শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২২, ১০:৫৮ দুপুর
আপডেট : ১৭ মে, ২০২২, ১০:৫৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস আজ

নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে উচ্চ রক্তচাপের রোগী বেশি

উচ্চ রক্তচাপ

হেল্থ ডেস্ক: বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস আজ (১৭ মে)। দিবসটিকে ঘিরে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘজীবী হোন।’ প্রতিনিয়ত বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আগে শুধু বয়স্কদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা থাকলেও এখন আক্রান্ত হচ্ছে তরুণরা। উচ্চ রক্তচাপের কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না। নীরবে উচ্চ রক্তচাপ শরীরের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ জন্যই উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা যেতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত এবং চিকিৎসাবিহীন উচ্চ রক্তচাপ থেকে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনিরোগ, পক্ষাঘাত, অন্ধত্বসহ নানাবিধ জটিল অসুখের জন্য উচ্চ রক্তচাপ একটি মারাত্মক রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের (এনসিডিসি) তথ্যমতে, অসংক্রামক রোগে বিশ্বে ৭১ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৬৭ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া দেশে প্রতি পাঁচ জনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এ অবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সবাইকে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞরা জানান, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্য সব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অকাল মৃত্যু দ্রুত কমানো সম্ভব। অথচ অর্ধেক মানুষ এ সম্পর্কে জানেই না। অসচেতনতার কারণেই উচ্চ রক্তচাপে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। আর নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে উচ্চ রক্তচাপের রোগী বেশি।

চিকিৎসকদের মতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো কৌশল হচ্ছে জীবনাচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে ও নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সবার উচিৎ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা মেনে চলা। এ কারণে, রক্তচাপ নিয়মিত পরিমাপ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হলো হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনিরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এনসিডি কান্ট্রি প্রোফাইল ২০১৮ অনুসারে, বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশের পেছনে দায়ী নানা অসংক্রামক রোগ। দিন দিন এসব রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

বিশ্বব্যাপী অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ২০১০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ ৩৩ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন দেশ। ডব্লিউএইচওর ২০১৮ সালের তথ্যমতে, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যা মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ। অন্যান্য অসংক্রামকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় মারা গেছে, যা মোট মৃত্যুর ৩০ শতাংশ। উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে অকাল মৃত্যু হয়েছে ২২ শতাংশ মানুষের।

বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে-২০১৮ অনুযায়ী ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২১ শতাংশ (নারী ২৪ দশমিক ১ শতাংশ, পুরুষ ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ) উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তার মধ্যে শহরের ২৫ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ এবং গ্রামের ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। গ্রামের ৫৪ শতাংশ ও শহরের ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে অসচেতন। এছাড়া রক্তচাপ সম্পর্কে জানলেও গ্রামের ৩২ দশমিক ৪ ও শহরের ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ অসচেতনভাবেই চলেন। আর নিয়ন্ত্রণ করে চলেন গ্রামের ১৩ দশমিক ৬ ও ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। এছাড়া দেশের ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ ও ১১ দশমিক ৭ শতাংশ নারী কখনোই উচ্চ রক্তচাপ পরিমাপ করেননি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এনসিডি কান্ট্রি প্রোফাইল ২০১৮ অনুসারে, বাংলাদেশে প্রতি বছর মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশের পেছনে দায়ী নানা অসংক্রামক রোগ। দিন দিন এসব রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ খুব সাধারণ রোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এনসিডি রিস্ক ফ্যাক্টর সার্ভে (স্টেপস ২০১৮) অনুসারে, দেশে প্রতি পাঁচ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে একজন (২১%) উচ্চ রক্তচাপে (সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশার ১৪০ মিমি মার্কারি) আক্রান্ত। এর বাইরে এখনো বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের রক্তচাপ জানেন না। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ, পক্ষাঘাত, অন্ধত্বসহ নানাবিধ জটিল অসুখের জন্য উচ্চ রক্তচাপ একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। সূত্র: জাগোনিউজ২৪, রাইজিংবিডি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়