শিরোনাম
◈ ইরান–সংঘাত থামাতে কিছু দেশের মধ্যস্থতার চেষ্টা: পেজেশকিয়ান ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আতঙ্ক, যে বার্তা দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ◈ কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ◈ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশসহ বিশ্বে যেসব প্রভাব পড়তে পারে ◈ দেশের সব ব্যাংকের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা ◈ জ্বালানি সংকটের আতঙ্কে স্টেশনে ভিড়, সরবরাহে শর্ত দিল সরকার ◈ ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা ◈ দলীয় এমপিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান ◈ নারী এ‌শিয়া কা‌পে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫ গো‌লে হার‌লো বাংলাদেশ  ◈ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্কুলে হামলার জন‌্য দায়ী : রয়টার্স 

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০১৮, ০৭:৪৬ সকাল
আপডেট : ২৩ জুন, ২০১৮, ০৭:৪৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভিডিও গেমে আসক্তি এখন মানসিক রোগের তালিকায়, বাংলাদেশের চিত্র!

ডেস্ক রিপোর্ :  স্কুল শেষে শিশুদের অবসর কাটে প্লে স্টেশন না হলে স্মার্টফোন বা ট্যাবের স্ক্রিনে। ভিডিও গেমের প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। তবে এই আসক্তিকে সম্প্রতি 'মানসিক রোগের' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মনরোগ বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরে বলছিলেন, ভিডিও গেমের অতিরিক্ত আসক্তিতে একদিকে যেমন শিশু-কিশোরদের সামাজিকীকরণ বাধাগ্রস্ত হয় তেমনি মেধা বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গেমিং এর নেশা ঠেকাতে অনেক দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  বিষয়টি নিয়ে ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ বিশেষ ক্লিনিক স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মনিটরিং শুরু করলেও এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ।

ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা আকলিমা মতিন মনে করেন, যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়া এবং সেইসঙ্গে বাইরে খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ভিডিও গেমেই সন্তানরা অবসরের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছে। "আমি আমাদের ছেলেদের অনেক ভাল ভাল লেখকদের বই কিনে দেই। আমি চাই ওরা বই পড়ে শিখুক। কিন্তু না, তাদের কথা হল, তাদের সব বন্ধুরা গেম খেলছে, তারাও খেলবে।"

সেইসঙ্গে শহরগুলোয় পর্যাপ্ত বিনোদনের অভাবকেও এই গেমে আসক্তির জন্য দায়ী করেন তিনি। "এখনকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোয় খেলার কোন জায়গা নেই। আমরা তো গ্রামে খোলামেলা পরিবেশে বড় হয়েছি। কিন্তু আমার বাচ্চারা তো সেই জায়গাটা পাচ্ছেনা। এই ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের যতোটা না উপকার করছে তার চাইতে বাচ্চাদের পিছিয়ে ফেলছে বেশি।"

প্লে-স্টেশনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা একটা গেমের প্রায় পুরোটা জুড়েই দেখা যায় যুদ্ধ সহিংসতা আর রক্তপাত। এই খেলাগুলো আসলে শিশুদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরিন ওয়াদুদ বিবিসিকে বলেন, "প্রতিনিয়ত এসব ভিডিও গেম খেললে শরীরে এক ধরণের হরমোন নি:সরণ হয়। এতে শিশু সব কিছু নিয়েই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বাবা মায়ের অবাধ্য হয়ে যায়। মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়।"

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক রোগ শ্রেণীকরণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গেমিংয়ে আসক্ত ব্যক্তি মূলত অন্য সব কিছুর প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। এছাড়া কারো সঙ্গে মিশতে না পারা, ঘুম, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম তো রয়েছেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে গেমারদের দুই থেকে তিন শতাংশ 'গেমিং ডিজঅর্ডারে' ভোগে। শতাংশের হিসেবে সংখ্যাটি কম মনে হলেও বিশ্বের অনেক দেশই গেমিংয়ের আসক্তি নিয়ে চিন্তিত।

'গেমিং ডিজঅর্ডার' এর এমন বিভিন্ন লক্ষণের ব্যাপারে ড. ওয়াদুদ বলেন, "লক্ষ্য রাখতে হবে শিশু কতটুকু সময় ধরে গেম খেলছে। মা-বাবা খেলা বন্ধ করতে বললে সে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। কিছু কিছু বাচ্চা আছে যাদের গেম খেলতে নিষেধ করলে তারা ভীষণ রেগে যায়, ভীষণ চেঁচামেচি করে। সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে সে হয়তো গেমে আসক্ত।"

দক্ষিণ কোরিয়ায় তো সরকার এমন আইন করেছে যাতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুরা মধ্যরাত থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত অনলাইন গেম খেলতেই না পারে। জাপানে কেউ যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি গেম খেলে তাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। শিশুরা বেশি আসক্ত হয়ে পড়লে চিকিৎসার কথা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চীনের ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট শিশুরা কতক্ষণ গেম খেলতে পারে তার সময় বেঁধে দিয়েছে।

বাংলাদেশে এখনো এমন কোনো উদ্যোগ নেই। "সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যারা আছেন তারা যদি এই বাচ্চাদের কথা ভেবে কিছু উদ্যোগ নেন তাহলে হয়তো পরিস্থিতি বদলে যাবে। এই যে আশেপাশে কিছু মাঠ আছে সেগুলো যদি সংস্কারের সুযোগ করে দেয়। সিনেমা হলগুলোতে যেন বাচ্চাদের নিয়ে ভাল ছবি দেখতে পারি।" সূত্র : বিবিসি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়