শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২২, ১১:৫৪ দুপুর
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২, ০২:৩৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সবধরনের আয়োজন করে

জলপাইগুড়িতে অসহায় বাবার মেয়েকে বিয়ে দিল পুলিশ

রাশিদুল ইসলাম : [২] মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন বাবা। পাশে দাঁড়াল মানবিক পুলিশ। প্রীতিভোজ থেকে কন্যাদান সবকিছুর আয়োজন হল জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট থানার আইসি এবং তার টিমের নেতৃত্বে। পুলিশের এহেন উদারতা দেখে আপ্লুত ডুয়ার্সের বাসিন্দারা। দি প্রিন্ট

[৪] গয়েরকাটা এলাকার বাসিন্দা দিলীপ ভাওয়াল। পেশায় তিনি একজন দিন মজুর। বৃদ্ধ বয়সে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তেমনভাবে কোনও কাজ করতে পারছিলেন না। কোনও মতে ১০০ দিনের কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে ১০০ দিনের টাকাও পাচ্ছিলেন না। এমন নিদারুন আর্থিক সংকটের মধ্যেই তার মেয়ে স্মৃতিকা ভাওয়ালের বিয়ে ঠিক হয় জলপাইগুড়ির শান্তিপাড়া এলাকার বাসিন্দা পেশায় বেসরকারি সংস্থার কর্মী কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে।

[৫] ভাল পাত্র পেয়ে মেয়ের বিয়ে তো ঠিক করে ফেলেন দিলীপ বাবু, কিন্তু বিয়ে দেওয়ার টাকা কোথায়। পাড়া-প্রতিবেশীরাও দুশ্চিন্তা শুরু করেন এই নিয়ে। তাঁরাই বিষয়টি নিয়ে দারস্থ হন বানারহাট থানার ট্রাফিক গার্ডের অফিসে। সবকিছু শোনার পর ট্রাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে থানার আইসি শান্তনু সরকারকে সব জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, পুলিশই বিয়ের ব্যবস্থা করবে। 

[৬] এর পরেই শুরু হয় আয়োজন। ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনও খামতি না হয়, সে জন্য আইসি শান্তনু সরকার তার ট্রাফিক থানার অন্যান্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে দেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে নির্দিষ্ট লগ্নে দিলীপ বাবুর বাড়িতে উপস্থিত হন শান্তনু সরকার। কৃষ্ণ ও স্মৃতিকার চার হাত এক করে দিয়ে কন্যাদান করেন তিনিই।

[৭] বিয়ের পরে ছিল প্রীতিভোজের ব্যবস্থাও। নিমন্ত্রিত ছিলেন এলাকার মানুষ। বিয়ে দেখে, খাওয়াদাওয়া সেরে, পুলিশকে ধন্যবাদ দিয়ে বাড়ি ফেরেন এলাকাবাসীরা। আই সি শান্তনু সরকার জানান, মূলত আমাদের ট্রাফিক পুলিশ এই সুন্দর উদ্যোগটি নিয়েছে। ওরাই আমাকে বিষয়টি জানান। এর পর আমার পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব স্মৃতিকার বিয়েতে সাহায্য করেছি। কন্যা সম্প্রদানও করি। এভাবেই মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়াক, এটাই চাই। ওরা দু’জনে সুখে সংসার করুক।

[৮] মেয়ের বিয়ে সারার পরে দিলীপ ভাওয়াল জানান, পুলিশকে আমার দেবদূত মনেহচ্ছে। এদের সাহায্য ছাড়া আমি মেয়ের বিয়ে দিতে পারতাম না। কারণ আমার প্রতিদিনের কোনও কাজ নেই। ১০০ দিনের কাজ করে যা কামাই করি তাতে সংসার টানাই দায়। মেয়ের বিয়ে ঠিক হলেও কিছুতেই যখন বিয়ের আয়োজন করতে পারছিলাম না তখন এগিয়ে আসে পুলিশ ও এলাকাবাসী। ওদের অনেক ধন্যবাদ।

[৯] বিয়ের পিঁড়িতে বসে স্মৃতিকা জানান, আমার বিয়ের আয়োজন না করতে না পারার জন্য বাবাকে কাঁদতেও দেখেছি। এখন বিয়ে হয়ে গেল পুলিশের জন্য। লোকে পুলিশের অনেক বদনাম করে। কিন্তু আমার মনে বানারহাট পুলিশকে নিয়ে অন্য ধারণা তৈরি হল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়