প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগের কারাগারে বন্দি বিএনপি!

রবিন আকরাম : আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দল। একাধিকবার ক্ষমতায়ও এসেছে তারা। যখনি একপক্ষ ক্ষমতায় এসেছে অপরপক্ষ হরতাল, অবরোধসহ নানান কর্মসূচি পালন করেছে ও করছে। এতে দেশ উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যেটা একটা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে খুবই লজ্জাজনক।

যে দলই ক্ষমতায় আসে। তার চিন্তা থাকে কিভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যায়। বর্তমান সরকারের আমলে এই ঘায়েল মাত্রাতিক্ত হারে বেড়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ের পর ক্ষমতায় বর্তমান রয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত শুরু থেকেই আন্দোলনে হরতাল, অবরোধ করে আসছে। এতে করে সরকারকে একচুলও নড়াতে পারেনি বিএনপি-জামায়াত। বিপরীতে সইতে হয়েছে জুলুম-নির্যাতন, হামলা-মামলা, জেল ইত্যাদি। আন্দোলন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির হাতে অনেকে মারাও গেছেন।

এই সরকার আমলে জেলে যায়নি বিএনপির এমন কোন নেতা হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। মির্জা ফখরুল আলমগীর থেকে শুরু করে প্রায় সকল নেতাই জেলের ভাত খেয়েছেন। বাদ যায়নি কর্মীরাও। আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক কর্মী এখনো জেলের ঘানি টানছেন। একাধিক মামলায় অনেকেই ঘর ছাড়া রয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক ও সরকার পতনের অনেক আন্দোলন করেছে বিএনপি। যখনি আন্দোলনে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দিয়েছে। এতে পুলিশের সাথে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষও হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে রাতের আধারে অনেক নেতা-কর্মীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরও এসেছে।

এতে ছোট-বড় প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। বিচারাধীন রয়েছে অসংখ্য মামলা। অনেক মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে বিশেষ আদালতে। রায়ের অপেক্ষায় আছে কোনো কোনো মামলা। বর্তমানে সাজা আতঙ্কে ভুগছে দলটির শতাধিক নেতা। পত্র-পত্রিকায় এমন খবর প্রতিনিয়তেই দেখা গেছে।

দৈনিক পত্রিকার তথ্য মতে, বিএনপি আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৮৫টি মামলা আছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে কয়েকটি মামলার বিচারকার্যও শুরু হয়েছে। সব মামলাতেই তিনি জামিনে আছেন। এসব মামলায় সপ্তাহে দুইদিন তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ওয়ান-ইলেভেনের সময় ৮টি এবং বর্তমান সরকারের আমলে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দুদকের করা মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে জেলও খাটেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় করা মামলাগুলো বিচারাধীন। বর্তমান সরকারের আমলে দেয়া প্রায় সব মামলার চার্জশিট হয়েছে। বিচারকাজও শুরু হয়েছে কয়েকটির। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ৯৬টি মামলা রয়েছে। অবৈধ প্লট বরাদ্দ দিয়ে সরকারের সাড়ে ১৫ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগে তার নাম চার্জশিটে যুক্ত করেছে দুদক। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ৪০টি মামলার কয়েকটিতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নামে ২২, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নামে ১৯ ও সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে ৪৭টি মামলা রয়েছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ৭টি, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নামে ৩৭, এজেডএম জাহিদ হোসেন ১৫, বরকতউল্লা বুলুর বিরুদ্ধে ৮৮টি, আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামে ১২, শামসুজ্জামান দুদু ২২, শওকত মাহমুদ ৪৫, আবদুল্লাহ আল নোমান ১৩, সেলিমা রহমান ১১, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ১৮, মেজর (অব) হাফিজউদ্দিন আহমেদের নামে ৬টি মামলা রয়েছে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান ১২৬, জয়নুল আবদিন ফারুক ৩১, মিজানুর রহমান মিনু ১৩, দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামে ৫০টি, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামে ১৩০টি, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ১১০টি, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুদুর বিরুদ্ধে ৫০টি, ফজলুল হক মিলন ১২ ও নাদিম মোস্তফার নামে ২৭টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগেরই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এছাড়া যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের নামে ২১৫ ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ২১২টি মামলা রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সফিউল বারী বাবুর নামে ৩১টি মামলা রয়েছে। এসব নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা অনেক মামলায় ইতিমধ্যে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। চলছে বিচারকাজও।

আরো জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চার হাজার ৫৫১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অন্তত দুই লাখ ২৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া ২০১৫ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনেও নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দেয়া হয়। বিগত ওয়ান-ইলেভেন থেকে বর্তমান আওয়ামী লীগের দুই আমলে সবমিলে সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। এসব মামলায় নামে ও বেনামে প্রায় বারো লাখের মতো আসামি রয়েছে।

অন্যদিক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে প্রায় শতাধিক মামলা। অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলায় সাজা পেয়েছেন তিনি। এই দুই মামলায় সাজা হওয়া ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটিসহ ঢাকার আদালতগুলোয় এখনও ১৯টি মামলার কার্যক্রম চলমান। এসব মামলার প্রায় প্রত্যেকটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন মামলায়ও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

বাদ যাননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বর্তমানে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির ৫ বছরের সাজায় কারাগারে রয়েছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৬ মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে বের করার জন্য বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। কিন্তু সরকারের জালে বন্দি হয়ে আছেন খালেদা জিয়া এমনটা বলছেন অনেকেই। এক মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে তাকে। তাই কারাগার থেকে বের হতে বিলম্ব হচ্ছে খালেদা জিয়ার।

খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র নেতারা মামলায় জর্জরিত হয়ে আছেন। ছােট খাটো নেতা-কর্মীরাও মামলা-হামলা ও জেলের ঘানি টানছেন। বিশিষ্টজনেরা প্রায় বলছেন, আদালত নয় বিএনপি আওয়ামী সরকারের জালে আটকে আছে।

খালেদার জেল থেকে বের হওয়ার ব্যাপারেও সরকারের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। সরকার চাইলেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারেন এমন দাবিও উঠে এসেছে। বলতে গেলে বিএনপি পুরো দলটাই আওয়ামী লীগের কারাগারে বন্ধি হয়ে আছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত