শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০২২, ১২:২৫ দুপুর
আপডেট : ০৪ মে, ২০২২, ১২:২৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সঙ্গীহীন পেলিকান পাখির নিঃসঙ্গ ৩০ বছর

সাজিয়া আক্তার: দীর্ঘ ৩০ বছর আগে সঙ্গীকে হারিয়ে এখন রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানায় নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছে পরিযায়ী পাখি পেলিকান পাখিটি। প্রথম আলো

১৯৯১ সালের শীতকালের ওই বছর নওগাঁর একটি বিলে পেলিকান পাখি লক্ষ করে গুলি ছোড়ে শিকারিরা। একটি পেলিকানের শরীরে গুলি লাগে। আরেকটি শিকারিদের হাতে ধরা পড়ে। গুলিতে আহত স্ত্রী পেলিকানকে শিকারিরা খেয়ে ফেলেন। তবে, সচেতন মানুষ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সহায়তায় পুরুষ পেলিকানটিকে শিকারিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

পরে পুরুষ পেলিকানটিকে রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর চিড়িয়াখানার খাঁচায় একাকী তিন দশক কেটে গেছে পাখিটির। মুক্ত পাখি বন্দী হয় খাঁচায়। আর ওড়া হয়নি আকাশে। ইংলিশ চ্যানেল, ভরা দামোদর কিংবা উত্তপ্ত মরু পাড়ি দিয়ে ফেরা হয়নি শীতপ্রধান দেশে। দেখা হয়নি প্রিয় সঙ্গীর, আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, পেলিকানটির বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩৬ থেকে ৩৭ বছর। পাখিটি যেন তার দেশে বা স্বজাতির কাছে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য বেশ কয়েক বছর আগে একবার ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর খাঁচায় বন্দী থাকায় পাখিটি আর আগের মতো উড়তে পারেনি। অল্প একটু দূরে যেতে চিড়িয়াখানার পাশের একটি রাস্তায় পড়ে যায়। পরে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তাকে আবার নিয়ে আসে। পাখিটি লোকালয়ে পড়লে মানুষ ক্ষতি করতে পারে, তাই আর পাখিটিকে ছাড়ার উদ্যোগ নেয়নি তাঁরা।

পাখিটির বিষয়ে কথা হয় চিড়িয়াখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাখিটিকে ছেড়ে দেওয়ার পরও যখন যেতে পারল না, তখন একটি সঙ্গী দেওয়ার জন্য ঢাকা চিড়িয়াখানা ও কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে যোগাযোগ করি। কিন্তু একটি স্ত্রী পেলিকান পেতে আমরা ব্যর্থ হই।’

পেলিকান পাখি মারা গেলে সঙ্গী ঘুরেফিরে তার কাছে আসে। কারণ ব্যাখ্যা করে শরীফ খান বলেন, ‘তারা মৃত্যু বুঝে না। মনে করে, এ বেঁচে আছে। ঠোকাঠুকি করে বলে যে এই ওঠো, যাবো। এই ফাঁকে শিকারিরা আবার আক্রমণের সুযোগ পায়।’

 

  • সর্বশেষ