প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না বলার বৈধতা কি আছে?

রবিউল আলম : আমরা সবাই দায়িত্বশীল। কিন্তু দায়িত্ব কতটুকু পালন করি বা পালন করার চেষ্টা করি। কখনো কখনো যতটুকু দরকার তার চেয়েও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করি। এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমাজ, দেশ ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করি। এমনি এক বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না, এ কথা বলার বলার অধিকার তার আছে কি না ? ১৮ কোটি মানুষের ভোটের প্রয়োগ করার দায়িত্ব তার উপর ন্যাস্ত। ভোট কোথায় দেবে, ভোট কে নিবে, ভোট কে চাইবে এই ব্যবস্থা তিনি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করবেন এটাই তার গুরুদায়িত্ব। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না, এই কথা শুধু বিএনপি বলতে পারে। বিএনপি যদি নির্বাচন করতে না চায় তবে একটি জাতীয় নির্বাচন প্রতিহত করার অধিকারও তার নাই।

তারপরেও কেন নির্বাচন কমিশনার বলছেন যে বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না এবং এটা তিনি কেন বলছেন সেটাও বুঝতে পারছি না। আমি কোন কৈফিয়ত চাইছি না। শুধু সবিনয়ে বলতে চাচ্ছি, নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলা হচ্ছে যেটা সংবিধানে নাই। সুষ্ঠু নির্বাচন সকলের কাম্য যার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনারের, সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে কি না তা প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নির্বাচনে সকলের সমান সুযোগ চাই, এই দাবী কে পূরণ করবে এবং কোন সংবিধানে লেখা আছে। বিএনপি সরকারে থাকার সময় কি ব্যবস্থা করেছিল ? সন্ত্রাসী, বোমাবাজ, চোর ডাকাতের বিচারিক সাজা হলে তাদেরকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।

মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে প্রশ্ন থাকলো, দাবীগুলো কে পূরণ করবে এবং বিএনপিকে কে নির্বাচনে আনবে এবং কেনই বা আনতে হবে? নির্বাচন দলের ও জনগণের প্রয়োজনে করতে হবে। নির্বাচন না করলে দলের প্রয়োজন কি। বিএনপির দাবী জনগণ, পুলিশ, সেনাবাহিনী, পাকিস্তান, এমেরিকা তাদের সাথে, এখন দেখছি নির্বাচন কমিশনারও বলছে বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না। তা হলে নিরপেক্ষ আর থাকলো কোথায়? নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন কোথায় ? জনগণ পক্ষে থাকলে নির্বাচনকে ঠেকায় কে ? ৭০ এর নির্বাচনে পাকিস্তান সরকারের অধীনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। পাকিস্তানের সকল প্রশাসনিক শক্তি দিয়েও আওয়ামীলীগের জয় ঠেকাতে পারে নাই।

বিএনপি’র সকল বাহিনী থাকা সত্বেও নিরপেক্ষ সরকার চাই – দাবীটি কতটুকু গ্রহণযোগ্য। নিরপেক্ষতার মাপকাঠি কি ? এদেশের জনগণ সর্বদলীয় নির্বাচন চায়। সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনের সৌন্দর্য বজায় থাকে। বিএনপি ছাড়া নির্বাচন করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, একথা অস্বীকার করা যাবে না। বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনারের কি করার আছে। নির্বাচন কমিশনার সব দল যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং করে তার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে পারে এবং করে যাচ্ছে। তাই বলে এটা বলতে পারেন না যে বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই কথা বলার এখতিয়ার আছে কি না আমার জানা নাই।

তবে অনেক বুদ্ধিজীবি, আইনজীবি, শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে জানতে পারলাম, নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নির্বাচন পরিচালনা করা। কোন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলো, কতটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে, কোন দল কত ভোট পেয়েছে তার হিসাব রাখা, আনুপাতিক হারে বিজয়ী দলকে ঘোষণা দেওয়া এবং নির্বাচনের সার্বিক শান্তি শ্ঙ্খৃলা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব। কোন একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নির্বাচন হবে না, একথা নির্বাচন কমিশনার বলতে পারেন না এবং এ কথা বলার কাজ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নয়। জানি না কোন সূত্র থেকে তিনি একথা বলেছেন।

তবে সুশীল সমাজ অনুমান করছেন বিএনপিকে খুশী করার জন্য হয়তো তিনি এটা বলতে পারেন। নির্বাচন কমিশনারতো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি না, তারা জনগণের প্রতিনিধি। তারা জনগণের মতামত গ্রহণ করাসহ সংবিধান রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে সকলের সন্তুষ্টি আদায় করবেন। একটি রাজনৈতিক দলকে খুশি করতে একথা বলার প্রয়োজন আছে কি ? যে কথায় রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে, প্রশাসনিক প্রধানদের এমন ধরনের কথা না বলাই উত্তম।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত