প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশ যে সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর!

খন্দকার রূহুল আমিন : আমরা যারা পর্যটন রিলেটেড ব্যবসা-বাণিজ্য করছি, কিভাবে এটার ডেভেলপ করা যায় পর্যটনের মাধ্যমে, এক্ষেত্রে যে কাচের দেওয়াল আছে তা ভাঙতে হবে। সচিব পর্যায়ে যারা আছেন তাদের ইগো প্রবলেম আছে। তারা মনে করে, অন্যরা কি বুঝে? সবতো আমরাই বুঝি, যেহেতু আমরা ক্যাডার পর্যায় থেকে এসেছি। বাস্তবে ব্যবসায়ীদের আইকিউ অনেক শার্প। বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই হচ্ছে। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা অনেক কিছু করছে। সুতরাং ব্যবসায়ীদের মূল্যায়ন করা দরকার। ব্যবসায়ীদের উপর দায়িত্ব দেওয়া দরকার।

বাংলাদেশ পর্যটনের মাধ্যমে আমাদের জিডিপি গ্রোথ বলেন, উন্নয়নমূলক বাজেট বলেন, তার একটা মেজর কন্ট্রিবিউশন পর্যটন কাত থেকে করতে পারবে। কোনো বিদেশি যখন বাংলাদেশে আসবে, তারা হয়তো আমাদের কালচার, ল্যাঙ্গুয়েজ, ফোঁক, এন্টারটেইনমেন্ট, আবহাওয়া এসব দেখার পর এখানে ইনভেষ্ট করবে। বিনিয়োগের একটা সুন্দর ক্ষেত্র তৈরি করতে পারি আমরা। জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে ট্যুরিজমকে ডেভেলপ করার জন্য যত সেক্টর আছে সব সেক্টরকে, যত ট্যুরিজম আছে তাদের দিয়ে জয়েন্ট ভেঞ্চারে ইনভেষ্ট করা যায়। তাহলে আমাদের দেশকে পর্যটনের দিক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

অনেক সুন্দর আকর্ষণীয় ভেন্যু এখানে আছে। বান্দরবান, সেখানে না গেলেই নয়। ওখানে না গেলে বোঝাই যাবে না বাংলাদেশ কত সুন্দর (!) বাংলাদেশ যে সুইজারল্যান্ডের চেয়েও সুন্দর হতে পারে, সেটা জানা যাবে বান্দরবান গেলে। রাস্তা-ঘাট কম বেশি ভালো করেছে। সেই সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। চর্তুদিকে গাছপালা, পাহাড় এবং তার ভেতর দিয়ে কটেজ। সেখানে আপনি রাত্রি যাপন করবেন। প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে যাবেন। আর্মিদের মাধ্যমে ল অ্যান্ড অর্ডার ভালো করছে। রাস্তা-ঘাট উন্নত হয়েছে। বান্দরবান পর্যটকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। এভাবে প্রতিটি জায়গায় আমরা অগ্রসর হতে পারি। সার্ক কান্ট্রিগুলোর ফরেন মিনিষ্ট্রির প্রোগ্রামটা কক্সবাজার হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কার তিনভাগের এক ভাগ আসে পর্যটন থেকে। তারাই স্বীকার করেছে যে, এত সুন্দর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এত ন্যাচারাল সৌন্দর্য খুব কমই আছে। এটাকে কাজে লাগানো যায়। চট্টগ্রামে একটা প্রোগ্রাম হয়েছিল। তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরীফ। তখন আমাদের ফয়েজ লেক দেখে তিনি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন যে, মনে হয় এটা এশিয়ার কোনো দেশ না, মনে হয় যেন ইউরোপের কোনো একটি দেশ। এটা যেন ভূস্বর্গ, এত সৌন্দর্য! রাঙামাটির রাস্তাঘাট ভালো হয়নি। এগুনো যাচ্ছে না সেখানে। রাঙামাটিকে আরও সুন্দর কিভাবে করা যায়? আর্মি ওখানে আরও কর্মকা- করছে। কমিউনিকেশনটা ভালো হলে ওখানে যদি বিমানবন্দর করা যায়, আরও ভালো হবে। হেলিকপ্টার কমে গেছে। তারপরও যদি কিছু করা যায়।

সিলেটের শ্রীমঙ্গল, মৌলভী বাজার। ঐ সমস্ত এলাকাতে যে সমস্ত ফাইভ স্টার, সেভেন স্টার হোটেল হয়ে,েছ সেগুলোতে বুকিং এভেইলেবল নয়। তিন মাস, চার মাস আগেই বুকিং হয়ে গেছে। চতুর্দিকে সবুজ আর সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সেখানে যাওয়ার পর মনে হয় এখন ইউরোপের কোনো দেশে আছি! এখানকার ফ্যাসিলিটিজগুলো ভালো। গাছের ওপরে রেস্টুরেন্ট আছে। গলফ খেলার মাঠ আছে। আরও সব ধরনের সুযোগ সুবিধা। এইভাবে যদি এগোনো যায় অবশ্যই করা যাবে। দুটি পাতা একটি কুড়ির দেশ শ্রীমঙ্গল। চায়ের বাগান দিয়েও আমরা বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে পারি। যদিও ওখানে হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজ আছে। তবুও আরও করতে হবে। আরও সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। আরও প্রচারে আসতে হবে। আমাদের অ্যাম্বাসেডরদের কমার্শিয়াল অ্যাটাচি যারা আছেন যেই সব দেশে পোস্টিংয়ে আছেন, সেখানে যেভাবে বিদেশি ডলারে বেতন নিচ্ছেন, তারা দেখবেন ঐ দেশের কতজন নাগরিক বাংলাদেশ ভিজিটে আসল? এটার দায়িত্ব হবে অ্যাম্বাসির।

তাদের কাজ হবে আমাদের দেশ সম্বন্ধে পর্যটকদের জানানো। খ্রীস্টানদের গীর্জা আছে। নওয়াবগঞ্জে আছে গীর্জা। হলিক্রস, নটরডেম কলেজ আছে। আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েছে নওয়াবগঞ্জে। খ্রীস্টান অধ্যুষিত যে সমস্ত ইউরোপিয় কান্ট্রি তাদের ধর্মীয় ব্যাপারে আগ্রহ থেকে কিন্তু তারা এখানে আসতে পারে। ৫০০ বছরের পুরনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আছে। এটা তারা দেখতে চায়, জানতে চায়। এটার যদি মার্কেটিং করে, অ্যাম্বাসেডররা যদি দায়িত্ব নেয়, অন্যান্য কর্মকা-ের মাধ্যমে আমরা এই কাজটা বেশি করি তাহলে ফল ভাল হবে। ঐসমস্ত দেশের যে সমস্ত পর্যটক আছেন, তারা যদি বাংলাদেশে আসেন এবং অ্যাম্বাসি যদি দায়িত্ব নেয় যে তোমরা আমাদের দেশে ঘুরতে যাবা এবং ওখানে কোন অসুবিধা হলে আমরা দায়িত্ব নেব, ক্ষতিপূরণ দেব তাহলে অনেককিছুই হবে। এবং আমাদের যারা অপারেটর আছে, হোটেল, কটেজ আছে, কর্মকর্তা আছে, তাদের সাথে লিয়াজো করে তখন এই ধরনের টুরিস্ট আসতে পারে। বহির্বিশ্বের মানুষ কোন কোন জায়গায় তার সেফটি চায়, সেটা দেখতে হবে। সরকার ইচ্ছা করলেই পারে। জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিততে পেরেছে না? বিরোধীদল কোনো কর্মসূচী পালন করতে পারছে না।

এই ধরনের দায়িত্ব যদি নেয়, অ্যাম্বাসি যদি এনশিওর করে যে, তোমরা আমাদের দেশে যাবে, সব দায়িত্ব আমাদের, তাহলে দেখবেন যে কিভাবে বহির্বিশ্ব থেকে একটা আগ্রহ জাগবে। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা যেন আর না আসে। আমেরিকা থেকে এসেছে। জাপান থেকে এসেছে। পাকিস্তানে আসে। ইন্ডিয়াতে আসে না? নেপালে আসে না? এই ধরনের নিশ্চয়তায় আসতে হবে যে, না এখানে সেফটি আছে। প্রতিটা ক্ষেত্রেই সরকার ইচ্ছা করে বলবে যে, হ্যাঁ আমরা পারব। আমরা কামিয়াব হতে পারব। আমরা নির্দিষ্ট গোলে পৌঁছাতে পারব। এভাবে প্রাইভেট সেক্টরকে অনুপ্রাণিত করবে সরকার। আমরা যা যা সুপারিশ করব সরকার অবশ্যই তা যখন গ্রহণ করবে, তখন এই সেক্টরকে আমরা ডেভেলপ করতে পারব।

পরিচিতি : পরিচালক, এফবিসিসিআই ও চেয়ারম্যান, খন্দকার গ্রুপ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত