প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাকে ঘুম পাড়িয়ে নিজেই চিরঘুমে!

নিজস্ব প্রতিবেদক : তিথীকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে। এর আগেই ডোম আলমগীর লাশ কাটা ঘরের দিনের প্রায় ৫টি লাশ কেটে বুঝিয়ে দিয়ে আজকের মতো বাসায় চলে গেছেন। অফিস সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তিথির লাশ নিয়ে লাশকাটা ঘরে আসে হাসপাতালের কর্তব্যরত পুলিশ। কারণ ওর মৃত্যুটা আর দশজনের মতো কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তাই এখন লাশের মালিক পুলিশ। তবে আজ আর তিথীর লাশ কাটা হচ্ছেনা। আগামীকাল ডোম এসে লাশ কাটার পর স্বজনদের কাছে কাটা লাশটি বুঝিয়ে দেয়া হবে। এরপর অন্তুষ্টিক্রীয়া সম্পন্ন করা হবে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে।

তিথির পুরো নাম অরুণ নীতি বৈদ্য প্রকাশ তিথী (২৫)। নগরের আসকার দীঘিরপাড় এলাকায় মিন্টু ভবনে ভাড়া বাসায় পরিবারের সাথেই থাকতেন তিনি। তিথীরা দুই বোন এক ভাই। বড় বোন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করে দু‘বছর আগে চাকরি নিয়েছেন। কিছুদিন চাকরি করার পর এখন সেটি ছেড়ে দিয়ে বাসায় বাবার সংসারেই আছেন। ছোট ভাই নগরীর একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। খবর পরিবর্তন.কম’র।

আর তিথী চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ইতিহাস সম্মান শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিয়েছে গত বছর। কিন্তু ভাগ্য বিড়ম্বনায় এক বিষয়ে পাস করতে পারেনি সে। তাই এ বছরও পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছে। তবে লেখাপড়ার পাশাপাশি তিথী একটি স্টুডেন্টস্ কনসালটেন্ড ফার্মে কাজ করছেন প্রায় ২ মাস। তবে গত একমাস আগ থেকে সে চাকরিটিও আর করছেন না।

বাবা জিলক বৈদ্য নগরের জুবলী রোডে অবস্থিত হোটেল সফিনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আর মা রাধা বৈদ্য গৃহিনী। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুর এলাকায় বৈদ্যবাড়ি নামেই পরিচিত।

তিথীর এক নিকট আত্মীয় জানান, উচ্চশিক্ষা নেয়া বড় বোন বিয়ে না করায় তিথীর বিয়েটাও আর হচ্ছে না। কত করে যে মেয়েটাকে বুঝানো হয়েছে বিয়ে করার জন্য। তবে কোনো ভাবেই রাজি করা যায়নি। এই নিয়ে প্রায় সময় ঘরের মধ্যে মনোমানিল্য চলে আসছে।

তিথীর বাবা জিলক বৈদ্য জানান, প্রতি দিনের মতো সোমবার বিকেলে মায়ের সাথে ঘুমাতে যায় তিথী। বড় বোন ও একমাত্র ছোট ভাই তারাও তাদের কক্ষে ঘুমিয়েছিল। মাকে ঘুম পড়িয়ে পাশ থেকে আস্তে আস্তে উঠে যায় তিথী। এর ডাইনিং রুমে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে বড়বোন ছুটে আসে। এরপর মা ও ছোট ভাইও আসে। তিথীকে ফাঁসির দড়ি থেকে নামিয়ে বাঁচানোর জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় মা ও বোন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক বললেন তিথীর প্রাণ নেই। নগরের আসকার দীঘি উত্তর পশ্চিম পাড়ের মিন্টু সাহেবের বিল্ডিংয়ে এই ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া জানান, অরুণ নীতি বৈদ্য তিথীর লাশ হাসপাতালের ফ্রিজে রাখা হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত