প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেনাফ বীজ ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাবে

মোহাম্মদ রুবেল: দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদার মধ্যে শতকরা ২০ শতাংশ পূরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে তৈল বীজ কেনাফ চাষ করে। দেশের উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকাসহ ফসল চাষের অনুপযোগী ১০ লাখ হেক্টর জমিতে অল্প পরিচর্যা ও স্বল্প খরচে এ বীজের চাষ করা যাবে জানা গেছে বস্ত্র অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট হতে।

জানা যায়, দেশে বার্ষিক ভোজ্য তেলের চাহিদা ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ। চলতি বছর ২০১৮ সালে (জানুয়ারী-জুন) তৈল জাতীয় ফসল আমদানী করা হয় ১৩ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিকটন। যা গত বছর ছিল ১২ লাখ ৮১ হাজার মেট্রিকটন।

জুট এন্ড টেক্সটাইল প্রডাক্ট ডেভেল্পমেন্ট হতে জানা যায়, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকাসহ দেশে ফসল চাষের অনুপযোগী প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমি প্রতিবছর পতিত পড়ে আছে। অথচ এসব জমিতে অল্প পরিচর্যা ও স্বল্প খরচে অধিক ফলনশীল পাট জাত কেনাফ ফসল চাষ করে বীজ থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদন করে চাহিদার শতকরা ২০ ভাগ পূরণ হবে। এছাড়া কেনাফ আঁশ থেকে কাগজের ম- তৈরি করে নিউজপ্রিন্ট মিলের কাঁচামাল এবং কেনাফ খড়ি পার্টেক্স মিলের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। পাট ও কেনাফ আঁশ পৃথিবীর বহু দেশে শিল্পজাত দ্রব্য হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বস্ত্র অধিদপ্তর হতে জানা যায়, কেনাফ বীজ থেকে কেবল ভোজ্য তেলই নয়,এই বীজের আশঁ থেকে কটন প্রসেসিং ও জুট রেয়সের মিশ্রণে উৎপাদিত সুতা দিয়ে পাট পণ্যে বৈচিত্র্যকরণ আসবে। এর ফলে পাট পণ্যের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। পৃথিবীর বহু দেশে কেনাফ আঁশ শিল্পজাত দ্রব্য হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে ।

বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি) এম.আবু সাদাত সায়েম আমাদের অর্থনীতিকে জানান, কটন প্রসেসিং সিস্টেমে সুতা তৈরির মেশিন উদ্ভাবান হয়েছে। পাটজাত কেনাফকে ব্যবহারের জন্য ২ ইঞ্চি করে কেটে ক্যামিকেল ট্রিটমেন্ট করে, এ মেশিন দ্বারা কটন প্রসেসিং সিস্টেমে জুট কটন, জুট ওুল ও জুট সিল্ক এবং জুট রেয়নের মিশ্রণে উৎপাদিত সুতা মাধ্যমে পাট পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ আসবে। এরফলে পাট বস্ত্র ও পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। এতে উৎপাদিত পণ্যের খরচ কমে যাবে এবং সুলভ মূল্যে বিক্রি বাড়বে। দেশীয় উৎপাদিত এই পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক অর্জন করা যাবে।

বাংলাদেশ কৃষিগবেষণা গবেষণা উনস্টিটিউট হতে জানা যায়, দেশে তেল ফসলের মধ্যে সরিষা, চীনাবাদাম, তিল, সয়াবিন ও সূর্যমূখী প্রভৃতির চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে সরিষা, তিল , সূর্যমূখী থেকেই সাধারণত তেল উৎপাদন হয়।

সম্পদনায় শাহীন চৌধুরী, হুমায়ন কবির খোকন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ