স্পোর্টস ডেস্ক : এই সময়ে ভালো কাটছে না যুক্তরাস্ট্রের আবহাওয়া। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম আর গ্রীষ্মকালীন বজ্রঝড় ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ছন্দপতন হতে পারে বলে চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আবহাওয়ার কারণে খেলা বন্ধ হওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি ঘটনা হলেও, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দেওয়া ফিফার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই বজ্রপাতের বিষয়ে ফিফার নিজস্ব কোনো একক নিয়ম নেই। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাকে পুরোপুরি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে মূলত ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়, যার নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামের প্রায় ১৩ কিলোমিটার বা ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই খেলা বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করতে হবে।
আবহাওয়ার কারণে খেলা স্থগিত হলে ম্যাচ পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণার আগে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, তারও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ফিফার হাতে নেই। অতীতে মেজর লিগ সকারের একটি ম্যাচ বজ্রপাতের কারণে সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ থাকার নজির রয়েছে। নকআউট পর্ব বা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রে একই সময়ে খেলা আয়োজনের যে বাধ্যবাধকতা থাকে, সেখানে একটি ম্যাচ ঝড়ের কবলে পড়লে পুরো সূচিই এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।
তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে কোনো ম্যাচ শেষ করা না গেলে তা পরবর্তী তারিখে পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং খেলাটি ঠিক যে মিনিটে বন্ধ হয়েছিল, পরের দিন সেখান থেকেই বাকি সময়ের খেলা শুরু হবে।
এবার বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, মায়ামি, নিউ জার্সি এবং মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি ও মনটেইরে শহর বজ্রঝড়ের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অবশ্য আটলান্টা, ডালাস ও হিউস্টনের স্টেডিয়ামে ছাদ থাকায় ঝড়ের প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে। তবে স্টেডিয়ামের আকাশে রোদ থাকলেও কাছাকাছি কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপেও তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে খেলা হয়েছিল কিন্তু তখন কোনো ম্যাচ বন্ধ হয়নি। তবে ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাতাস এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ ও আর্দ্র, যা যুক্তরাষ্ট্রে আরও ভয়াবহ বজ্রঝড় এবং ঘন ঘন বজ্রপাতের জন্ম দিচ্ছে।
একই সাথে বর্তমানে বজ্রপাত শনাক্তকরণের প্রযুক্তি এখন অনেক আধুনিক হওয়ায় খালি চোখে বজ্রপাত দেখার আগেই আধুনিক যন্ত্রে তা নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে। ফলে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তার স্বার্থে 'যখনই মেঘ ডাকবে, ঘরের ভেতরে চলে যাও' নীতি কঠোরভাবে মানা হবে, যা বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।