প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’

প্রভাষ আমিন : অবিশ্বাস্য! অকল্পনীয়! অভাবনীয়! তবুও পুরো অনুভূতিটা ঠিক প্রকাশ করা গেল না। ৬৫ বছর পর উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতা দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে পা রাখলেন! আমাদের জীবদ্দশায় এমন কিছু দেখে যেতে পারব ভাবিনি। তবে অভাবনীয় এমন একাধিক ঘটনার সাক্ষী হতে পেরেছি আমরা। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, জার্মানির মিলন, কোনো মার্কিন রাষ্ট্রপতির কিউবা সফর, চীন এবং শি জিন পিং’এর উত্থান দেখেছি। সৌদি আরবে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের বিপ্লব দেখছি। তবুও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে পা রাখছেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনকে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার মাটিতে ফিরছেন- এই দৃশ্য টিভিতে অনেকবার দেখেছি। দেখেও যেন বিশ^াস হয় না। দুই কোরিয়া কিন্তু এখনো যুদ্ধে আছে। তিন বছরের যুদ্ধের পর ১৯৫৩ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। সেই বিরতিই চলছিল ৬৫ বছর ধরে। এবার হয়তো যুদ্ধবিরতি শান্তিচুক্তিতে বদলে যেতে পারে। দুই নেতা কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ফিরিয়ে, পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজমের পিস হাউস থেকে দুই নেতা ডে শান্তির বারতা ছড়িয়ে দিলেন, তার প্রভাব যেন পড়ে গোটা বিশে^।

অথচ কদিন আগেও উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কথার লড়াই শঙ্কা ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। দুই প্রায় উন্মাদ যেভাবে পারমাণবিক অস্ত্রেও বোতামে হাত রেখে; কার বোতাম বড়, কারটা ছোট; এ নিয়ে তর্ক করছিলেন; মনে হচ্ছিল আমাদের জীবদ্দশায় বুঝি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও দেখে যেতে হবে। তবে গোটা বিশ্ব এখন যেভাবে বাণিজ্য লড়াইয়ে ব্যস্ত, তাতে অস্ত্রের যুদ্ধটা অস্বাভাবিকই। কিমের দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে পা রাখার মধ্য দিয়ে সে শঙ্কা আপাতত দূরে সরলো। কাছে এলো মে-জুন মাসে কিম-ট্রাম্প সম্ভাব্য বৈঠক। আরেকটি অসম্ভব বুঝি সম্ভব হতে যাচ্ছে।

কিম-মুন বৈঠকের ডামাডোলে চাপা পড়ে গেছে বটে; তবে একই দিনে মোদী-শি জিন পিং বৈঠক এবং ট্রাম্প-মারকেল বৈঠকও আশাবাদী করেছে সবাইকে। হঠাৎ করে বিবদমান নেতাদের এমন হাতে হাত রাখার ঘটনায় শান্তির সুবাতাস বইছে বিশ্বজুড়ে।

এই লেখা যখন লিখছি, তখন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন। দিনটি গৗতম বুদ্ধের নির্বাণ লাভের। বুদ্ধ পূর্ণিমার আলো শান্তি আনুক মিয়ানমারের বৗদ্ধ নেতাদের হৃদয়েও। শান্তি আসুক কোরিয়ায়, শান্তি আসুক মধ্যপ্রাচ্যে, ফিলিস্তিনে; শান্তি আসুক ডোকলাম সীমান্তে। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

ঢ়ৎড়নযধংয২০০০@মসধরষ.পড়স

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত