প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিদ্ধান্তে অটল শাকিব, সমঝোতা চান অপু

ডেস্ক রিপোর্ট : ডিভোর্সের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন শাকিব খান। অপু বিশ্বাস এখনো সমঝোতা চান। অপু বলেন স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার করতে চাই। শাকিব বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। যা বলার আমার আইনজীবী বলবেন। গতকাল ছিল সিটি করপোরেশন উত্তরে শাকিব-অপুর প্রথম সমঝোতা বৈঠক। বৈঠকে অপু এলেও শাকিব ছিলেন অনুপস্থিত। গত ২২ নভেম্বর শাকিব খান অপুকে ডিভোর্স দিতে সিটি করপোরেশন ও অপুর কাছে ডিভোর্সের নোটিস পাঠান। সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী নোটিস পাওয়ার পর উভয়পক্ষকে তিনবার সমঝোতা বৈঠকে ডাকা হবে। সেই হিসেবে গতকাল ছিল প্রথম বৈঠক। দুপুর ১টার পর অপু বৈঠকে যোগ দিলেও শাকিব আসেননি। তিনি এখন ব্যাংককে ছবির শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। বৈঠকে আসা অপুকে খুব একটা চিন্তিত মনে হয়নি।

তার কথাবার্তায়ও ছিল বেশ দৃঢ়তা। সিটি করপোরেশনের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসেন। বৈঠকে অপু তার বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেন, ‘আমার একটি সন্তান রয়েছে, আমি বিচ্ছেদ চাই না। শাকিব যে অভিযোগগুলো করেছে এগুলো ঠিক নয়। ওকে আমি পাচ্ছি না। ভেবেছিলাম আজ পাব, পেলাম না। ওর সঙ্গে সামনাসামনি কথা বললে সব ঠিক হয়ে যেত। এ ছাড়া এখানে যে স্বাক্ষর তা তো তার নয়। ওর জন্য আমি ধর্ম ত্যাগ করেছি। ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে। তাকে অন্যরা ভুল বুঝিয়েছে। ও সামনাসামনি হলে সব ভুলবোঝাবুঝির অবসান ঘটত।’ মুঠোফোনে শাকিব জানান, তিনি তার সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি করেন। ব্যাংককে থাকা শাকিব বলেন, আমি আর এসব নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। এসব ঝামেলায় আমার কাজের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন দিনরাত কাজ করে নির্মাতাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। কাজের মধ্যে ডুবে থেকে চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়ন করাই আমার এখন একমাত্র লক্ষ্য। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সময় আর নষ্ট করতে চাই না। বলতে গেলে এ জন্য দিনে শুটিং আর রাতে ডাবিং করছি। এভাবে চলছে আমার কাজের মধ্যে ডুবে থাকা। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। যা বলার আমার আইনজীবীই বলবেন। শাকিব খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শাকিব শালিসে আসার প্রয়োজন বোধ করছেন না। আমাদের আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে। পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।’ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো সমঝোতা করিয়ে দেওয়া, তালাক নয়। তবে এ ব্যাপারে কাউকে জোর করতে পারি না। ৯০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের ডাকা তিনবারের বৈঠকে সমঝোতা না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভোর্স হয়ে যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বৈঠক হবে।’ গত ২২ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে ডিভোর্সের নোটিস পাঠান শাকিব খান। সেখানে শাকিব ডিভোর্সের কারণ উল্লেখ করে বলেন, অপু বিশ্বাস কথিত বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ভারতে বেড়াতে গেছেন। এই সময়ে ছেলে জয়কে বাসার কাজের লোকের কাছে রেখে গেছেন। যা ছিল তার সন্তানের জন্য অনিরাপদ। প্রায় ১৪ মাস অন্তরালে থাকার পর গত বছরের ১০ এপ্রিল বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোরে এসে বিয়ে ও সন্তানের খবর জানান অপু বিশ্বাস। তিনি জানান, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল শাকিবের সঙ্গে বিয়ে হয়। কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় ছেলে আব্রাম খান জয়ের। এ খবর প্রকাশের পর পরই অপুর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন শাকিব। তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। অপু বলেন, শাকিবের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তার অনুরোধে বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন রাখেন তিনি। বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর নিকেতনে মায়ের সঙ্গে থাকছেন অপু। আর শাকিব থাকেন বাবা-মার সঙ্গে গুলশানের বাসায়। ২০০৬ সালে এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে অপু বিশ্বাস শাকিবের সঙ্গে প্রথম বড় পর্দায় জুটি বাঁধেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই জুটি অর্ধশতেরও বেশি জনপ্রিয় ছবি দর্শকদের উপহার দেন।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত