প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৪ জুলাই শুরু হচ্ছে এলএনজি সরবরাহ

শাহীন চৌধুরী: বহু আলোচনা ও জল্পনা কল্পনার পর অবশেষে আগামী ৪ জুলাই থেকে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হচ্ছে। পাইপ লাইনের সীমাবদ্ধতার কারনে প্রথমে শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হবে। তাতে জাতীয় গ্রিড থেকে ওই অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার সম্ভব হবে বলে দেশের সব অঞ্চলে গ্যাসের চাপ বাড়বে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতিও হ্রাস পাবে। খবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রের।

সূত্র জানায়, সরকার ২০১০ সাল থেকে এলএনজি আমাদানির প্রক্রিয়া শুরু করে। গত ২৪ এপ্রিল এলএনজি মজুত ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করার ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মহেশখালীতে আসে। তবে ওই টার্মিনাল ও সমুদ্র তলদেশের পাইপ লাইনের মধ্যেকার বিশেষ সংযোগে ত্রুটির কারনে এতদিন সরবরাহ শুরু করা সম্ভবপর হয়নি।

পরীক্ষামূলক ভাবে এক হাজার ৩০০ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কোয়ার ইঞ্চি) চাপে গ্যাস সরবরাহ শুরু করার পর ওই ত্রুটি চিহ্নিত হয়। এরপর তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত সপ্তায় ওই ত্রুটি সারানো সম্ভব হয়েছে। এখন পাইপ লাইন থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে নোঙ্গর করা এফএসআরইউ নির্দিষ্ট স্থানে এনে সমগ্র পাইপ লাইনের সঙ্গে এফএসআরইউর সমন্বয় সাধন (সিঙ্ক্রোনাইজেশন) এবং গ্যাসের চাপ ও তাপের সমন্বয়সহ আনুসঙ্গিক কারিগরি বিষয়াদি পরীক্ষা করে দেখা হবে। এরপর শুরু করা হবে সরবরাহ।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ প্রকল্প তত্ত্বাবধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরবরাহ শুরু করার জন্য সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ জুলাই। আবহাওয়া এবং অন্যান্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এর আগেই সরবরাহ শুরু করা যাবে।

তবে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলেই দেশে গ্যাসের সংকট সম্পূর্ণ মিটবে না। কারণ বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি দৈনিক প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। আর এলএনজি থেকে পাওয়ার কথা ৫০ কোটি ঘনফুট। সেক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাস সরবরাহের জন্য ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের যে পাইপ লাইনটি সম্পন্ন করা হয়েছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস চট্টগ্রামে সরবরাহ করা যাবে। অর্থাৎ জাতীয় গ্যাস গ্রিড সহায়তা পাবে সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি ঘনফুটের।

পাইপ লাইনের এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের আরেকটি পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। সেটি আনোয়ারা থেকে কর্নফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট পর্যন্ত এনে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই পাইপ লাইনের কাজ সম্পন্ন হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। তারপরই কেবল প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এর পূর্ব পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস এলএনজি থেকে সরবরাহ করা যাবে এবং চট্টগ্রামের ‘রিং মেইন পাইপ লাইন’ থেকে তা শুধু চট্টগ্রামেই সরবরাহ করা যাবে। তবে তখন জাতীয় গ্রিড থকে চট্টগ্রামে আর গ্যাস সরবরাহ করতে হবে না। তাই সেই গ্যাস দেশের অন্যত্র সরবরাহ করা হবে।

সূত্র মতে, আগামী বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ বেসরকারি খাতের কোম্পানি সামিটের মাধ্যমে আরও ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস এলএনজি আকারে আসতে শুরু করবে। তখন দেশে গ্যাসের চাহিদা হবে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট। আর সরবরাহ ক্ষমতা হবে সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাস ঘাটতি থেকে একেবারে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত