সুশান্ত সাহা : রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে মানব পাচারকারী চক্রের ৯জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গ্রেফতারকৃতরা ওই এলাকার সেবা ট্রাভেলস এজেন্সি নামের একটি ভুয়া ট্রাভেলসের মাধ্যমে নিরীহ লোকদের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
বুধবার বিকেলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল কবির এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে শরীফুল ইসলাম ওরফে সজীব (৩৮), গোলাম মোস্তফা ওরফে কামাল (৫০), মোখলেসুর রহমান (৪০), আশাদুল হক (৩৮), আলতাফ হোসেন ওরফে রাজীব (৩৮), আসাদুজ্জামান ওরফে বাবু ওরফে আজিজ (২৯), জাহাঙ্গীর আলম (৩২), আব্দুল কাদের সরকার ওরফে নুরুন্নবী ওরফে রতন (৪০) ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে হাসান ওরফে বুলেটকে (৪৩) গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাদের কাছ থেকে ২৪ টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি পাসপোর্ট জাল ভিসা লাগানো রয়েছে। এছাড়াও ১০টি বিভিন্ন দেশের জাল ডিমান্ড লেটার, দুটি সিল, একটি কালো অফিসিয়াল ব্যাগ। ওই ব্যাগ থেকে ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান সিআইডির ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই স্বল্প-শিক্ষিত। তারা সকলে প্রতারক ও জালিয়াত চক্রের সদস্য। তারা ভূয়া ‘সেবা’ নামক ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছে। শুধু তাই নয়, তারা নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎসহ অবৈধ কার্যকলাপ করে আসছে।
তিনি জানান, তারা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জাল ভিসা ও জাল স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত করে বিদেশে লোক পাঠানোর আনুষঙ্গিক কাগজপত্র তৈরি করে। আর এসব কাজ পরিচালনার জন্য ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে স্বল্প সময়ের জন্য অফিস ভাড়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সিআইডির কর্মকতা ইনামুল কবির জানান, চক্রটি সাত যুবককে কুয়েত পাঠানোর নাম করে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তারা ৪ লাখ ২০ হাজার করে টাকা নিত। সে চুক্তিও হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে তারা ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু বাকি টাকা বিদেশে পাঠানোর দিন তারা নিত। তবে চক্রটি এখন পর্যন্ত কাউকে বিদেশ পাঠায়নি।

তিনি বলেন, ‘ভিসাগুলো আমরা যাচাই করেছি সেগুলো ভুয়া। এ প্রতারক চক্র এখন পর্যন্ত কাউকেই বিদেশে পাঠাতে পারেনি। তারা বিদেশ পাঠানোর নাম করে এই পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ জনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, যারা চক্রটির হাতে প্রতারিত হয়েছে তারা আদালতে আবেদন করলে উদ্ধারকৃত টাকা ফেরত দেয়া হবে।
এদের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত বিভাগের উপ-পুলিশ পরিদর্শক গৌতম কুমার শীল বাদী হয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। খুব শীঘ্রই এর মূল গডফাদারদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঢাকা মেট্টো দক্ষিণের রমনা ইউনিটের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, সিআইডির মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র এএসপি শারমিন জাহান, ঢাকা দক্ষিণের এসআই ও মামলার তদন্তকারী গৌতম কুমার শীলসহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।