প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আপৎকালীন ধান’ চাষ শেরপুরে

ডেস্ক রিপোর্ট : বগুড়ার শেরপুরে এবার বোরোতে ফলন ভালো হয়েছে। তবে কৃষক ফসলের আশানুরূপ দাম পাননি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা লোকসানে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এরপরও তারা হতাশ নন। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই আবারও তারা নবউদ্যমে মাঠে নেমেছেন। বাড়তি আয় ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা এখন বাড়তি ফসল হিসেবে ‘আপৎকালীন ধান’ চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গেল কয়েক বছরের মতো এবারও বগুড়ার শেরপুরের কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর আপৎকালীন ফসল বলে খ্যাত জিরাশাইল ও পারিজাত ধান লাগানোর কাজ গুটিয়ে এনেছেন।

স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার ৫ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ মৌসুমের জিরাশাইল ও পারিজাত ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে সে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে এ ধান চাষ করা হয়েছে। এদিকে বোরো ও রোপা আমন মৌসুমের মাঝের ফাঁকা তিন মাসে এখানকার কৃষক বাড়তি ফসল হিসেবে এ ধান চাষ করেন। অথচ শস্যভা-ার খ্যাত উত্তরাঞ্চলের কেবল বগুড়ায়ই এ সময় প্রায় সোয়া লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এসব জমি এ বাড়তি ফসল চাষের আওতায় আনা গেলে মঙ্গাপীড়িত এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছর মধ্য জুলাই থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত রোপা আমন মৌসুম চলে। আবার একইভাবে মধ্য অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত এ দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বোরো মৌসুম হিসেবে পরিচিত। আর এ দুই মৌসুমের মাঝের সময়কে রোপা আউশ মৌসুম বলে। এ ফাঁকা সময়ে দেশের প্রায় অঞ্চল বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে কৃষক কোনো ফসল চাষ করেন না। অথচ এ এলাকার বিশাল অংশজুড়ে ওই দুই জাতের ধান চাষ করা হয়। স্থানীয়ভাবে যা বর্ষালী, আপৎকালীন বা বাড়তি ফসল নামে পরিচিত। গেল দুই যুগ ধরে কৃষকরা জিরাশাইল ও পারিজাত ধান চাষ করে আসছেন। দিন যতই গড়িয়ে যাচ্ছে, চাষের জমি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলার সাধুবাড়ী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম ওরফে সদের আলী জানান, হতাশার পরও তিনি এ বছর প্রায় ১০ বিঘা জমিতে জিরাশাইল ও পারিজাত ধান লাগিয়েছেন। গতবার যা ছিল প্রায় ৭ বিঘা। তিনি ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এ ফসল চাষ করে আসছেন। মামুরশাহী গ্রামের সোহেল হাজী জানান, তিনি এবার ২০ বিঘা জমিতে জিরা ও পারি ধান লাগিয়েছেন। তবে গেল বছর ছিল আট বিঘা। একইভাবে কৃষক গোলাম রব্বানী, লুৎফর রহমান, হায়দার আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, আশির দশকে রোপা আউশ মৌসুমে খুব অল্প পরিমাণ জমিতে ধান চাষ করা হতো। আবার যারা চাষ করত, সেটা রোপা আকারে নয়। তারা জানান, জমি তৈরি করে সেখানে ধানবীজ ছিটিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু ’৯০ সালের পর থেকে এখানকার কৃষক বাড়তি আয়ের আশায় একটি নির্দিষ্ট জাতের ধান এ ফাঁকা সময়ে রোপা আকারে চাষ শুরু করেন। সেই থেকে এখানকার কৃষককে আর পিছে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে চাষের জমির আওতা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, উপজেলার বরেন্দ্র খ্যাত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এ ফসল অধিক হারে চাষ হচ্ছে। এসব এলাকার জমি এ ফসল চাষের উপযোগী এবং পানি সমস্যাও অপেক্ষাকৃত কম। তাই এ জাতের ধান চাষে কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এছাড়া আগে উচ্চফলনশীল বীজের সমস্যা ছিল। এখন সে সমস্যা নেই। এখন ইচ্ছে করলেই একজন কৃষক বিভিন্ন জাতের ভালো ধানবীজ কিনতে পারছেন; যা থেকে ফলনও বেশ ভালো পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ

সর্বাধিক পঠিত