাবার মতো খবর, হলিউডের প্রযোজক হার্ভি ওয়েইনস্টেইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ‘মি-টু’ আন্দোলনের সূচনায় নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা নিয়েছিলেন যিনি, সেই ইটালিয়ান অভিনেত্রী আসিয়া আর্জেন্টোর বিরুদ্ধেই এবার যৌন কেলেংকারির অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়,এত দিন নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা প্রকাশ করেছেন ‘#মি টু’ দিয়ে। এবার নতুন শব্দ নিয়ে হাজির হয়েছেন পুরুষেরা। যৌন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে চালু হয়েছে ‘#হিম টু।

শিবের গীত গাইতে গিয়ে আসল কথাই বলা হল না এখনো। ভারতদেশের ‘#মি টু’ ঝড়ে আন্দোলিত হলেও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে খুব বেশি চিন্তিত নই। আর আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য ভারতদেশ নয় সীমানা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ।ভারতের যেকোন ইস্যু নিয়ে কম্পন তৈরি হলে খুব সহজেই বাংলাদেশে এসে তার প্রভাব পরে। তা যাই হোক, রাজনীতি থেকে শুরু করে নতুন সিনেমা মুক্তি থেকে সমকামী আন্দোলন সবকিছু। ‘#মি টু’ ও বাদ যায়নি, এর প্রভাবও পড়েছে রাজনীতিক,আমলা,শিক্ষক,শিল্পী,প্রিন্ট মিডিয়া থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক মিডিয়া পর্যন্ত। সর্বত্র’ #মি টু’ নিয়ে আলোচনায় সরব। কেউ কেউ আনন্দিত কেউ কেউ বা আতংকগ্রস্ত। অনেকে স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন, এই ভেবে যে ‘#মি টু’ ঝড় ভারতদেশের মতো বাংলাদেশেও আছড়ে পড়বে, লন্ডভন্ড করে দিয়ে যাবে অনেকের সাজানো পৃথিবী, মুখোশ খসে পড়বে অনেক অনেক রথী মহারথীদের।

আমি অবশ্য এমনটা ভাবছি না। বাংলাদেশে’ #মি টু’ আন্দোলনের জোরালো কোন সম্ভবনা দেখছিনা। আগামীতে দুই একজন এগিয়ে আসলেও হালে পানি পাবে বলে মনে হচ্ছে না। যদিও কেউ আদৌও এগিয়ে আসবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন। ভারতদেশে কোটি কোটি মানুষ খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করলেও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশে, দাবিদাওয়া আদায়ে, নারী অধিকার রক্ষা ও আদায়ের সূচকে বাংলাদেশ থেকে অনেক অনেক এগিয়ে।আর এইসব মানদন্ডই সেদেশে ‘#মি টু’ আন্দোলনকে বেগবান করেছে। ভারতদেশের শিক্ষিত নারী সমাজের বিরাট অংশ নিজেদের অধিকার রক্ষায় বেশ সচেতন ও প্রয়োজনে দাবী আদায়ে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। সমাজের লোকচক্ষুকে এরা খুব একটা ভয় পায়,লজ্জা জিনিসটাকে অলংকার হিসাবেও মনে করে না।

সমাজ বিনির্মাণে তৈরি হওয়া সব ঝড়ই কি দেশ, মহাদেশ, কালের সীমানা পার হয়? হয় না। তাহলে সভ্যতা পৌঁছে যেত পৃথিবীর সকল জনপদে।’#মি টু’ আন্দোলন জোরালো হওয়ার জন্য, তীব্রতা লাভের জন্য একটি দেশে সেসব অনুঘটক থাকা জরুরী তা বাংলাদেশে অনুপস্থিত। এদেশের নারীরা শত প্রবঞ্চনার মাঝেও মুখ বুজে থাকে তবুও অধিকার আদায়ে মুখ খোলে না। এদেশে ধর্ষিতাকে সামাজিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।একসময় পত্রিকায় উল্টো ধর্ষিতার ছবি প্রকাশিত হতো,যেখানে প্রকাশ হওয়া উচিত ছিল ধর্ষকের ছবি। এই দেশে ধর্ষিতাকে অপরাধীর চোখে দেখা হয়, এবং তা সমাজের উচুতলা থেকে শুরু করে নিচুতলা পর্যন্ত একই দৃষ্টিভঙ্গি বিরাজমান। ধর্ষণের জন্য ধর্ষিতাকেই দায়ী করা হয়ে থাকে সাথে জোটে নানান অপবাদ। গ্রাম্য শালিসে তো আরও জঘন্য নাটক মঞ্চস্হ হয়ে থাকে।

ভারতদেশে যেসকল সেক্টরে যৌন হেনস্থা, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এমন নয় যে বাংলাদেশে ঐসব সেক্টরে সব সাধু বাবারা বসে আছেন!তাছাড়া আজকাল সাধু বাবারাও যৌন কেলেংকারীতে বেশ ভালোভাবেই ফেঁসে যাচ্ছেন। তারপরও এদেশে ‘#মি টু’ আন্দোলনের ভবিষ্যত নেই বললেই চলে। এখানে কেউ নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া যৌন লাঞ্ছনার বিষয়ে মুখ খুললে প্রথমেই তাকে তার নিজের সংসার হারাতে হবে, হারাতে হবে সামাজিক জীবন।সোস্যাল মিডিয়ায় রসাত্মক ট্রলে পরিনত হতে হবে, হতে মুখরোচক গল্পের উপজীব্য। পদ মর্যাদায় থাকলে তো আরো বিপদ বাড়বে,নিতে হতে পারে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে। গরিব হলে তো কোন কথাই নাই সকল কিছুর সাথে জুটবে মৃত্যুর হুমকি, কোন কোন ক্ষেত্রে মৃত্যুও। আবার বাংলাদেশের অনাগ্রসর সমাজে অনেক ঝড় ঝঞ্ঝা পেরেয়ি গুছিয়ে নেয়া জীবনকে উলট পালট হতে দিতে চাইবেন না কারো মুখোশ খুলে দেয়ার প্রত্যয়ে কিংবা তার অপরাধের যথাযোগ্য শাস্তি প্রদানে। প্রভা, চৈতিরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে, কোন সমাজে তাদের বসবাস। আজও এদেরকে সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে নিজদের সামাজিকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে। আজও প্রভারা রসাত্মক হাসিঠাট্টার অনুষঙ্গ, জীবনপথে তাদের সংগ্রামী জীবন কারো গল্প হয় না।প্রভা, চৈতিরা মানসিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আজো যে জীবনের জয়গান গাচ্ছে তা নিয়ে কোন আলোচনা নেই।সুমনরা বহাল তবিয়তে থাকে, তাদের নিয়ে নেই সমালোচনা। তাই এই মরার দেশে কোন নারী যাবে তার বাকি জীবনটা নরক বানাতে অন্যের হাতে তুলে দিতে? আইন-প্রশাসন নামক সর্ষে আবার ভুতের ছড়াছড়ি। তাই কোন কোন দেশ কালে সত্য শুধু মাথা কুটেই মরে।
সব দেখে শুনে মন কেবলি বলে চলছে, ‘#মি টু’
হোক কিংবা’ #হিম টু’,কোন টুশব্দ হবে না এদেশ।

বিশ্বের ৮৫ টি দেশের নিজ নিজ দিগন্তে একটা নতুন দিনের সূচনা হয়েছে। ‘#মি টু’ নামক উপকারী ভাইরাস হোক অথবা ঝড়,দেখে শুনে মনে হচ্ছে কর্মজীবি নারীদের জীবনে যৌন হেনস্থা, যৌন নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রতিকার, প্রতিবাদের উপায় পাওয়া গেছে। এখন আর মুখোশধারীরা সবকিছু থেকে সহজেই পার পেয়ে যাবে না। দ্বায়িত্বশীল জায়গায় বসে এমন ঘৃণিত কর্ম করার পূর্বে অন্তত দশবার ভাববার রসদ জুগিয়ে দিয়েছে’ #মি টু ‘আন্দোলন।আগামী দিনগুলোতে দেশে দেশে ‘#মি টু’ নারীদের কিছুটা হলেও প্রেরণা জোগাবে, থাকবে রক্ষাকবচ হিসাবে। বাংলাদেশেও এর নিরব প্রভাব রয়ে যাবে, মুখোশধারীরা,অপরাধীরা একটু হলেও লাগাম টেনে ধরবে এই ভয়ে যে, বলা তো যায় না কখন কে মুখ খুলে ফেলে!

খুব করে চাই আমার দেশের পূর্ব দিগন্তেও ‘#মি টু’ নতুন সূর্য হয়ে একটি নতুন দিন বদলের পূর্বাভাস নিয়ে সত্যি সত্যিই উঁকি দিক, তীব্রতা পাক।

লেখক : শিক্ষক, সমাজকর্মী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত