প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই সুন্দর বালাখানাগুলো কাদের জন্যে?

আমিন হানিফ: ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকল মানুষের সঙ্গে সদাচরণের প্রতি ইসলামের নির্দেশ রয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্যই পাঠানো হয়েছে। (আল ইমরান-১১০) রাসূলুূল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আদ-দীনু নাসিহাহ্” অপরের কল্যাণ কামনাই দ্বীন।

কিন্তু উত্তম আচরণ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও কল্যাণ কামনা এগুলোা মানুষের ঊর্ধতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট। সেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে সবাইকে আল্লাহ তায়ালা এই চরিত্র দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং মানুষে মানুষে ভালোবাসা এটা কেবল মানুষেরই ঊর্ধতম চরিত্র। বর্তমানে আমরা যে সময়কাল অতিক্রম করছি, এ সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি আদর্শ অবলম্বন আমাদের বড় বেশি প্রয়োজন- তা হলো মানবপ্রীতি। মহানবি (সা.)-এর জীবনাদর্শে কখনো এই কলঙ্ক ছিলনা যে, তিনি ব্যক্তিগত কারণে কাউকে গালি দিয়েছেন। মন্দ আচরণ করেছেন। কিংবা সামান্য কটু কথা বলে কারো মনে ব্যথা দিয়েছেন। বরং তার চরিত্রমাধুর্য ছিলো এর উল্টো।

অথচ এই মহৎ গুণ, কোমল ব্যবহার আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, জান্নাতে এমন কিছুু বালাখানা থাকবে, যার ভেতর থেকে বাহির আর বাহির থেকে ভেতরের অপূর্বদৃশ্য দেখা যাবে। বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবু মুসা আশআরি রা. জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসুল!  নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর করলেন, প্রথমত- যারা মানুষের সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলে। দ্বিতীয়ত- যারা অভুক্তকে অন্নদান করে। তৃতীয়ত- যারা গভীর রাতে আল্লাহর সামনে নামাজে দাড়িয়ে থাকে। (মুসনাদে আহমদ)

কোরআনে বলা আছে-‘মানুষদেরকে সুন্দর বাকশৈলীর মাধ্যমে এক আল্লাহর প্রতি আহবান কর।’ (সুরা নাহল : ১২৫) এ ব্যাপারে রাসুল সা. এর বিদায় হজের ভাষণ থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়- “তোমরা যে যার ধর্মের ইবাদাত কর। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কর না। যারা ইবাদাতে মগ্ন তাদের ইবাদাতে বিঘœ সৃষ্টি কর না”। এ বাণীগুলোই আমাদের জীবনের জন্য অতুলনীয় বাহন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ সকল যুগের সকল মানুসের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

যার কাছে প্রয়োজন আছে তার সঙ্গেও, যার কাছে প্রয়োজন নেই তার সঙ্গেও। ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অধিকারী লোকের সঙ্গেও, অধীন ও দুর্বল শ্রেণির সঙ্গেও। স্বধর্মীও লোকের সঙ্গেও, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গেও। তবেই সব খানে শান্তি-শৃঙ্খলার বীজ অঙ্কুরিত হবে। আর এসব কিছুর উদ্দেশ্য হবে কেবল স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন। আর স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হল, মানুষকে ভালোবাসা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ