প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওষুধ শিল্পের বিস্ময়কর উত্থান রপ্তানি হচ্ছে ১৪০ দেশে

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকে চমকে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। শিল্প-বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামোসহ সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ছোঁয়া। সমৃদ্ধির এই পথযাত্রায় বিভিন্ন খাতের সাফল্য নিয়ে আমাদের ৬ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন সম্ভাবনার বাংলাদেশ

মরিয়ম সেঁজুতি : দুনিয়া দাপাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প। বিষ্ময়কর উত্থান ঘটেছে এ শিল্পের। প্রতি বছরই বাড়ছে ওষুধ রপ্তানি। সত্তরের দশকে যেখানে দেশের চাহিদার ৭০ শতাংশ ওষুধ আমদানি করতে হতো, সেখানে এখন নিজেদের চাহিদার ৯৮ শতাংশ মিটিয়ে ১৪০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে প্রতি বছর দেশ আয় করছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থানও হচ্ছে এ শিল্পে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর রপ্তানি পণ্যে পরিণত হবে ওষুধ শিল্প।

স্বাধীনতা পরবর্তী মুমূর্ষু বাংলাদেশে অন্নের সঙ্গে ওষুধের সংকট দেখা দেয়। অনেক কষ্টে ২০ শতাংশ ওষুধ চাহিদা পূরণ সম্ভব হলেও বাকি ৮০ শতাংশ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে দেশ। সদ্য স্বাধীন দেশে ডলারের রিজার্ভ শূন্য। দুঃসময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পূর্ব ইউরোপের হাঙ্গেরি। বাংলাদেশি পণ্যের বিনিময়ে ওষুধ সরবরাহে রাজি হয় দেশটি। এরপর ধীরে ধীরে ওষুধ উৎপাদন শুরু বাংলাদেশে।

বর্তমানে দেশের দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার ব্র্যান্ডের ৮ হাজারের বেশি ওষুধ উৎপাদন করছে, যার মধ্যে বড় ১০ কোম্পানি দেশের চাহিদার ৮০ শতাংশ মিটিয়ে থাকে। বড় ২০ কোম্পানি বিবেচনায় নিলে তারা মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ সরবরাহ করছে। আর ৪০ কোম্পানি ১৮২টি ব্র্যান্ডের সহ¯্রাধিক রকমের ওষুধ রপ্তানি করছে। বর্তমানে বিশ্বের অনুন্নত ৪৮ দেশের মধ্যে ওষুধ উৎপাদনে শীর্ষে বাংলাদেশ।

নিজেদের চাহিদার ৯৮ শতাংশ মিটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ ১৪০টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশের ৪০টি প্রতিষ্ঠান। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওষুধ পণ্য রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৭১৪ কোটি টাকা। আর দেশের ভেতরেই তৈরি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বাজার। ওষুধ শিল্পের উন্নয়নে মুন্সীগঞ্জে কাঁচামাল উৎপাদন পার্ক স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বর্তমানে উন্নয়নের অন্যতম খাত ওষুধ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যকে ২০১৮ সালের ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৈরি পোশাক শিল্পের মতো ওষুধেও বাংলাদেশ সম্মানের আসনে পৌঁছে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকার এ বছর ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে ২০ শতাংশ। তবে রপ্তানির ওপর নগদ প্রণোদনাসহ সরকারি সহযোগিতা পেলে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে বলছে ওষুধ শিল্প সমিতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, সরকারি নীতি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধাগুলো জোরদার করা হলে হাজার হাজার কোটি ডলারের ওষুধ রপ্তানি সম্ভব।

উদ্যোক্তারা বলছেন, স্বল্প মূলধন ও ওষুধের গুণগতমান বজায় রাখায় বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। এ ছাড়া অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ওষুধের দাম অনেক কম। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের ওষুধ বাণিজ্যের ১০ শতাংশ দখল করা সম্ভব। এতে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। একই সঙ্গে এ খাতে ২ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎকৃষ্টমানের ওষুধ উৎপাদন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানিতে অগ্রগামিতা অর্জনের মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়ে ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ওষুধ রপ্তানিতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পোশাক খাতকে ধরতে পারব। কারণ ওষুধ রপ্তানি প্রতি বছরেই বাড়ছে। ফলে আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের এপিআই পার্ক পুরোপরি চালু হলে ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের জন্য আর কারো মুখাপেক্ষী হতে হবে না।ভোরের কাগজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত