প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের চার বছর পূর্তি
সাফল্যে সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগ

ডেস্ক রিপোর্ট :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার অর্থনীতি, অবকাঠামো, কূটনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের উল্লেখযাগ্য অগ্রগতি অর্জনের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছর পার করে পঞ্চম ও শেষ বছরে পদার্পণ করেছে। চার বছর পূর্তির সরকারের সাফল্যে সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগ। কিছু ভুল-ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও সাফল্যের পাল্লা ভারী হওয়ায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিকল্প না খুঁজে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিতে ভোট দেবে বলে দলের নেতারা আত্মবিশ্বাসী।  খবর ইনকিলাব’র।

দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছর পার করে শেষ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে আজ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। ভাষণে তিনি জনগণের কল্যাণে তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পদক্ষেপ তুলে ধরে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আবারও দেশ শাসনে আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনগণের কল্যাণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাফল্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা মার্কার প্রতি দেশবাসী আবারও আস্থা রাখবে বলে খোদ সরকার প্রধানও আত্মবিশ্বাসী। দল হিসেবেও আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে আগামী নির্বাচনে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতায় আসবে তাদের নেতৃত্বেই জাতি উদযাপন করবে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী। ২০২১ সালে বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতার বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী। আওয়ামী লীগের বিশ্বাস স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী এ দলটি পূণরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে। এছাড়া বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীও ২০২০ সালে। তাই টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে এ মহান নেতাও জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও আগামীতে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যেতে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের কথা বিভিন্ন সময় বলে আসছেন।

গত ১০ জানুয়ারি বুধবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজকের দিনে জাতির পিতার প্রতি আমরা সেই ওয়াদা দিচ্ছি, কথা দিলাম– বাংলাদেশকে তার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। একই সঙ্গে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করবো। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্ব দরবারে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। সেই দেশ আমরা গঠন করবো, সেই ওয়াদা জাতির পিতার কাছে। এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দলীয় সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্ব ও সাফল্য বর্তমান সরকারের বিগত গত চার বছরে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই সময়ে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত মিয়ানমারের কয়েক লাখ নির্যাতিত অসহায় রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা মানবতা ও শান্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এজন্য আন্তর্জাতিক মহল তাকে ‘মাদার অফ হিউমিনিটি’ অভিধায় ভূষিত করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব সম্বলিত যে ভাষণ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তা ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।

সরকারের চারবছর পূর্তি শেষে আগামী নির্বাচনে নিজেদের বিজয়ের বিষয়ে আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জনগনের আস্থার ওপর ভিত্তি করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা ও দৃঢ়তার ওপর জনগণের যে আস্থা তৈরি হয়েছে তা আওয়ামী লীগের বিরাট সম্পদ। তিনি বিশ্বের সৎ ও পরিশ্রমী সরকার প্রধানদের মধ্যে অন্যতম। এটা আমাদের একটি বড় অর্জন।

ইনকিলাব’র প্রতিবেদনে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তার বর্তমান অবস্থা জেনে গেছে। তারা জেনে গেছে যে জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার জন্য তাদের কাছে ভাল কোনো উদাহরণ নেই। নির্বাচনের আগেই সারা দেশের আওয়ামী লীগের জোয়ার দেখে বিএনপি বুঝে গেছে যে আগামী নির্বাচনে তাদের পরিণতি কী। বর্তমান সরকারের যে উন্নয়ন ও অর্জন রয়েছে তা দেশে-বিদেশে সমাদৃত। সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডায়নামিক নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে।

শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত চারবছরে আগের সরকারের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের। দেশ আর্থ-সামাজিক সূচকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যাশাজনক সাফল্য অর্জন করেছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০১৮ সাল হবে আওয়ামী লীগের জন্য নির্বাচনের বছর। এবছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে জনগণ আবারো ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। দেশের মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের ৯ বছরের উন্নয়ন দেখেছে। তাই আর জনগণ আগুন সন্ত্রাসীদের বিপক্ষে উন্নয়নের বাহক আওয়ামী লীগকেই ভোট দিবে।

বর্তমান সরকারের আমলে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৩২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং রফতানির পরিমাণ ৩৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১০ ডলার। দারিদ্র্য হার ৫৭ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ। মানুষের গড় আয়ুও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর।

বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্য পূরণের সুবাদে দেশের ১৬২ মিলিয়ন জনসংখ্যা একটি ডিজিটালাইজড জ্ঞানভিত্তিক সমাজে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই মেয়াদে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূীচর (এডিপি) আকার ও ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দেশের সক্ষমতা বেড়েছে।

দেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা মিটিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। দেশের টেলিকম খাতেও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০১৭ সালে নভেম্বরে দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ১০৬ মিলিয়ন। এসময় মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ১৬৬ মিলিয়ন। দেশের ৮৩ শতাংশের বেশি লোক এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার মেগাওয়াটে। জেন্ডার সক্ষমতায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। ২০১৬-তে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম।
আলোচিত পদ্মা সেতু, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রো রেল, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মাসেতু রেল লিংক এবং দোহাজারি-কক্সবাজার-গুনদুম রেল লাইনের মতো মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগকে আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন করবে বলেই দলটির বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প পদ্মাসেতু প্রকল্প। দেশের বৃহত্তম এই অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ বর্তমানে দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গত ৪ জানুয়ারি ফেনী জেলার মহিপালে এই ফ্লাইওভার উদ্বোধনও করেন।

দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক’ প্রধানমন্ত্রী ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেছেন। মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) সুমিতোমোর নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তথা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গরীব দুঃখী মানুষের কল্যাণে কাজ করে। যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে, তখনই দেশের মানুষের উন্নয়ন হয়। কোন মানুষ না খেয়ে মারা যায় না। শীতবস্ত্রের অভাবে কেউ মারা যায় না। অন্যদিকে বিএনপি ক্ষমতায় মানে দেশের অর্থলুটপাট করে বিদেশে পাচার করে। নিজেদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়। দেশ উন্নত হয়। বিশ্বের বুকে মর্যাদা বাড়ে। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি শামীম বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও আওয়ামী লীগকে জনগণ ক্ষমতায় আনবে। কারণ জনগণ খুব ভাল করেই জানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হবে। দেশে বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। বিধবারা ভাতা পায়, মুক্তিযোদ্ধারা বিশেষ মর্যাদা পায়, ভাতা পায়। অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা পায়। জানুয়ারির ১ তারিখে বিনামুল্যে শিক্ষার্থীরা বই পায়। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাই দেশবাসী আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনবে। অন্যদিকে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশ পিছিয়ে যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত