প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন বছরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ভূট্টা রপ্তানী করতে পারবে বাংলাদেশ

মতিনুজ্জামান মিটু : বর্তমানের ধারায় চাষের জমি ও উৎপাদন বাড়লে আগামী ৩ বছরে ঘাটতি মিটিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ভুট্টা রপ্তানী করতে পারবে বাংলাদেশ। এমনই আশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আমিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, দেশে পোল্ট্রি শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে ভূট্টার চাহিদা। বর্তমানে দেশের ৪দশমিক ৪০ লাখ হেক্টর জমিতে ভূট্টার চাষ হচ্ছে। এতে বছরে উৎপাদন ৩১ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানের চাহিদায় দরকার ৪১ লাখ মেট্রিক টন ভুট্টা। আর এজন্য দরকার ৫দশমিক ৫ লাখ হেক্টর জমি। সরকার বোরো ধানের আবাদ কমিয়ে ভূট্টা ও গমসহ তুলনামূলক কম পানির ফসল চাষে উৎসাহি। এতে ভূট্টা চাষের জমি বাড়ছে। সেই সঙ্গে তাপ এবং খরা সহিষ্ণু নতুন নতুন হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনেও বাড়ছে ভূট্টার ফলন।

বারি’র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ থেকে এ যাবত ১৩টি হাইব্রিড ভুট্টা এবং ৯টি মুক্ত পরাগায়িত ভুট্টার জাত অবমুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে একটি খৈ ভুট্টা, একটি মিষ্টি ভুট্টা ও একটি বেবী ভুট্টার জাতও রয়েছে। অবমুক্তি পাওয়া ভূট্টার মধ্যে বারি হাইব্রিড ১৪ ও বারি হাইব্রিড ১৫ তাপসহনশীল। এছাড়া উদ্ভাবনের পর্যায়ে রয়েছে খাটো জাতের বারি ভূট্টা। আমরা আশা করছি এটি বারি ভূট্টা ১৬ নামে পরিচিতি পাবে। এটির ফলন অন্যান্য জাতের চেয়ে ( হেক্টরে ১১ থেকে সাড়ে ১১ মেট্রিক টন ) বেশি হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলায় আর্ন্তজাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র (সিআইএমএমওয়াইটি)’র সহযোগিতায় অধিক তাপ সহিষ্ণু ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু ভুট্টার জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। এছাড়া কম পানি গ্রহণকারী খরা সহিষ্ণু উৎকৃষ্ট প্রোটিন সমৃদ্ধ সাদা দানার হাইব্রিড ভুট্টা অবমুক্ত হতে চলেছে। উচ্চ গুণমানসম্পন্ন অধিক ফলনশীল বেশ কিছু খৈ ভুট্টা ও বেবি কর্ণের হাইব্রিড জাত অবমুক্তির অপেক্ষায় আছে।

বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ভূট্টা পোল্ট্রি শিল্পে ৮৫ ভাগ, মাছের খাবার হিসেবে ১০ ভাগ এবং মানুষ ও পশুর খাবার হিসেবে ৫ ভাগ ব্যবহার হয়ে থাকে। বাড়তি চাহিদার ভূট্টা বিদেশ থেকেই আমদানী হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত