শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০৮:৫৬ সকাল
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২২, ০৮:৫৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অনাগত সন্তানের মুখ দেখার আগেই না ফেরার দেশে ইঞ্জিনিয়ার

ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান জুয়েল

বাবুল আক্তার: এক সময়ের অভাবের সংসারে এখন সুখের বাতাস। কৃষক বাবার একমাত্র ছেলে এখন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ক্লিনিকে ভর্তি করিয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা পর সিজারিয়ানের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেবে স্ত্রী। খুব সিগগির পুত্র সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষা। কিন্তু সে অপেক্ষা আর অবসান হলো না যশোরের চৌগাছার জাহিদ হাসান জুয়েল (৪৮) এর। সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হরালো অনাগত এক সন্তানের বাবা । তার অনাগত সন্তনও পেল না বাবার আদর।

রোববার (৩ জুলাই) ভোরে যশোর-চৌগাছা সড়কের কয়ারপাড়া এলাকায় (বৃষ্টির পানিতে পিচ্ছিল রাস্তা) মোটর  সাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থকমপ্লেক্সে ভর্তি করার পরে তার মৃত্যু হয়। জাহিদ 

হাসান জুয়েল উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের মাজালি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ অস্ট্রেলিয়ার একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে তিনলক্ষাধিক টাকা বেতেনে চাকরি করতেন।

এদিকে জাহিদের মৃত্যু খবরে ভোরের নীরবতা ভেঙে সারা বাড়িতে কান্নার শব্দ। স্বামীর দূর্ঘটনার খবরে সন্তান সম্ভাবা স্ত্রী মিতা ক্লিনিকের বেডে বাক রুদ্ধ। জাহিদের স্বজনদের বাঁধভাঙা কান্নায় গ্রামের বাতাস তখন ভারী হয়ে উঠছে।

আলাপকালে নিহত জাহিদের স্ত্রীর ভাই ইমারত বলেন, জাহিদ একটি বিদেশি সফটওয়্যার কোম্পানীতে চাকরি করত। প্রায় ৩ লাখ টাকা বেতন ছিল তার। ঈদুল আযাহার পরে অন্য একটি কোম্পানীতে আরো বেশি টাকা বেতনে যোগদান করার কথা ছিলো তার। অনাগত ছেলে সন্তানের আকিকা করার জন্য দুটি ছাগল কিনেছেন। প্রসবের যন্ত্রণায় বোন মিতা সারা রাত কষ্ট ভোগ করেছে। সে কারণে করো ঘুম হয়নি রাতে। ভোরে স্ত্রী মিতাকে ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিল প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য। এর পরেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ইমারত!

জাহিদের পিতা ও মাতা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বৌমা সন্তানসম্ভবা। আজ অথবা কাল সন্তান জন্ম দেবে। তার বাচ্চা হবে। এখন তার স্ত্রী এবং ওই অনাগত সন্তনের কী হবে। সন্তনের মুখটাও সে দেখে যেতে পারল না।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ইসরাত নাজনীন জানান, তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা দিয়ে যশোরে রেফার্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলাম। কিন্তু যশোরে পাঠানো আগেই তার মৃত্যু হয়।

চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, নিহতের পরিবারের আবেদনেরর প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ