প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ হিসেবে নেই ‘বাংলা’

ফারমিনা তাসলিম: ১৯৫২ সালের লাখো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশের মাতৃভাষা হলো বাংলা। এরপরেও এদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। তবে পুরোপুরি বিভাগ খুলতে বাধ্য করতে না চাইলেও অন্তত একটি কোর্স হিসেবে বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চান মঞ্জুরি কমিশন। যার মাধ্যমে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে অন্তত বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়া যাবে।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে বুধবার একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে। দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাংলা ভাষার জন্য একদিন মানুষ প্রাণ দিলেও দেশের কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষা হিসেবে বাংলাকে বেচে নেওয়ার সুযোগ নাই। কারণ সেখানে বাংলার জন্য কোন বিভাগ নাই।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল কবীর বিবিসি বাংলাকে জানান, ক্যারিয়ার বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ না থাকার কারণেই বাংলা বিভাগ খোলা হয়নি। তিনি বলেন, যারা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করেন, তারা ডিপার্টমেন্ট খোলার ক্ষেত্রে কোন ধরণের শিক্ষার বিষয়ের প্রতি বাজারে আগ্রহ আছে সেটা লক্ষ্য রাখে। কেননা একজন ছাত্র ৬ লাখ বা ৭ লাখ টাকা ফি দিয়ে একটা বিষয় অধ্যয়ন করল। এখন সে বাজারে পর্যাপ্ত জায়গাটা খুঁজে পেল না। এই বিষয়টা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য যেমন হৃদয়বিদারক একজন ছাত্রের ক্যারিয়ার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সেটা খুবই খারাপ। যদি বাংলা সাহিত্যের বাজার তৈরি করা সম্ভব হয় তাহলে ছাত্ররা পড়তে আগ্রহী হবে।

বাংলাদেশে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৯৫টি। তার মধ্যে ১৪টিতে বাংলার জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন, এই বিষয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভের রেজিস্টার অধ্যাপক ইফাত কায়েস চৌধুরী বলেছেন, বৃত্তি ঘোষণা পরও তাদের এই বিভাগে তারা শিক্ষার্থী পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউডা ইউনিভার্সিটি প্রথম বাংলা বিভাগ খুলে। প্রথম বছরে আমরা সারা পাইনি অনার্সে, মাষ্টার্সে আমরা ৫জন শিক্ষার্থী পেয়েছিলাম। কিন্তু অনার্সে আমরা কোন শিক্ষার্থী পাইনি। শিক্ষার্থীরা ধারণা করে বাংলা পড়লে হয়তো চাকরি পাবে না বা কোন জায়গায় দাঁড়াতে পারবে না। অথচ আমাদের স্কুল, কলেজ আছে সেখানে বাংলার শিক্ষক পাচ্ছি না।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বাংলা পড়ে স্কুল, কলেজে বাংলা বিভাগে সুযোগ থাকলেও বেসরকারি চাকরির বাজারে পেশা গঠনের সুযোগ কম। আর এই কারণে টাকা খরচ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা পড়তে চান না।

বাংলা বিষয় নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করা শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাতে তো চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছি। বাংলাতে তো অবশ্যই পড়ছি, অন্য বিষয়গুলোও পড়ব। এখন আমার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্জন করা। ভবিষ্যৎ নিয়ে কী হবে আপাতত সেটা নিয়ে চিন্তা করতে চাচ্ছি না। আমি বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করার পরে চাকরি করতে এসে দেখলাম কোন কলেজে চাকরি ছাড়া বাংলার তেমন কোন সুযোগ নাই। এজন্য পরে আমি ম্যানেজমেন্ট ও ইংরেজি বিষয়ে কোর্স করে তারপরে গামের্ন্টস সেক্টরে আছি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তারা কেউ কেউ এই বিভাগটি বেছে নিলেও বেশিরভাগই মেধা তালিকার কারণে এই বিভাগটি বেছে নিয়ে সেখানে পড়তে বাধ্য হয়েছেন।

উচ্চ শিক্ষার বাংলার এই বেহাল দশা নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠার বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটা যোগাযোগের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য আনুষাঙ্গিক উদ্দেশ্য থাকে। যেকোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সাইন্স, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা পছন্দ করে। বাংলা বিভাগ হিসেবে হয়তো আমাদের অনেক সময় লাগবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত