প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই অর্জন চাইলে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা থাকতে হবে : ড. মোস্তাফিজ
১৩ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৮তম বড় অর্থনীতি

বিশ্বজিৎ দত্ত : যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশÑ পাল্টে যাচ্ছে বিশ্বের অর্থনৈতিক বিনিয়োগের ধ্যান-ধারণা আর চিত্রপট। ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আর থাকবে না বিশ্বের এক নম্বর বড় অর্থনীতির দেশ, আবার বাংলাদেশও চলে আসবে বিশ্বের বড় ৩২টি অর্থনৈতিক দেশের তালিকায়। যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৮ নম্বরে। মোট জিডিপির পরিমাণ হবে ১ দশমিক ৩২৪ ট্রিলিয়ন ডলারের। যুক্তরাজ্যের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারস (পিডব্লিউসি) এক গবেষণায় পরিবর্তনের এই চিত্র তুলে ধরেছে।
‘২০৫০ সাল নাগাদ কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশের তালিকায় ভারত জায়গা করে নেবে শীর্ষ তিনে। শীর্ষে থাকবে চীন, দুইয়ে আমেরিকা এবং ৩ নম্বরে ভারত।
অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগামী ৩৪ বছরে কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে গবেষণা করেছে পিডব্লিউসি। এর মধ্যে আগামী ১৩ বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি ছাপিয়ে যাবে জার্মানি, রাশিয়া আর জাপানের মতো দেশকে। তখন ভারতের ঠিক নিচেই থাকবে জাপান। পাঁচে ইন্দোনেশিয়া, ছয়ে রাশিয়া এবং তারপরই জার্মানি। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো ক্রমশ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কাছে তখন স্থানচ্যুতি ঘটবে জাপান, রাশিয়ার মতো দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রে থাকা দেশগুলোর।
বাংলাদেশকে এই আগামী ১৩ বছরের মধ্যে এই স্থানে যেতে হলে কী ব্যবস্থা নিতে হবে এ সম্পর্কে সিপিডির ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রথমে বাংলাদেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়ত. মানসম্পন্ন শিক্ষা, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ দূর করতে হবে। তা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজার দুটোতেই প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা সহজ করতে হবে। এই কাজগুলো সম্পন্ন হলে তবেই বাংলাদেশ আগামীতে বড় অর্থনীতির দেশ হতে পারবে।
অন্যদিকে বিশ্বের তৃতীয় বড় অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠতে এরই মধ্যে ২০২২-এর মধ্যে দেশের ভোলবদল ঘটাতে নয়া নীতি গ্রহণ করেছে ভারত। এই বিষয়ে একটি খসড়াও তৈরি হয়ে গেছে। নীতি আয়োগ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের চেয়ারম্যান রাজীব কুমার তার টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, ২০৪৭-এ ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্তির ১০০ বছর পূর্ণ করবে ভারত। এর আগেই ভারতকে বিশ্বের সেরা তিন দেশের তালিকায় তুলে আনতে বদ্ধপরিকর সরকার। মোদি সরকারকে উদ্ধৃত করে রাজীব জানিয়েছেন, ‘টেনশন-মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা হবে।’ ‘নিউ ইন্ডিয়া ভিশন ২০২২’-এর খসড়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে দাবি করা হয়েছে, ‘ভারতের আর্থিক কাঠামোকে ঢেলে সাজাতে বিগত একশো বছরে এরকম সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস আর কারও হয়নি।’
গবেষণায় মোট দেশীয় উৎপাদন বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৩২টি দেশের অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ৩২টি দেশের অর্থনীতি বিশ্বে মোট জিডিপির ৮৫ শতাংশের জোগান দেয়।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সূত্রে জানা গেছে, ২০৩০ সালে চীনের মোট অর্থনীতির ক্রয়ক্ষমতা সমতার (পিপিপি) মূল্য হবে ৩৮ দশমিক ০০৮ ট্রিলিয়ন ডলার। আমেরিকার ২৩ দশমিক ৪৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারতের পিপিপি হবে ১৯ দশমিক ৫১১ ট্রিলিয়ন ডলার। সম্পাদনা : হাসিবুল ফারুক চৌধুরী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ