বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন হয়ে কাউকে হাসপাতালের সামনে ভিড় না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ৫৫-তম বিজয় দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে এই অনুরোধ জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার (২৩ নভেম্বর) বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্ব তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যাচ্ছেন। বিএনপির অনেকে নেতাকর্মীও হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন।
তবে হাসপাতালে গিয়ে ভিড় সৃষ্টি না করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম জিয়ার অসুস্থতার খবরে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত বিব্রত বোধ করছেন। তাদের সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। আমি সকলের প্রতি অনুরোধ জানাতে চাই যে, আপনারা কেউ হাসপাতালে ভিড় করবেন না।’
বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আপডেট সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেই তার পরিবারের তাকে লন্ডনে নেয়ার পরিকল্পনা আছে। সেই লক্ষ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।
মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও, তর চিকিৎসা মূলত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।’
তিনি লেখেন, ‘অনেকেই হয়তো জানেন না, ম্যাডামের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে, দেশ-বিদেশে সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব পালন করছেন ডা. জুবাইদা রহমান। আর সেখান থেকেই মমতাময়ী মায়ের চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না ঘটে, তার জন্য তারেক রহমান সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অটল দৃঢ়তা নিয়ে, প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি ও পরিচালনা করছেন।’
তিনি আরও লিখেন, আমরা যতটুকু শুনেছি, দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত আপসহীন নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে, তাকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার। এই বছরেই লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী। সেই লক্ষ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।